প্রকাশিত: ১ ঘন্টা আগে, ১২:১৯ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
বিজনেস ফাইল ডেস্ক
মানব পাচার ও অবৈধ অভিবাসনের শিকার বাংলাদেশি নাগরিকদের বিদেশ থেকে দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া আরও কার্যকর ও সমন্বিত করতে রিপ্যাট্রিয়েশন ডেটা ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (আরডিএমএস) চালু করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
রোববার রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের বোর্ডরুমে এক অনুষ্ঠানে এ ব্যবস্থা উদ্বোধন করা হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার বাংলাদেশের যৌথ আয়োজনে এ অনুষ্ঠান হয় বলে মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (রাজনৈতিক ও বহিরাগমন) ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) প্রধান ও অতিরিক্ত আইজিপি সরদার নুরুল আমিন, এসবির ডিআইজি জাহাঙ্গীর হোসেন এবং অস্ট্রেলিয়ান হাই কমিশনের কাউন্সেলর রুবেন গ্রে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক-১ অধিশাখার যুগ্মসচিব রেবেকা খান স্বাগত বক্তব্য দেন। আরডিএমএসের উদ্দেশ্য ও সুবিধা তুলে ধরেন জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর তারিকুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানে জিয়াউদ্দিন আহমেদ মানব পাচার প্রতিরোধ এবং উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের পুনরেকত্রীকরণ প্রক্রিয়া দ্রুত করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্যবস্থাপনায় আরডিএমএস যুক্ত করার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, “ফেরত আসা ব্যক্তি ও সারভাইভারদের পূর্ণাঙ্গ তথ্য সংরক্ষণে আরডিএমএস প্ল্যাটফর্মটি ইতোমধ্যে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ডেটাবেজের সাথে সংযুক্ত করা হয়েছে। তাছাড়া শিশুদের নিখুঁতভাবে শনাক্ত করতে এটিকে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের পাশাপাশি পাসপোর্ট সেবার সাথে সমন্বিত করার কাজ চলমান রয়েছে।”
অবৈধ অভিবাসন রোধে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশের বিশেষ শাখার প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন তিনি।
জিয়াউদ্দিন আহমেদ বলেন, “আন্তঃসংস্থার সমন্বিত এ উদ্যোগ সারভাইভারদের সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ এবং অবৈধ অভিবাসন বন্ধে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।”
মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ারের কারিগরি সহায়তায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরডিএমএস তৈরি করেছে। সিস্টেমটির উন্নয়ন ও আপগ্রেডেশনে অস্ট্রেলিয়া সরকার সহায়তা করেছে।
এটি একটি কেন্দ্রীয় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। এর মাধ্যমে বিদেশ থেকে বাংলাদেশি নাগরিকদের দেশে ফেরানোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তথ্য ব্যবস্থাপনা এবং বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় করা যাবে।
মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালানের শিকার ব্যক্তিসহ বিদেশে থাকা বাংলাদেশি নাগরিকদের দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়ায় একাধিক সরকারি সংস্থা যুক্ত থাকে। জাতীয়তা যাচাই, পুলিশ রেকর্ড যাচাই, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত এবং সংশ্লিষ্ট দেশের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগসহ বিভিন্ন ধাপ এ প্রক্রিয়ার অংশ।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এসব কাজের বড় একটি অংশ প্রচলিতভাবে কাগজপত্র ও চিঠিপত্রের মাধ্যমে পরিচালিত হওয়ায় প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় অনেক সময় বিলম্ব হয়।
অনুষ্ঠানে দেওয়া উপস্থাপনায় বলা হয়, আরডিএমএসের মাধ্যমে প্রত্যাবাসন-সংক্রান্ত মামলার তথ্য কেন্দ্রীয়ভাবে সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা করা যাবে। সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো, জাতীয়তা ও পুলিশ রেকর্ড যাচাই দ্রুত করা এবং তথ্যের নির্ভুলতা, স্বচ্ছতা ও সহজে অনুসরণযোগ্যতা নিশ্চিত করাও এ ব্যবস্থার উদ্দেশ্য।
সিস্টেমটির মাধ্যমে প্রত্যাবাসন-সংক্রান্ত তথ্য দ্রুত পাওয়া, মামলার অগ্রগতি রিয়েল টাইমে পর্যবেক্ষণ এবং প্রতিবেদন তৈরির সুযোগ থাকবে বলেও উপস্থাপনায় জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “আরডিএমএসের মাধ্যমে বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশি হাইকমিশনসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো আরও নির্ধারিত ও সমন্বিত পদ্ধতিতে প্রত্যাবাসনের আবেদন করতে পারবে। জাতীয়তা যাচাইয়ের সময় প্রয়োজনীয় তথ্য আদান-প্রদানও আরও সহজ হবে। একই সঙ্গে ব্যক্তিগত ও সংবেদনশীল তথ্য নিরাপদভাবে সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার বিষয়টিও সিস্টেমে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।”
যুক্তরাষ্ট্র, ভারত ও থাইল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশের দূতাবাস ও হাইকমিশনের প্রতিনিধি এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন