প্রকাশিত: ২৮ আগষ্ট, ২০২৬, ০৫:১২ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
ব্যুরো চিফ, রাজশাহী
রাজশাহীতে আমন ধান রোপণের প্রায় ৯০ শতাংশ কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। এতে নন-ইউরিয়া সারের চাহিদা কমে এলেও আমন ধানে উপরি প্রয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় ইউরিয়া সারের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। জেলার বিভিন্ন গুদামে বর্তমানে ২ হাজার ৪৬৯ মেট্রিক টন ইউরিয়া সার মজুত রয়েছে, যা প্রায় ৪৯ হাজার ৩৮০ বস্তার সমপরিমাণ।
সারের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সেপ্টেম্বর মাসের বরাদ্দও ইতোমধ্যে ডিলারদের দেওয়া হয়েছে। কেউ কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, অবৈধভাবে সার মজুত, কালোবাজারি কিংবা নির্ধারিত মূল্যের বেশি দামে সার বিক্রির চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন রাজশাহীর জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম।
বুধবার (২৬ আগস্ট) দুপুরে রাজশাহী নগরীর চৌদ্দপাই এলাকার মেসার্স মোসলেম মোল্লা এবং পবা উপজেলার কাটাখালীর সংসাদিপুর এলাকার মেসার্স নাহার এন্টারপ্রাইজের সার গুদাম পরিদর্শন করেন রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার মো. ইউসুফ আলী। এ সময় তিনি গুদামে সারের মজুত, সরবরাহ ও বিক্রয় পরিস্থিতি সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন।
পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর রাজশাহীর উপপরিচালক মোস্তফা কামাল হোসেন, পবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইবনুল আবেদীন এবং উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ এমএ মান্নান।
সারের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে সাংবাদিকদের জেলা প্রশাসক বলেন, চলতি আগস্ট মাসে রাজশাহীতে পর্যাপ্ত পরিমাণ সার মজুত রয়েছে। ডিলারদের মাধ্যমে এসব সার কৃষকদের মধ্যে নিয়মিত বিতরণ করা হচ্ছে। কৃষকদের চাহিদা বিবেচনায় অতিরিক্ত সার বরাদ্দের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে চিঠিও দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, আগামীকাল থেকে ডিলাররা সেপ্টেম্বর মাসের নির্ধারিত বরাদ্দের সার উত্তোলন করতে পারবেন। এরই মধ্যে ডিলারদের অনুকূলে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ফলে সারের সরবরাহ নিয়ে কৃষকদের উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই।
জেলা প্রশাসক জানান, রাজশাহীতে প্রায় ৯০ শতাংশ আমন ধান রোপণ শেষ হয়েছে। এ কারণে বর্তমানে নন-ইউরিয়া সারের চাহিদা তুলনামূলকভাবে কম। তবে আমন ধানে উপরি প্রয়োগের জন্য ইউরিয়া সারের প্রয়োজন রয়েছে। সে বিবেচনায় জেলার বিভিন্ন গুদামে ২ হাজার ৪৬৯ মেট্রিক টন ইউরিয়া মজুত রাখা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, জেলার প্রতিটি উপজেলায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, কৃষি কর্মকর্তা ও ব্লক সুপারভাইজারদের সরাসরি তদারকিতে ডিলার পয়েন্ট থেকে কৃষকদের কাছে সার বিক্রি করা হচ্ছে। কৃষকেরা যাতে হয়রানির শিকার না হন এবং সরকারি নির্ধারিত মূল্যের অতিরিক্ত দামে সার কিনতে বাধ্য না হন, সেদিকেও প্রশাসন ও কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা নজর রাখছেন।
কাজী শহিদুল ইসলাম বলেন, একজন ডিলার সরকারি বরাদ্দের কত পরিমাণ সার উত্তোলন করেছেন, গুদামে কতটুকু মজুত রয়েছে এবং প্রতিদিন কতটুকু সার বিক্রি করেছেন—তার হিসাব নিয়মিত উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কাছে জমা দিতে হবে। এর মাধ্যমে সার বিতরণ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা হচ্ছে।
তিনি জানান, অবৈধভাবে সার মজুত ও কালোবাজারির মাধ্যমে কৃত্রিম সংকট তৈরির অপচেষ্টা ঠেকাতে ভিজিল্যান্স টিমের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এসব অভিযানে এ পর্যন্ত ১ হাজার ২৯৩ বস্তা সার উদ্ধার করা হয়েছে। অনিয়মের দায়ে আদায় করা হয়েছে ৩ লাখ টাকা জরিমানা।
জেলা প্রশাসক আরও বলেন, কৃষকদের স্বার্থ রক্ষা এবং বাজারে সারের স্বাভাবিক সরবরাহ নিশ্চিত করতে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় মোবাইল কোর্ট ও ভিজিল্যান্স টিমের নজরদারি অব্যাহত থাকবে। কেউ কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, অবৈধভাবে সার মজুত, কালোবাজারি অথবা নির্ধারিত মূল্যের বেশি দামে সার বিক্রির চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন