প্রকাশিত: ২ ঘন্টা আগে, ০১:০৭ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

জাকির কমিশন ও সচিব কমিটির সুপারিশ বনাম জিয়া মডেলে ৯ম জাতীয় বেতন কাঠামো

মোহাম্মদ আহসানুল করিম:

[বাস্তবায়ন-ব্যয় প্রায় সাড়ে ১৩ হাজার কোটি টাকা কম এবং প্রবৃদ্ধি-রাজস্ব হারও বেশী হওয়ায় জাকির কমিশন থেকে সচিব কমিটির সুপারিশই সরকার গ্রহণ করবে। তবে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দল বিএনপি এখন সরকার এবং তাঁর সন্তান তারেক রহমান এখন প্রধানমন্ত্রী। তাই জাতীয় ও দলীয় স্বার্থে জিয়া মডেলে ৯ম জাতীয় বেতন কাঠামো চালুর বিষয়টি মূল্যায়ণ ও বিবেচনায় নেওয়া জরুরী। তাহলে তারেক-সরকারের ২ মেয়াদ ক্ষমতাসীন থাকায় সহায়ক হবে।]

 সেবক, উৎপাদক ও ভোগ্তা হিসেবে জাতীয় বেতন কাঠামোর আওতায় সরকারী-বেসরকারী সংস্থায় বর্তমানে প্রায় ২৭ লক্ষ কর্মরতগণ ও অবসরপ্রাপ্তগণ দেশজ অর্থনীতিতেও ক্রিয়াশীল। জাতীয় আয়বন্টন ও জাতীয় আয়ের সামঞ্জসে জাতীয় বেতন কাঠামো সুষমমুখী থাকলে এ সকল সংস্থা দায়িত্ব-কর্মশীল থাকে। এজন্যে সরকার ও প্রশাসনিক সংস্কার কমিশণের কাছে আমার একটা প্রস্তাবনা ছিল, জাতীয় আয়বন্টন ও জাতীয় আয়ের সামঞ্জসে সুষমমুখী জাতীয় বেতন কাঠামো চালু করা।
সামন্ত, ধনতন্ত্র বা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় জাতীয় আয় বন্টণের সর্বোচ্চ-সর্বনিম্ন আয়-গ্রেডের সুষমমুখী অনুপাত হলো প্রায় ৬৪:১, ৪৮:১ বা ৩২:১। সামন্তব্যবস্থার সর্বোচ্চ-সর্বনিম্ন আয়-গ্রেড ৬৪:১ অনুপাতের সামঞ্জসে সরকারী সংস্থায় ১ম থেকে ৪র্থ শ্রেণীর বিভিন্ন গ্রেডে কর্মরতদের জন্যে গ্রেটবৃটেনের আদলে বৃটিশবঙ্গে প্রায় ৩২:১ অনুপাত ভিত্তিক প্রাদেশিক বেতন কাঠামো চালু করা হয়। মূল্যস্ফীতি ও জাতীয় আয় বৃদ্ধিতে দশকান্তে এ বেতন কাঠামোর বেতন-ভাতা সংশোধন করা হয়।
বঙ্গভাগ (১৯৪৭), গণতান্ত্রিক ভূমি-সংস্কার (১৯৫০) ও সুষম-গণতান্ত্রিক মুসলিম উত্তরাধিকার বিধানে বাংলাদেশাঞ্চলের অর্থনীতি দ্রুত গণতান্ত্রিক রূপ পায়। জাতীয় আয়ের সামঞ্জসে বেতন-ভাতা সংশোধন ছাড়া পাকিস্তানামলে সর্বোচ্চ-সর্বনিম্ন বেতন-অনুপাতের গণতান্ত্রিক সংস্কার করা হয়নি। এজন্যে সর্বশেষ প্রাদেশিক বেতন কাঠামোর (১৯৬৩) সর্বোচ্চ (টাঃ২০০০) ও সর্বনিম্ন(টাঃ৬৫) অনুপাত ছিল প্রায় ৩১:১।
 
স্বাধীনতোত্তর জাতীয় বেতন কাঠামোর স্বরূপ
সুষম-গণতান্ত্রিক অর্থনীতির সর্বোচ্চ-সর্বনিম্ন আয়-অনুপাতের (১:৩২) সামঞ্জসে জাতীয় বেতন কাঠামোর সুষমমুখী সর্বোচ্চ-সর্বনিম্ন বেতন-অনুপাত হলো ১:১৬। ১৯৭৩-এ সর্বোচ্চ-সর্বনিম্ন ১৫.৪:১ বেতন-অনুপাত ও জাতীয় আয়ের সামঞ্জসে ১০টি স্কেল ভিত্তিক ১ম জাতীয় বেতন কাঠামোটি চালু করা হয়। চলমান বেতন ও সার্ভিস কাঠামো ধারণ না করায় তা পূর্ণ বাস্তবায়িত হয়নি।
তবে চলমান বেতন ও সার্ভিস কাঠামো ধারণ করায় ১৯৭৭-এ চালুকৃত ২০টি স্কেল ভিত্তিক ২য় জাতীয় বেতন কাঠামোটি (জিয়া মডেল) পূর্ণ বাস্তবায়িত হয়। তবে জাতীয় আয়ের সাথে নিম্নতয় বেতন-ভাতা সামঞ্জস করা হলেও সুষম গণতন্ত্রমুখী আয়বন্টনের সামঞ্জসে ২য় জাতীয় বেতন কাঠামোর সর্বোচ্চ-সর্বনিম্ন বেতন-অনুপাত ১৬:১ সংরক্ষণ করা হয়নি।
মানবিক ভেবে সুষম-গণতন্ত্রমুখী জাতীয় আয় বন্টণের পরিপন্থীতে ২য় থেকে ৮ম জাতীয় বেতন কাঠামোর সর্বোচ্চ-সর্বনিম্ন অনুপাত ১৩.৩:১, ১২.০:১, ১১.১:১, ১০.০:১, ৯.৬:১, ৯.৮:১:১ ও ৯.৫:১ করা হয়৷ এতে জিডিপির প্রবৃদ্ধির উপর জাতীয় বেতন কাঠামোগুলোর প্রভাব দাঁড়ায় যথাক্রমে প্রায় (+)১.৪%, (+)০.৬%, (-)০.১%, (-)০.৬%, (-)১.১%, (-)০.৯% ও (-)১.২%। সর্বোচ্চ-সর্বনিম্ন বেতন-অনুপাত ক্রমশঃ হ্রাস পাওয়ায় জিডিপি প্রবৃদ্ধির হারও ক্রমশঃ ২.৬% হ্রাস পায় এবং রাষ্ট্রব্যবস্থায় দূর্ণীতি ক্রমে বৃদ্ধি পায়।
 
জাকির কমিশণ ও সচিব কমিটির সুপারিশঃ
জনপ্রতি মাসিক জিডিপি ২,৫৫৮/-, ৪,০১৫/- ও ৮,০০০/- টাকার বিপরীতে ৬ষ্ঠ, ৭ম ও ৮ম জাতীয় বেতন কাঠামোর সর্বনিম্ন বেতন যথাক্রমে ২,৪০০/-, ৪,১০০/- ও ৮,২৫০/- টাকা করা হয় যা প্রাধিকারের চেয়ে বেশী ছিল। ১লা জুলাই, ২০২৬-এ জনপ্রতি মাসিক জিডিপি প্রায় ৩১,৩১৪/- টাকা দাঁড়ায়। বাজার অর্থনীতি, নারীশ্রমের অংশীদারীত্ব, মুজুরী স্কেল ও সুষম-গণতন্ত্রমুখী জাতীয় আয় বন্টণের ভিত্তিতে সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতনের প্রাধিকার প্রায় ২১,৭৪৬/- টাকা ও ৩,৪৭,৯৩৬/- টাকা দাঁড়ায়।
জাকির কমিশণের সুপারিশে সর্বনিম্ন বেতন ২০,০০০/-টাকা করা হয়। নবীণদের গড়ে ১০৫%-এর বেশী ও প্রবীণদের ২০%-এর কম বাড়ায় এ মডেল চালুতে বেতন-ভাতাখাতে ব্যয় প্রায় ৬৩% বাড়বে। সর্বোচ্চ-সর্বনিম্ন অনুপাত ১৫.৮% হ্রাস হওয়ায় জিডিপির প্রবৃদ্ধির হার প্রায় (-) ১.১% হ্রাস পাবে। বেতন ও ভাতাসমূহ ২ অর্থবছরে দেয়া হলে ৫ অর্থবছরে জিডিপির প্রবৃদ্ধি হার প্রায় ৬.৯%, ৬.৭%, ৬.২%, ৫.৭%, ও ৫.২% এবং রাজস্ব আয় জিডিপির প্রায় ৯.০%,৯.৩%, ৯.৫%, ৯.৬% ও ৯.৭% হতে পারে।
সচিব কমিটির সুপারিশে সর্বনিম্ন বেতন ১৬,৫০০/-টাকা নির্ধারণ করা হয় যা প্রাধিকার থেকে ২৪.১% কম। স্কেলে নবীণদের গড়ে ৯০%-এর বেশী ও প্রবীণদেব ২০%- এর কম বাড়ায় এ মডেল বাস্তবায়ণে বেতন-ভাতাখাতে ব্যয় প্রায় ৫৫% বৃদ্ধি পাবে। বেতন ও ভাতা ২ বছরে দেয়া হলে ৫ অর্থবছরে জিডিপির প্রবৃদ্ধি হার প্রায় ৭.২%, ৭.৫%, ৭.০%, ৬.৫% ও ৫.৭% এবং রাজস্ব আয়ের হার প্রায় ৯.০%,৯.৩%, ৯.৬%, ৯.৯% ও ১০.২% হতে পারে।
জাকির কমিশন থেকে সচিব কমিটির সুপারিশে বেতন-ভাতাখাতে ব্যয় ১২.৭% কম হলেও জিডিপির প্রবৃদ্ধি-রাজস্ব আয় বেশী হবে। জাকির কমিশনের ১৫.৮% হ্রাসের বিপরীতে সচিব কমিটির সুপারিশে সর্বোচ্চ-সর্বনিম্ন বেতন-অনুপাত হ্রাস না করা এর কারণ। তবে জাতীয় বেতন কাঠামোর প্রভাব কেবল অর্থনৈতিক নয়। তাই বেতন-ভাতাখাতে ব্যয় কমায় অন্যান্য ক্ষেত্রে সেবা কমবে। তাছাড়া, প্রাধিকার থেকে ন্যুনত ২৪% হ্রাস হওয়ায় সচিব কমিটির সুপারিশ চালুতে ক্ষোভ-বিক্ষোভ হতে পারে।
বাস্তবায়ণ-ব্যয় প্রায় সাড়ে ১৩ হাজার কোটি টাকা কম এবং প্রবৃদ্ধি-রাজস্ব হারও বেশী হওয়ায় জাকির কমিশন থেকে সচিব কমিটির সুপারিশই সরকার গ্রহণ করবে। তবে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দল বিএনপি এখন সরকার এবং তাঁর সন্তান তারেক রহমান এখন প্রধানমন্ত্রী। তাই জাতীয় ও দলীয় স্বার্থে জিয়া মডেলে ৯ম জাতীয় বেতন কাঠামো চালুর বিষয়টি মূল্যায়ণ ও বিবেচনায় নেওয়া জরুরী। তাহলে তারেক-সরকারের ২ মেয়াদ ক্ষমতাসীন থাকায় সহায়ক হবে।
 
জিয়া মডেলের ৯ম জাতীয় বেতন কাঠামোঃ
১৯৭২-৮২ কালে বাংলাদেশের বাজার অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির সক্ষমতা মাত্র ০.৯% ছিল। তাসত্ত্বে ২য় জাতীয় বেতন কাঠামোর সর্বোচ্চ-সর্বনিম্ন অনুপাত ১৩.৩:১ এবং একবারে প্রায় ৬২% বেতন-ভাতাখাতে ব্যয় বাড়ায় ১৯৭৭/৭৮ অর্থবছরে জিডিপির প্রবৃদ্ধি ৭.১% হয়। আর ১ম জাতীয় বেতন স্কেলের সর্বোচ্চ-সর্বনিম্ন অনুপাত বেশী এবং বেতন-ভাতাখাতে একবারে ব্যয় ৬৫% হওয়ায় ১৯৭৩/৭৪-এ প্রবৃদ্ধি ৯.৬% হয়।
জিয়া মডেলে ৯ম জাতীয় বেতন কাঠামোর (২য় জাবেকা X ১০০) সর্বনিম্ন বেতন ২২,৫০০/-টাকা হওয়ায় নিম্নতম বেতন-ভাতা প্রাধিকার থেকে বঞ্চিত হবে না। অন্যদিকে সর্বোচ্চ বেতন ৩,০০,০০০/-টাকা হলে উচ্চতর বেতন-ভাতার প্রাধিকার ৮৩.৩% প্রতিষ্ঠিত হবে। এতে সরকারী দপ্তরসমূহ দায়িত্ব-কর্মশীল হবে। উপজেলা-জেলা-বিভাগ পুনর্গঠণে বাজার অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির সক্ষমতা বেড়ে বর্তমানে ৪.৯% হয়েছে। বাকী বিভাগদ্বয়সহ কতিপয় জেলা পুনর্গঠিত হলে তা ক্রমে ৬.৯%-এ উন্নীভ হবে।
অন্যদিকে ক্রমবিভক্ত বিভাগ-জেলা-উপজেলার সমন্বয়ে গড়ে উঠা জাতীয় রাষ্ট্র-অবকাঠামো প্রতিষ্ঠান -এর শীতিলতা কমায় বিদ্যমান কর-কাঠামোতেই অধিকহারে রাজস্ব আয় হবে। তাই জিয়া মডেলে ৯ম জাতীয় বেতন কাঠামো চালুতে প্রায় ১১৪ হাজার কোটি টাকা বৃদ্ধি পাওয়া বেতন ও ভাতাসমূহের ব্যয় ২ অর্থবছরে বাস্তবায়ণ হলে, ৫ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি যথাক্রমে প্রায় ১০.১%, ১০.৫%, ১০.৯%, ১১.৩% ও ১১.৭% এবং রাজস্ব আয় ১০.৬%, ১১.২%, ১১.৮%, ১২.২% ও ১২.৭% হতে পারে।
১১৪ হাজার কোটি টাকা বাড়তি বায়ের মধ্যে ১৯২৬/২৭ অর্থবছরে প্রায় ৬৭ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হলেও এই অর্থবছরেই রাজস্ব আয় জিডিপির ১.৬% তথা ১০৮ হাজার কোটি  টাকা বেশী হবে। তা থেকে বেতন-ভাতার  ব্যয় মিটিয়েও ৪১ হাজার কোটি টাকা উদ্বৃত্ত্ব থাকবে। পরবর্তীতে রাজস্ব আয়ের হার বাড়তে ও বেতন-ভাতার ব্যয়হার  কমতে থাকায় উদ্বৃত্ত্ব বাড়তে থাকবে।
 
শেষের কথাঃ
সামন্ত-ধনতন্ত্র থেকে গণতান্ত্রিক অর্থনীতি অপেক্ষাকৃত ঋণ ও মূল্যস্ফীতি ভিত্তিক। এজন্যে জনপ্রতি জিডিপি বৃদ্ধির সাথে সাথে স্থির বেতন-ভাতার আপেক্ষিক-মূল্য বেশীহারে হ্রাস পায়। এর প্রভাবে জিডিপির প্রবৃদ্ধি ও রাজস্ব আয় হ্রাস পায় এবং মূল্যস্ফীতি-দূর্ণীতি বেড়ে উঠে। এজন্যে প্রবৃদ্ধি-রাজস্ব-মূল্যস্ফীতি-দূর্ণীতির পরিশীলনে “দক্ষতা বৃদ্ধিভাতা”র পাশাপশি বছরওয়ারী পৃথক “প্রবৃদ্ধিভাতা” চালু জরুরী। তাহলে ১০ম জাতীয় বেতন কাঠামো চালুতে বিশাল অংকের অর্থ-সংস্থানের সংকট হবে না।
৬৪টি জেলা গঠনের (১৯৮৪) পরে বিভাগ পূনর্গঠিত না হওয়ায় জাতীয় রাষ্ট্র-অবকাঠামো প্রতিষ্ঠান শীতিল হয় এবং আইন-শংখলা-সন্ত্রাসের পরিস্থিতি অবনতিশীল হয়। বাকী ফরিদপুর ও কুমিল্লা বিভাগ হলে এ শীতিলতা দূর হবে এবং আপনা-আপনিই এ অবনতিশীল ধারা রোধ হয়ে উন্নয়ণশীল হবে। কিঞ্চিত ব্যয়ে (বিদ্যমান জনবলে মাত্র ২০ কোটি টাকায়) কেবল কমিশনার (ভুমি) ও ডিআইজি (পুলিশ) দপ্তর স্থাপন হলেই  বিভাগদ্বয়ের ভিত্তি হয়। ফরিদপুর ও কুমিল্লা বিভাগ গঠিত হলে বছরে প্রায় ৯ শত টাকা ব্যয়েব বিপরীতে বাড়তি রাজস্ব আয় ৫ বছরে ১০ হাজার থেকে ক্রমে ৫০ হাজার কোটি টাকা হবে।
১৯২৫/২৬ অর্থবছরে ভারতের $২,৮১২ বিপরীতে বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় $৩০২০ যা ৭.৪% বেশী। ৬০% মূল্যস্ফীতিভাতাসহ ভারতের চলমান জাতীয় বেতন কাঠামোর ২নং স্কেলের বেতন ৩,৬০,০০০/-রুপী যা বাংলাদেশের মুদ্রায় প্রায় ৪,৫৭,২০০/-টাকা। এর সমান্তরাল বাংলাদেশের ১নং স্কেলের মূলবেতন ৩,০০,০০০/-টাকা হওয়া সামঞ্জস ও বাস্তবমুখী। তাই সচিব কমিটির সুপারিশের স্থলে জিয়া মডেলে ৯ম জাতীয় বেতন কাঠামো চালু করা তারেক সরকারের জন্যে প্রজ্ঞা-বিবেকসম্মত রাষ্ট্র-পরিচালনা হবে না।
বিগত সরকারগুলোর অজ্ঞতা ও প্রজ্ঞতার সীমাবদ্ধতার জন্যে একদিকে বাংলাদেশকে ১৯৮৫ সালে ১০টি বিভাগে বিভক্ত করা হয়নি। অন্যদিকে মানবিক ও বৈষম্যহ্রাস ভেবে সর্বোচ্চ-সর্বনিম্ন বেতন-অনুপাত ১৬:১ থেকে ক্রমশঃ হ্রাস করায় জাতীয় বেতন কাঠামোটি দায়িত্ব-কর্ম হ্রাসমুখী ও দূর্ণীতিমুখী হয়েছে। এতে জাতির জিডিপি-রাজস্ব-মুল্যস্ফীতি-দূর্ণীতি ও আইন-শংখলা-সন্ত্রাসসহ বহুমুখী সংকট বেড়েছে। এজন্যে কর্মরত জনবল দায়ী নয়। অধীনস্ত হওয়ায় রাজস্ব ঘাড়তির দায় তাদের উপর চাপানো যায় না।
বেতন-ভাতা না বাড়িয়ে বা প্রাধিকারের চেয়ে কম বেতন-ভাতা দেয়া সংকটের সমাধানের পথও না। এতে সংকট বেড়ে উঠবে। বরং কুমিল্লা-ফরিদপুর বিভাগ ও কতিপয় নুতন জেলা গঠণসহ জিয়া মডেলে ৯ম জাতীয় বেতন স্কেল চালু করা সৃজনশীল সমাধানের পাথেয়। ৫ অর্থবছরের জিডিপির বাড়তি গড় ৬.৮% প্রবৃদ্ধি বাড়িয়ে এবং বাড়তি গড় ৬.৩% (=৩.৬+০.৬+২.১) রাজস্ব-মুদ্রাআয়-ঋণার্থে বাড়তি উন্নয়ণ, কর্মসংস্থান ও ৫ম আয়শ্রেণীভুক্তদের দরিদ্রভাতার মাধ্যমে বাড়তি সেবা নিশ্চিত করা সমীচীন হবে।
লেখক: মো আহসান উল করিম, রাষ্ট্রবিশেষজ্ঞ, মুক্তিযোদ্ধা, ও সাবেক বিসিএস কর্মকর্তা এবং ১৯৮২ থেকে উচ্চতর সমৃদ্ধিশীল গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার রূপকার ও উদ্যোগী। তিনি প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা রূপরেখা, ১৯৮৫, প্রগতিশীল গণতন্ত্র, ১৯৯১, সংসদ ও সুপ্রীমকোর্টে দুটি উপস্থাপনা, ২০১০-১১ এবং Essays of Democratic Political Economy, 2022 and Higher growing Bangladesh বই এবং সংস্কার বিষয়ক নিবন্ধের লেখক।

মন্তব্য করুন