প্রকাশিত: ৯ ঘন্টা আগে, ১১:৩২ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

প্রযুক্তি-দক্ষতার সমন্বয়ে জনসংখ্যাকে সম্পদে রূপান্তর করতে হবে: জাতীয় উৎপাদনশীলতা দিবসে জেলা প্রশাসক

রাজশাহী ব্যুরো
প্রযুক্তি, উদ্ভাবন ও দক্ষতার সমন্বিত প্রয়োগের মাধ্যমে দেশের বিপুল জনসংখ্যাকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর করা সম্ভব হলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি আরও ত্বরান্বিত হবে বলে মন্তব্য করেছেন রাজশাহী জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম।
তিনি বলেন, সীমিত সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমে পণ্য ও সেবা—উভয় খাতেই উৎপাদনশীলতা বাড়ানো সম্ভব। দেশের বিপুল জনগোষ্ঠীকে বোঝা নয়, দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে তাদের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ সম্পদে পরিণত করতে হবে।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) বেলা ১১টায় রাজশাহী জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জাতীয় উৎপাদনশীলতা দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ‘উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিতে উদ্ভাবন, প্রযুক্তি ও দক্ষতার সমন্বয়’ প্রতিপাদ্যে রাজশাহী জেলা প্রশাসন এ সভার আয়োজন করে।
জেলা প্রশাসক বলেন, প্রচলিত ধারণায় শুধু শিল্পপণ্য উৎপাদনকেই উৎপাদনশীলতা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কিন্তু প্রকৃত অর্থে কম সময়ে, কম খরচে ও কম সম্পদ ব্যবহার করে মানসম্মত পণ্য ও সেবা নিশ্চিত করা এবং অপচয় কমানোই উৎপাদনশীলতার মূল লক্ষ্য।
তিনি বলেন, দেশে প্রাকৃতিক ও খনিজ সম্পদের সীমাবদ্ধতা থাকলেও মানুষের বিশাল কর্মশক্তি রয়েছে। অদক্ষ শ্রমশক্তিকে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তিতে পরিণত করা গেলে দেশের অর্থনীতিতে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। একইভাবে দক্ষ কর্মী বিদেশে পাঠানো সম্ভব হলে বর্তমানের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি রেমিট্যান্স অর্জনের সুযোগ তৈরি হবে।
রাজশাহীর অর্থনৈতিক সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে কাজী শহিদুল ইসলাম বলেন, রাজশাহী ‘ম্যাংগো সিটি’ হিসেবে পরিচিত। এ অঞ্চলে কৃষি, মৎস্য ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। আম ও অন্যান্য কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণের জন্য ফুড প্রসেসিং জোন এবং মৎস্যভিত্তিক শিল্প গড়ে তোলা গেলে নতুন কর্মসংস্থানের পাশাপাশি প্রক্রিয়াজাত পণ্য বিদেশে রপ্তানির সুযোগ সৃষ্টি হবে।
তিনি আরও বলেন, হাইটেক পার্ক, পর্যটন ও প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন খাতকে কাজে লাগিয়ে তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব। এ জন্য তরুণদের শুধু চাকরির পেছনে না ছুটে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ নিয়ে উদ্যোক্তা হওয়ার দিকে এগিয়ে আসতে হবে।
আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), অটোমেশনসহ আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে তরুণ প্রজন্মকে যুগোপযোগী প্রশিক্ষণ দিতে হবে। শিল্প ও উৎপাদন খাতে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশে মানসম্মত পণ্য উৎপাদন নিশ্চিত করতে হবে। এতে উৎপাদন ব্যয় কমিয়ে গুণগত মান বজায় রাখা সম্ভব হবে।
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন রাজশাহী বিসিক জেলা কার্যালয়ের উপব্যবস্থাপক মো. আব্দুর রাজ্জাক।
রাজশাহী বিসিক জেলা কার্যালয়ের উপমহাব্যবস্থাপক মো. রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য ও আলোচনায় অংশ নেন রাজশাহী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মো. হাসেন আলী, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোহা. সবুর আলীসহ সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীরা।
এর আগে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে বেলুন ও ফেস্টুন উড়িয়ে জাতীয় উৎপাদনশীলতা দিবস-২০২৬-এর উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম।

মন্তব্য করুন