প্রকাশিত: ১৪ ঘন্টা আগে, ১০:১০ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

কবিতা ও ছন্দের মেলবন্ধনে মুখরিত সান্ধ্য মিলনায়তন

বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রে আবৃত্তি আলেখ্য ‘সময় ও জলের কাব্য’

সংস্কৃতি বিষয়ক সংবাদদাতা 
বর্ষার বিদায় আর শরতের আগমনের এই আবহমান মুহূর্তকে সাক্ষী রেখে কবিতার সুরে মগ্ন হলো ঢাকার সাংস্কৃতিক আঙিনা। গত ২৯ আগস্ট (শনিবার) সন্ধ্যায় বাংলামোটরস্থ বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের মিলনায়তনে ঐতিহ্যবাহী আবৃত্তি সংগঠন ‘স্বরবৃত্ত’-এর উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল বিশেষ আবৃত্তি আলেখ্য ‘সময় ও জলের কাব্য’। 

​সন্ধ্যা সাতটায় স্বরবৃত্তের সভাপতি মো. আকতার হোসেনের প্রারম্ভিক বক্তব্য ও উপস্থিত শ্রোতাদের প্রতি ধন্যবাদ জানানোর মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। আবৃত্তিশিল্পীদের সুললিত কণ্ঠে ফুটে ওঠে জীবনের উত্থান-পতন, প্রেম-বিরহ, আশা এবং সময় ও মহাকালের চিরন্তন কথকতা। 

​পুরো আয়োজনে পরিবেশিত হয় দেশ-বিদেশের খ্যাতিমান কবিদের লেখা মোট ২২টি কবিতা। আয়োজনের শুরুতেই জান্নাতুল ফেরদৌস রীমা পরিবেশন করেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিখ্যাত চরণ ‘বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর’ এবং পরবর্তীতে জীবনানন্দ দাশের ‘কুড়ি বছর পরে’। কবি মনোজ দত্ত আবৃত্তি করেন নিজের লেখা ‘ঘুড়ি’ ও অমিয় চক্রবর্তীর ‘বৃষ্টি’। অন্যদিকে শিউলি রানী বালা পাঠ করেন স্বরচিত ‘চিঠি’। 

​আবৃত্তির ধারাবাহিকতায় মরিয়ম আক্তার ঝর্ণা পরিবেশন করেন রবীন্দ্রনাথের ‘আষাঢ়’ ও মহাদেব সাহার ‘মানুষই মহৎ শিল্প’। স্বদেশপ্রেম ও স্মৃতির আবেগ নিয়ে আহসান হাবীবের ‘আমি কোন আগন্তুক নই’ ও শামসুর রাহমানের ‘শহীদ জননীকে নিবেদিত পংক্তিমালা’ শোনান খন্দকার মো. জাহাঙ্গীর হোসেন। ঋতু রূপায়ণে রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহর ‘বৈশাখের নাগর দোলায়’ ও রবীন্দ্রনাথের ‘বর্ষার দিনে’ আবৃত্তি করেন কামরুন নাহার বাবলি। 

​নারী সংবেদনশীলতা ও ভাবুকতায় ভরা সুস্মিতা হকের কণ্ঠে ধ্বনিত হয় মল্লিকা সেনগুপ্তের ‘শুভম তোমাকে’ ও আবু জাফর ওবায়দুল্লাহর ‘শেফালির ফুল’। মো. আকতার হোসেনের একক আবৃত্তিতে ছিল মহাদেব সাহার ‘মন ভাল নেই’ ও সৈয়দ শামসুল হকের ‘নূরলদীনের সারাজীবন’। তিনি শিউলি রানী বালাকে সাথে নিয়ে যৌথভাবে আবৃত্তি করেন সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘যা চেয়েছি, যা পাবো না’। 

​মাহানুর জাবিন শারমিনের কণ্ঠে স্থান পায় জয় গোস্বামীর ‘মেঘবালিকার জন্য রুপকথা’ ও মহাদেব সাহার ‘মানুষের সাথে থাকো’। তরুণ আবৃত্তিশিল্পী মোর্তাহিন বিল্লাহ তোহা পরিবেশন করেন হেলাল হাফিজের ‘ইচ্ছে ছিল’ ও আবুল হাসানের ‘বৃষ্টি চিহ্নিত ভালবাসা’। পরে মাহানুর জাবিন শারমিন ও মোর্তাহিন বিল্লাহ তোহা যৌথভাবে ফুটিয়ে তোলেন জয় গোস্বামীর ‘কথোপকথন ১৩’ এবং আতাউর রহমানের ‘বর্তমানতা’। 

​অনুষ্ঠানের সফল সমাপ্তি ঘটে কাজী নজরুল ইসলামের কালজয়ী কবিতা ‘বাঙলাদেশ’-এর সমবেত আবৃত্তির (কোরাস) মধ্য দিয়ে। 

​সম্পূর্ণ অনুষ্ঠানটি নান্দনিকভাবে সঞ্চালনা করেন মাহানুর জাবিন শারমিন। মঞ্চের সুনিপুণ সজ্জায় ছিলেন খন্দকার মো. জাহাঙ্গীর হোসেন এবং সামগ্রিক গ্রন্থনা ও নির্দেশনায় ছিলেন সুস্মিতা হক।

মন্তব্য করুন