প্রকাশিত: ১৮ ঘন্টা আগে, ০৪:৫৯ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

বাংলাদেশ বিল্ডিং কনস্ট্রাকশন ওয়ার্কার্স ফেডারেশন-এর সংবাদ সম্মেলন

পলাশ চন্দ্র দাস 
সভ্যতার কারিগর নির্মাণ শ্রমিক, বাংলাদেশের ৮০ লাখ নির্মাণ শ্রমিকের কর্মক্ষেত্রে জীবনের নিরাপত্তা, নিয়োগপত্র এবং জীবন যাপন উপযোগী মজুরীসহ ১২ দফা দাবীতে জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে (৩০ আগস্ট ২০২৬) রবিবার সকাল ১১ টায় এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন। 
উক্ত সংবাদ সম্মেলনে শুভেচ্ছা বক্তব্য প্রদান করেন ফেডারেশনের কার্যকরী সভাপতি আমিরুল হক আমিন। লিখিত বক্তব্য তুলে ধরেন, ফেডারেশনের সভাপতি মোঃ আব্দুল মতিন এবং অনুষ্ঠানটির পরিচালনা করেন, ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক  শেখ আনোয়ার হোসাইন। 
এছাড়া উক্ত সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, ফেডারেশনের  কেন্দ্রীয় নেতা ইসমাইল হোসেন রনি, আ. স. ম জাকারিয়া, ইসরাফিল হোসেন, মোঃ রফিকুল ইসলাম, শুকুর আলী, হাজী হাফিজুর রহমান, দীপক চৌধুরী, মনিরা মুন্নি প্রমুখ। 
তারা বলেন - পৃথিবীর ইতিহাসে সভ্যতার মূল কারিগর হলেন নির্মাণ শ্রমিকেরা। বিশ্বের উন্নত দেশসমূহে নির্মাণ শ্রমিকদের শ্রমকে সম্মান জানানো হয় এবং তাঁদের কাজকে সর্বোচ্চ মর্যাদা দেওয়া হলেও আমাদের বাংলাদেশের চিত্র সম্পূর্ণ বিপরীত।
সারা বাংলাদেশে কাজ করেন প্রায় ৮০ লক্ষ নির্মাণ শ্রমিক। এই শ্রমিকেরা নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দেশের মানুষের জন্য বিলাসবহুল বহুতল ভবন, রাস্তাঘাট, কালভার্ট, ব্রিজ, সেতু ও আধুনিক মার্কেট নির্মাণ করে আসছেন। তাঁদের অমানবিক ঘাম, শ্রম আর ত্যাগের ওপর দাঁড়িয়ে আছে আমাদের আজকের জাতীয় উন্নয়ন ও আধুনিক সভ্যতা। অথচ দুঃখজনক হলেও সত্য-বাংলাদেশের নির্মাণ শ্রমিকদের সার্বিক অবস্থা অত্যন্ত করুণ, অবহেলিত ও মানবতাহীন।
অধিকাংশ ক্ষেত্রে নির্মাণ শ্রমিকদের ন্যূনতম নিরাপত্তা সরঞ্জাম (যেমন: সেফটি হেলমেট, সেফটি বেল্ট, বুট, গ্লাভস ইত্যাদি) ছাড়াই চরম ঝুঁকিপূর্ণ উচ্চতায় কাজ করতে বাধ্য করা হয়। কর্মক্ষেত্রে তাঁদের জীবনের কোনো নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয় না। জাতীয় শ্রম আইন অনুযায়ী শ্রমিকের আইনগত স্বীকৃতি হিসেবে নিয়োগপত্র প্রদান বাধ্যতামূলক হলেও, বাস্তবে ৮০ লক্ষ শ্রমিকের প্রায় সবাই এই মৌলিক অধিকার ও নিয়োগপত্র থেকে সম্পূর্ণ বঞ্চিত। ফলে তাঁরা নিয়মিত মজুরি বঞ্চনা ও মালিকপক্ষের হয়রানির শিকার হন।
এই শ্রমিকদের কর্মক্ষেত্রে জীবনের নিরাপত্তা, নিয়োগপত্র এবং বর্তমান দ্রব্যমূল্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ জীবন যাপনের উপযোগী মজুরি তো নেই-ই; দুর্ঘটনায় আহত বা নিহত হলে তাঁদের সুচিকিৎসা কিংবা উপযুক্ত ক্ষতিপূরণের ন্যূনতম কোনো বন্দোবস্ত নেই।
 তারা অত্যন্ত দুঃখ ভারাক্রান্ত হৃদয় নিয়ে বাংলাদেশের ৮০ লক্ষ নির্মাণ শ্রমিকদের যুক্তিসংগত ১২ দফা তুলে ধরেনঃ 
১. নির্মাণ শ্রমিকদের শ্রম আইন অনুযায়ী নিয়োগপত্র ও পরিচয়পত্র প্রদান করতে হবে।
২. নির্মাণ শ্রমিকদের কর্মক্ষেত্রে জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
৩. নির্মাণ শ্রমিকদের জন্য জীবন যাপন উপযোগী মজুরী নির্ধারণ করতে হবে।
৪. নির্মাণ শ্রমিকদের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা এবং অবসরকালীন সময়ের জন্য "অবসর কল্যাণ" ভাতা নিশ্চিতে সরকারী ভাবে আলাদা কল্যাণ ফান্ড করতে হবে।
৫. সরকারী উদ্যোগে নির্মাণ শ্রমিকদের জন্য জেলা ভিত্তিক বাসস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে।
৬. সারা বাংলাদেশে কর্মরত নির্মাণ শ্রমিকদের ডাটা বেইজের আওতায় আনতে হবে।
৭. কর্মক্ষেত্রে নিহত-আহত নির্মাণ শ্রমিকদের আজীবন আয়ের সমান ক্ষতিপূরণ, সুচিকিৎসা ও পূর্নবাসনের ব্যবস্থা করতে হবে।
৮. নির্মাণ শ্রমিকদের স্বাস্থ্যগত নিরাপত্তা, ঝুকিপূর্ণ কর্মস্থল ও শ্রম আইন বাস্তবায়নের জন্য মনিটরিং ব্যবস্থা চালু করতে হবে।
৯. নির্মাণ শ্রমিকদের জন্য জেলা ভিত্তিক সরকারী হাসপাতাল করতে হবে।
১০. যেকোন প্রকার নির্মাণের জন্য সরকারী অনুমোধন বাধ্যতামূলক করতে হবে এবং ব্যায়ের ১% নির্মাণ শ্রমিক কল্যাণ ফান্ডে জমা দিতে হবে।
১১. নির্মাণ শ্রমিক সংশ্লিষ্ট শ্রম আইনের ধারা সমূহ সংশোধন করে শ্রমিক বান্ধব আইন প্রণোয়ন করতে হবে।
১২. প্রতিটি নির্মাণ শ্রমিককে গ্রুপ বিমার আওতায় আনা এবং সকল ধরণের সরকারী ছুটি কার্যকর করতে হবে।

মন্তব্য করুন