প্রকাশিত: ৮ ঘন্টা আগে, ০১:১৪ এ এম

অনলাইন সংস্করণ

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে কোরানিক অংশিদারের সম্পত্তি জবর দখলের অভিযোগ

জেলা প্রতিনিধি, চাঁপাইনবাবগঞ্জ
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার কানসাট ইউনিয়নের বালুচর গ্রামের ৭১ বছর বয়সী মোসাঃ নুরজাহান বেগমের সম্মত্তি জবর দখল করে ভোগদখলে রেখেছে আপন চাচাতো ভাই -বোনেরা। নুরজাহান বেগমের বয়স যখন চার বছর তখন তাঁর বাবা মারা যান। দাদা মারা যান বাবার মৃত্যুর পর। সেই সময়কার আইন অনুযায়ী দাদর সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত হন নুরজাহান বেগম।

নুরজাহান বেগমের দাদি অলেশ বেগম ১৯৮০ সালে মারা যান। এসময় তিনি ২ পুত্র মোহাঃ কলিমুদ্দিন ও মোঃ ফজলুর রহমান, পূর্ব মৃত পুত্রের কন্যা মোসাঃ নুরজাহান বেগম, ৩ কন্যা পাতু বিবি, মোসাঃ সায়েরা বেগম ও মোসাঃ মুলন বিবি কে রেখে মারা যান।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার পূর্ব বিলাত হরিপুর মৌজার খতিয়ান নং ২০২৬-১০০০৬১,  জেএলনং ১৬৫, দাগ নং ৬৪৪, ১৮৫৮, ১৮৬১, ৬১৮, ৬২৯, ৯৫-এ অংশানুযায়ী জমির পরিমাণ ০০.২৩২৪০০ একর, খতিয়ান নং ২০২৬-১০০০৯৭ এর পশ্চিম বিলাত হরিপুর মৌজার জেল নং ১৬৪ এর ২২৮৫,২৩৪০,৮৭৪,৭৭২,২১২,৪০৭৪,৪০৭৮,৪০৮০ ও ৪০৮৮ নং দাগে ০০.৫৮২১০০ শতক এবং নামোবিশ্বনাথপুর মৌজার জেএলনং ১৬২ এর ২০০, ২০১ ও ২০৪ নং দাগে ০০.০৭৭৭০০ শতক জমির হকদ্বার।

মর্মে দাদির রেখে যাওয়া সম্পত্তির কোরাণিক অংশিদার হিসেবে সম্পত্তির ভাগ পাবেন নুরজাহান বেগম। কারণ ১৯৬১ সালের ৪ ধারার মুসলিম পারিবারিক আইনের বিধান অনুযায়ী কোন ব্যক্তি কোন সন্তান যদি পিতা বা মাতার পূর্বেই মারা যায় তাহা হইলে সন্তানের সন্তান বা সন্তানগণ তাঁহার পিতা মাতার স্থলাভিষিক্ত হবেন। আইনের সূত্র মতে নুরজাহান বেগম অলেস বিবি'র কোরাণিক অংশিদার হিসেবে তাঁর দাদী আলেসের সম্পত্তি থেকে অলেসের একজন পুত্রের সমান অংশ প্রাপ্তির অধিকার রাখে।

দাদির রেখে যাওয়া সম্পত্তির নুরজাহান বেগমের প্রাপ্য অংশ জবর দখল করে ভোগ করছেন আপন চাচা কলিম উদ্দিন ও ফজলুর রহমানের ওয়ারিশগণ। এবিষয় নিয়ে কয়েক দফা আলোচনা হয়। জবর দখলকারীরা  নুরজাহান বেগমকে সম্পত্তি বুঝিয়ে দেওয়ার কথা মুখে স্বীকার করলেও বাস্তবে বুঝিয়ে না দিয়ে প্রাণ নাশের হুমকি দিয়ে আসছে বলে জানা গেছে।

প্রকাশ থাকে যে, নুরজাহান বেগম ২০১৯ সালের ১৩ই জানুয়ারি বালুচর পূর্পাড়া ওয়াক্তিয়া মসজিদের সামনে তাঁর চাচা ফজলুর রহমানের কাছে জমির নায্য হিস্যা বুঝিয়ে চেয়ে চাচার পা'দুটো জড়িয়ে ধরলে চাচা নুরজাহাকে এলোপাথাড়িভাবে মারধর করে।  এসময় নিরাপত্তা জনিত কারণে নুরজাহানকে নাচোল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। এছাড়াও জবর দখলকারীগণ নুরজাহান বেগমের স্বামীকে কয়েক দফা রাস্তা অবরোধ, মারধরের চেষ্টা ও প্রাণ নাশের হুমকি দেয়।

উল্লেখ্য যে, সফিকুল ইসলাম ভুররা পিতা মৃত বেলাল ভুররা, শরিফ বাবু ভুররা পিতা সফিকুল ইসলাম বহিরাগত সন্ত্রাসী । নুরজাহান বেগমের সম্পত্তি জবর দখলে অগ্রনি ভূমিকা পালন করে আসছে।  

এব্যাপারে অলেশ বেগমের পুত্র কলিমুদ্দিনের জামাতা আলহাজ্ব মোঃ আলতাস মেম্বার জানান, অলেশ বেগমের মেয়ে নুরজাহান জমি পাবে এটা ঠিক। তবে অবৈধ দখলকারীরা জমি বুঝিয়ে না দিয়ে মিথ্যাচার করে আসছে। আমাদের কাছে থাকা জমি নুরজাহান বেগমকে বুঝিয়ে দিব।

মন্তব্য করুন