প্রকাশিত: ১২ ঘন্টা আগে, ০৮:০৪ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
খাইরুল ইসলাম, নিকলী প্রতিনিধি
"যখনই ধর্মের গ্লানি এবং অধর্মের অভ্যুত্থান ঘটে, তখনই আমি নিজেকে প্রকাশ করি।"—পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের এই শাশ্বত দর্শন ও বাণীকে হৃদয়ে ধারণ করে কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলায় অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে পালিত হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব শুভ জন্মাষ্টমী। ভক্তদের কাছে এই দিনটি কেবলই একটি জন্মোৎসব নয়; বরং সত্য, ন্যায়, মানবতা এবং অধর্মের বিরুদ্ধে ধর্মের বিজয়ের এক মহান প্রতীক।এ উপলক্ষে কিশোরগঞ্জ জেলা পূজা উদযাপন ফ্রন্টের উদ্যোগে এক বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রা ও বিশেষ প্রার্থনা সভার আয়োজন করা হয়। বিশ্ব শান্তি, দেশমাতৃকার কল্যাণ এবং মানবতাবোধ জাগ্রত করার প্রত্যয় নিয়ে আজ ৪/৯/২৬ রোজ শুক্রবার সকাল ১১ঘটিকায় নিকলী কেন্দ্রীয় হরিসভা প্রাঙ্গণ থেকে একটি বিশাল মঙ্গল শোভাযাত্রা বের হয়। শোভাযাত্রাটি নিকলী পুরান বাজার ও উপজেলার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে সাইটধার হয়ে গোবিন্দপুর চন্দ্রনাথ গোস্বামীর আখড়ায় গিয়ে শেষ হয়।বর্ণিল এই আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ পূজা উদযাপন ফ্রন্টের আহ্বায়ক, জেলা কৃষক দলের সিনিয়র সহ-সভাপতি এবং নিকলী উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বাবু তাপস সাহা অপু।অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পূজা উদযাপন ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক সেন্টু তালুকদার।অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি ও সনাতন ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ নিকলী উপজেলা শাখার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বাবু সজল কুমার দাস, কিশোরগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজের প্রভাষক বাবু কার্তিক সূত্রধর, নিকলী কেন্দ্রীয় হরিসভার সাবেক সভাপতি সমীর কুমার সাহা, নিকলী কেন্দ্রীয় হরিসভার সাধারণ সম্পাদক স্বপন সাহা, নিকলী উপজেলা পুজা উদযাপন পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সুমন সাহা,নিকলী পূজা উদযাপন ফ্রন্টের সিনিয়র সহ-সভাপতি শুভ্র সাহা, নিকলী কেন্দ্রীয় হরিসভার সহ-সভাপতি প্রদীপ সাহা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সুজন সাহা বিলু এবং কোষাধ্যক্ষ রাজন সূত্রধরসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। শোভাযাত্রা শেষে চন্দ্রনাথ গোস্বামীর আখড়ায় বিশেষ পূজা-অর্চনা অনুষ্ঠিত হয়। পূজা শেষে বিশ্ব শান্তি, দেশের সমৃদ্ধি ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি কামনায় বিশেষ প্রার্থনা করা হয়। একই সাথে নিকলী-বাজিতপুর আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য শেখ মুজিবুর রহমান ইকবালের চোখের সফল অপারেশন ও দ্রুত আরোগ্য লাভ কামনায় বিশেষ দোয়া ও প্রার্থনা করা হয়। উৎসবকে কেন্দ্র করে পুরো উপজেলাজুড়ে ভক্তদের মাঝে এক অভূতপূর্ব আনন্দঘন ও ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
মন্তব্য করুন