প্রকাশিত: ১৫ আগষ্ট, ২০২৬, ০৯:২৪ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
রাজশাহী ,ব্যুরো চিফ
চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাটে চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত ২ নম্বর আসামি মো. ইলিয়াসকে (৫৫) গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-৫। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) গভীর রাতে গোমস্তাপুর উপজেলার বাঙ্গাবাড়ী ইউনিয়নের বেলনাথপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
র্যাব-৫-এর চাঁপাইনবাবগঞ্জ ক্যাম্পের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার রাত আনুমানিক ২টা ৩০ মিনিটে বেলনাথপুর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে র্যাবের একটি দল। এ সময় জনৈক রফিকের বাড়ি থেকে হত্যা মামলার পলাতক আসামি ইলিয়াসকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি ভোলাহাট উপজেলার মুশরীভুজা বটতলা এলাকার মৃত আরশাদ আলীর ছেলে।
র্যাব জানায়, গত ১৯ জুন ভোলাহাটের মুশরীভুজা বটতলা এলাকায় পূর্ববিরোধের জেরে একদল লোক দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে একটি বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালায় বলে মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে। এ সময় হামলাকারীরা বাড়িতে অগ্নিসংযোগের পাশাপাশি কয়েকজনকে হত্যার উদ্দেশ্যে মারধর করে গুরুতর আহত করে।
অভিযোগ অনুযায়ী, হামলার একপর্যায়ে আসামিদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে মো. আসাদুল হকসহ পরিবারের কয়েকজন গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে ভোলাহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। আসাদুল হকের অবস্থার অবনতি হলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার অবস্থার আরও অবনতি হলে তাকে পুনরায় ভোলাহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় নিহত আসাদুল হকের স্ত্রী মোছা. আজিনুর বেগম বাদী হয়ে ভোলাহাট থানায় মামলা করেন। মামলায় ৪৯ জনকে এজাহারভুক্ত আসামি করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ১৫ থেকে ২০ জনকে আসামি করা হয়। মামলাটি ভোলাহাট থানায় ২০ জুন ২০২৬ তারিখে হত্যা, হত্যাচেষ্টা, অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর, লুটপাটসহ দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় রুজু করা হয়।
র্যাবের ভাষ্য, মামলার পর থেকেই ইলিয়াস আত্মগোপনে ছিলেন। গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে তার অবস্থান শনাক্ত করে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ইলিয়াসকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ভোলাহাট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাব-৫।
মন্তব্য করুন