প্রকাশিত: ১৬ আগষ্ট, ২০২৬, ০১:০০ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
বিজনেস ফাইল ডেস্ক
রাজধানী ঢাকার কদমতলী থানা এলাকায় যৌতুকের জন্য ঊর্মি আক্তার (২৫) নামের এক গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে। গত ১৫ জুলাই (২০২৬) রাতে নতুন জুরাইন আলমবাগ এলাকার একটি বাসায় এই ঘটনা ঘটে।
এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের পিতা মনির বাদী হয়ে কদমতলী থানায় একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেন। পুলিশ এজাহারটি গ্রহণ করে একটি মামলা (মামলা নং-২৫, তারিখ: ১৬/০৭/২০২৬) দায়ের করেছে। মামলায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধনী ২০০৩)-এর ১১(ক)/৩০ ধারা যুক্ত করা হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বিগত ২০২১ সালে শরিয়ত মোতাবেক মো. মনিরের কন্যা ঊর্মি আক্তারের সাথে নতুন জুরাইন আলমবাগের বাসিন্দা সাইদুজ্জামান মোহনের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে ৪ বছরের একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। বিয়ের পর থেকেই ব্যবসার অজুহাতে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন ঊর্মির পরিবারের কাছে ৫ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে আসছিল। যৌতুকের টাকা না দেওয়ায় দীর্ঘ দিন ধরে ঊর্মির ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হতো।
বাদী এজাহারে উল্লেখ করেন, গত ১৫ই জুলাই রাত আনুমানিক ১০টার দিকে যৌতুকের দাবিতে পুনরায় বিরোধ সৃষ্টি হলে এজাহারে উল্লেখিত আসামিরা ঊর্মিকে মারধর শুরু করে। একপর্যায়ে প্রধান আসামি (স্বামী) সাইদুজ্জামান মোহন ও তার মা এবং তার বোন হত্যার উদ্দেশ্যে লোহার রড দিয়ে ঊর্মির মাথার পেছনে সজোরে আঘাত করেন। এতে মাথা ফেটে রক্তাক্ত হয়ে ঊর্মি ঘরের মেঝেতে লুটিয়ে পড়েন এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
ঘটনার পর গভীর রাতে কদমতলী থানা পুলিশ স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ (মিটফোর্ড) হাসপাতাল থেকে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে। সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুত শেষে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়।
মামলার আসামিরা হলেন— নিহতের স্বামী সাইদুজ্জামান মোহন (৩৮), নিহতের শাশুড়ি জয়তারা বেগম (৬০) নিহতের ননদ রেশমা বেগম (৩০) নোবেল হোসেন (৩৫) সোহেল (বয়স উল্লেখ নেই)।
কদমতলী থানা পুলিশ জানিয়েছে, মামলা দায়েরের পর অভিযান চালিয়ে ইতিমধ্যে ২ নম্বর আসামি জয়তারা বেগম এবং ৩ নম্বর আসামি রেশমা বেগমকে গ্রেফতার করে। কদমতলী থানা পুলিশের সঠিক তদারকির মাধ্যমে হত্যাকান্ডের এক সপ্তাহ পর প্রধান আসামি সাইদুজ্জামান মোহনকে গত বুধবার (২২ জুলাই) জামালপুর জেলার নরুন্দি তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ নাজমুল হকের সহযোগিতায় গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। গ্রেপ্তার হওয়া আসামিদের বিরুদ্ধে রিমান্ডের জন্য কদমতলী থানার অফিসার ইনচার্জ আশরাফের নির্দেশে রবিবার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এস আই কামরুল নাহার। ৪ ও ৫ নং আসামি এখনো পলাতক রয়েছেন। পলাতকদের দ্রুত গ্রেফতারের জন্য পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের পর ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও নিহতের স্বজনরা। তারা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের দাবি জানিয়েছেন।
হত্যাকান্ডের শিকার ঊর্মি আক্তারের বাবা মনির হোসেন বলেন, আমি আমার মেয়ের হত্যাকারিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। তিনি বলেন, যৌতুক একটা সামাজিক ব্যাধি, এ ব্যাধিটা সমাজ থেকে যেন চিরতরে নির্মূল হয়ে যায়। মনির আরো বলেন, আমার মতো আর কোন বাবা যেন যৌতুকের কারনে তার মেয়েকে না হারান। সবশেষে মনির হোসেন বলেন, আমার আত্মা সেদিন শান্তি পাবে-যেদিন শুনবো আমার মেয়ের হত্যাকারিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হয়েছে-ফাঁসি হয়েছে।
মন্তব্য করুন