প্রকাশিত: ৪ ঘন্টা আগে, ০৭:৫০ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
ব্যুরো চিফ, রাজশাহী
রাজশাহীর সীমান্তবর্তী এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে ১৩৭ বোতল ভারতীয় মদ ও ১৫ হাজার পিস ভারতীয় ইলেকট্রিক রেজিস্টেন্স জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) ভোররাতে রাজশাহী ব্যাটালিয়ন (১ বিজিবি) এর আওতাধীন চারঘাট, বাঘা ও মতিহার সীমান্ত এলাকায় এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়।
বিজিবি জানায়, সীমান্ত দিয়ে মাদকদ্রব্য, চোরাচালানি পণ্য ও অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে মহাপরিচালকের নির্দেশনায় রাজশাহী ব্যাটালিয়ন (১ বিজিবি) সীমান্ত এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি ও টহল জোরদার করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় পৃথক এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়।
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক ২টার দিকে চারঘাট বিওপির একটি বিশেষ টহল দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে, চারঘাট থানার মুক্তারপুর এলাকায় পদ্মা নদীর চর দিয়ে মাদকের একটি চালান দেশে প্রবেশ করবে। খবর পেয়ে বিজিবির সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছালে মাদক কারবারিরা তাদের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যায়।
পরে ওই এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে একটি বস্তা পাওয়া যায়। বস্তাটি খুলে ১০১ বোতল ভারতীয় মদ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা মদগুলো মালিকবিহীন হিসেবে জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় জব্দকৃত মাদক চারঘাট থানায় হস্তান্তরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
এরপর রাত আনুমানিক ৩টা ৪৫ মিনিটে আলাইপুর বিওপির নিয়মিত টহল দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বাঘা থানার গোকুলপুর এলাকায় অভিযান চালায়। বিজিবির সদস্যরা একটি আমবাগানে অবস্থান নিয়ে নজরদারি করছিলেন। একপর্যায়ে এক ব্যক্তিকে মাথায় বস্তা নিয়ে আমবাগানের দিকে আসতে দেখে তাকে আটকের চেষ্টা করা হয়। এ সময় ওই ব্যক্তি বস্তাটি ফেলে পালিয়ে যায়।
পরে বস্তাটি তল্লাশি করে ৩৬ বোতল ভারতীয় মদ ও ৫ হাজার পিস ইলেকট্রিক রেজিস্টেন্স উদ্ধার করা হয়। এসব পণ্যও মালিকবিহীন হিসেবে জব্দ করা হয়েছে। মদ বাঘা থানায় এবং অন্যান্য চোরাচালানি মালামাল রাজশাহী শুল্ক অফিসে জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
এদিকে ভোর আনুমানিক সাড়ে ৪টার দিকে তালাইমারী বিওপির একটি অভিযানিক দল গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মতিহার থানার জাহাজঘাট এলাকায় অভিযান চালায়। বিজিবি সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে কাউকে না পেলেও সেখানে তল্লাশি চালান। এ সময় মাটিতে লুকিয়ে রাখা একটি ছোট ব্যাগের ভেতর থেকে ১০ হাজার পিস ভারতীয় ইলেকট্রিক রেজিস্টেন্স উদ্ধার করা হয়। এসব মালামালও মালিকবিহীন হিসেবে জব্দ করা হয়েছে এবং রাজশাহী শুল্ক অফিসে জমা দেওয়ার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
বিজিবি জানিয়েছে, এসব চোরাচালান ও মাদকদ্রব্যের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
মন্তব্য করুন