প্রকাশিত: ১০ ঘন্টা আগে, ০৫:১১ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

মিড-ডে মিল প্রকল্পে স্থানীয় বাজারের খাবার ব্যবহারের পরিকল্পনা

রাজশাহী ব্যুরো
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিশ্চিত করতে দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে পাইলট ভিত্তিতে মিড-ডে মিল কর্মসূচি চালু করা হবে। এ কর্মসূচিতে স্থানীয় বাজার থেকে শাকসবজি, ডিম, মাছসহ প্রয়োজনীয় পুষ্টিকর খাবার সংগ্রহ করে শিক্ষার্থীদের মাঝে সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, শ্রীলঙ্কা ও ভারতের তামিলনাড়ুর অভিজ্ঞতা অনুসরণ করে বাংলাদেশেও মায়েদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে শিশুদের খাদ্য ও পুষ্টি নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ লক্ষ্যে দেশের কয়েকটি এলাকায় পাইলট প্রকল্প হিসেবে মিড-ডে মিল কার্যক্রম শুরু হবে। স্থানীয় পর্যায়ে খাবার সংগ্রহ ও সরবরাহের কাজে মায়েদের সম্পৃক্ত করা হবে। এতে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
বুধবার (২৬ আগস্ট) চাঁপাইনবাবগঞ্জে শহীদ সাটু হলে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ‘ফিডিং কর্মসূচি’ শীর্ষক প্রকল্প নিয়ে প্রধান শিক্ষকদের ও প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নবিষয়ক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মিড-ডে মিল কর্মসূচি প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, মাদারস কমিটির কার্যকর নজরদারির ফলে এ প্রকল্পের অনিয়ম ও বিভিন্ন অভিযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে। বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করার পাশাপাশি খাবারের মান, স্বাদ, গুণগত মান ও সরবরাহ ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
তিনি বলেন, প্রতিটি বিদ্যালয়ে মাদারস কমিটিকে আরও সক্রিয় করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। খাবারের মান, স্বাদ ও সরবরাহে কোনো অসঙ্গতি দেখা দিলে তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করতে হবে। মায়েদের সরাসরি সম্পৃক্ততার মাধ্যমে মিড-ডে মিল কর্মসূচিকে আরও কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক করা হবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারের অন্যতম লক্ষ্য হলো কোনো শিশু যেন বিদ্যালয়ের বাইরে না থাকে এবং প্রত্যেক শিক্ষার্থী যেন মানসম্মত শিক্ষা পায়। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে শিক্ষক ও মাঠপর্যায়ের শিক্ষা কর্মকর্তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি, শ্রেণি কার্যক্রম, লেখাপড়ার অগ্রগতি ও শিক্ষার পরিবেশ নিয়মিত পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের আরও সক্রিয় হতে হবে।
তিনি আরও জানান, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা হচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদি বিদ্যালয়ের বাইরে থেকে প্রশিক্ষণ না দিয়ে বিদ্যালয়েই শিক্ষক সংকটের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি দুর্গম ও প্রত্যন্ত এলাকার বিদ্যালয়গুলোর অবকাঠামোগত সমস্যা সমাধান এবং শিক্ষকদের পেশাগত উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। দুর্গম এলাকার শিক্ষকদের সুবিধা নিশ্চিত করতে নির্দিষ্ট বিদ্যালয়ভিত্তিক দুর্গম ভাতা দেওয়ার বিষয়েও নতুন নীতিমালা তৈরির কাজ চলছে।
প্রাথমিক শিক্ষার অবকাঠামো উন্নয়ন প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, নদীভাঙনসহ বিভিন্ন কারণে যেসব বিদ্যালয় বারবার স্থান পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকে, সেসব এলাকায় স্থানান্তরযোগ্য অবকাঠামোর মডেল নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। দুর্গম ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় ইতোমধ্যে বাস্তবভিত্তিক বিভিন্ন মডেল নিয়ে আলোচনা চলছে। সরকারি ব্যবস্থাপনায় এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হবে।
তিনি আরও বলেন, কারিকুলাম, শিক্ষক, মনিটরিং, অবকাঠামো ও প্রযুক্তি—প্রাথমিক শিক্ষার ব্যবস্থার সবগুলো উপাদান সমন্বিতভাবে উন্নয়ন করতে হবে। শিক্ষার গুণগত মান বাড়াতে শুধু একটি বিষয়ে পরিবর্তন আনলেই হবে না; পাঠ্যক্রমকে যুগোপযোগী করা, দক্ষ ও দায়িত্বশীল শিক্ষক তৈরি, কার্যকর মনিটরিং ব্যবস্থা গড়ে তোলা, বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়ন এবং প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।
অনুষ্ঠানে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মো. মুসা জঙ্গীর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম। উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. ফজলুর রহমান, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ফিডিং কর্মসূচি প্রকল্প পরিচালক মো. আবুল আমিন, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক মোহাম্মদ শফিউল ইসলাম এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন। এছাড়া বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, প্রধান শিক্ষক, সহকারী শিক্ষক ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী।

মন্তব্য করুন