প্রকাশিত: ৬ ঘন্টা আগে, ১১:৪১ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
বিশেষ প্রতিনিধি
ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের স্থান ও পাকিস্তান সেনাবাহিনীর আত্মসমর্পণের স্থানে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ প্রকল্প বাতিল করে মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী অপশক্তি পাকিস্তানের প্রেসক্রিপশনে পানির ফোয়ারা নির্মাণের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো: আল মামুন স্বাক্ষরিত এক লিখিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে গতকাল বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬) এই প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।
লিখিত প্রতিবাদ লিপিতে বলা হয়েছে যে, "ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণ এবং পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বাহিনীর আত্মসমর্পণের স্থানে স্মৃতিস্তম্ভ না বানিয়ে বরং পানির ফোয়ারা নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সুপরিকল্পিত ভাবে মুছে ফেলার গভীর ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী অপশক্তি পাকিস্তানের প্রেসক্রিপশনে বর্তমান অবৈধ ও অসাংবিধানিক দখলদার ফ্যাসিস্ট বিএনপি সরকারের এধরণের ন্যাক্কারজনক সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ। অবিলম্বে মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী এধরণের ঘৃণিত সিদ্ধান্ত বাতিল করে পূর্বের অনুমোদিত প্রকল্প ও মূল ডিজাইন বাস্তবায়ন করতে হবে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর ৭ মার্চের ভাষণের স্থান ও একাত্তরের পরাজিত অপশক্তি পাকিস্তান সেনাবাহিনীর আত্মসমর্পণের স্থান যথাযথ ভাবে সংরক্ষণের জন্য স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ প্রকল্পের কার্যক্রম চলমান রাখতে হবে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর একাত্তরের পরাজিত স্বাধীনতা বিরোধী অপশক্তিরা পরিকল্পিত ভাবে সারাদেশে মহান মুক্তিযুদ্ধ, একাত্তর, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত ঐতিহাসিক ধানমণ্ডি বত্রিশের বাড়ি, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ভাস্কর্য, স্মারক, ম্যুরাল, জাদুঘর ভেঙ্গে গুঁড়িয়ে দেয়া শুরু করেছিল যা রাষ্ট্রীয় মদদে এখনো চলমান রয়েছে। এমনকি সারাদেশে শত শত বীর মুক্তিযোদ্ধাকে লাঞ্ছিত করা হয়, জুতার মালা গলায় দিয়ে তাদের ওপর হামলার পাশাপাশি মামলা এবং মব করে তাদের কারাগারে পাঠানোর ঘটনাও ঘটেছে। ৫ আগস্টের পর একটানা ৯ দিন ধরে মুক্তিযুদ্ধের ভাস্কর্য ভাঙা হয়েছে দুই হাজারের বেশি। একাত্তরের পরাজিত অপশক্তি পাকিস্তানের দোসর ইউনূস অবৈধ ও অসাংবিধানিক উপায়ে ক্ষমতা দখল করে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচিহ্ন ধ্বংসকারীদের দায়মুক্তি দেন, তারপর বলেন ‘রিসেট’ বাটন চেপে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বদলে ফেলবেন।এখন পর্যন্ত সারাদেশে মুক্তিযুদ্ধের কোনো স্মৃতিচিহ্ন পুননির্মাণ করা হয়নি। বিএনপি সরকারও জঙ্গি সন্ত্রাসীদের গডফাদার ইউনূসের দেখানো পথেই হাঁটছে। এরই ধারাবাহিকতায় এবার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ভাস্কর্যের পরিবর্তে পানির ফোয়ারা স্থাপনের মাধ্যমে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর লজ্জাজনক ইতিহাসকে আড়াল করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এধরণের ন্যাক্কারজনক সিদ্ধান্ত বিএনপি সরকারের পাকিস্তান-প্রেমের ফলাফল। শুধু পানির ফোয়ারা স্থাপনই নয়, এছাড়া বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণের ‘হলোগ্রাফিক থ্রিডি’ উপস্থাপনাতেও পরিবর্তন আনারও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্প বিষয়ে গত ৬ই আগস্ট মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অগ্রগতি প্রতিবেদনে এসব পরিবর্তনের (রিস্কোপিং ও রিপারপসিং) উদ্যোগ তুলে ধরা হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ‘ঢাকাস্থ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে স্বাধীনতা স্তম্ভ নির্মাণ’ নামে প্রকল্পটির কাজ শুরু হয় ২০১৮ সালে। এর মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ২০২৭ সালের জুনে। প্রকল্পের আওতায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণ ও একাত্তরের গণহত্যা ও গণধর্ষণে জড়িত পাকিস্তান সেনাবাহিনীর আত্মসমর্পণের স্থানে দুটি ভাস্কর্য বানানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। কিন্তু ২০২৪ সালের ৫ই আগস্টের পর সেই উদ্যোগ থেমে যায়। যে দুটি স্থানে ভাস্কর্য নির্মাণের কাজ চলছিল, সেসব স্থানে ভাঙচুরও চালানো হয়। এরপর গত বছরের মার্চে জামাত-শিবির পরিচালিত ইউনূসের অবৈধ ও অসাংবিধানিক সরকার জানিয়ে দেয়, সোহরাওয়ার্দী উদ্যোনে ভাস্কর্য দুটি হচ্ছে না। আর এখন এসে ওই দুই স্থানে পানির ফোয়ারা বসানোর উদ্যোগ নিল বিএনপি নেতৃত্বাধীন পাকিস্তান প্রেমী সরকার। মন্ত্রণালয়ের নথি অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত প্রকল্পটির আর্থিক অগ্রগতি ৭৫.৯১ শতাংশ; ভৌত অগ্রগতি ৯৪ শতাংশ। মন্ত্রণালয়ের মতামত তুলে ধরে নথিতে বলা হয়েছে, প্রকল্পের আওতায় থানা নির্মাণ, ৭ই মার্চের ভাষণ ও ১৬ই ডিসেম্বর ১৯৭১ পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর আত্মসমর্পণের ঐতিহাসিক স্থান দুটিতে ভাস্কর্য নির্মাণের পরিবর্তে ওয়াটার ফাউন্টেন স্থাপন করা হবে। এজন্য নকশা পরিমার্জনের কথাও বলা হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণের ‘হলোগ্রাফিক থ্রিডি’ উপস্থাপনার বিষয়বস্তুতে পরিবর্তন আনার কথাও বলা হয়েছে নথিতে। ৭ই মার্চের ভাষণ ও পাকিস্তান সেনাবাহিনীর আত্মসমর্পণের ঐতিহাসিক স্থান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। এ দুটি স্থানের পরিকল্পনা বদলিয়ে সুকৌশলে পাকিস্তানের এজেণ্ডা বাস্তবায়নের অপচেষ্টা চলছে যা মহান মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ ও সংবিধান পরিপন্থী। জিয়াউর রহমান অবৈধভাবে সামরিক বাহিনীকে ব্যবহার করে অস্ত্রের জোরে যখন ক্ষমতা দখল করে তার পরবর্তীতে পাকিস্তানিদের আত্মসমর্পণের স্থানে তিনি বানিয়েছিল শিশু পার্ক আর পুত্র বানাচ্ছে পানির ফোয়ারা। রক্তের উত্তরাধিকারের ধারাবাহিকতা। এটাই বিএনপি' ও জিয়া পরিবারের আসল আদি কৃত্রিম চরিত্র। জিয়া পরিবার এবং বিএনপি নামক দলটি এদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের পবিত্র স্মৃতিকে মুছে দিতে সর্বাত্মক ভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সকল অপকর্মের ইতিহাস সাক্ষ্য প্রমাণ ধ্বংস করে দেওয়াই তাদের প্রধান লক্ষ্য। বিএনপি ও জামাতকে আলাদা করে দেখার কোন সুযোগ নেই। এরা একই মুদ্রার এপিঠ আর ওপিঠ। বিএনপি কখনোই মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের দল অথবা সংগঠন ছিল না, বিএনপি রাজাকারদের পৃষ্ঠপোষক, স্বাধীনতা বিরোধীদের মিলনমেলা, এটি বারবার প্রমাণিত সত্য। এরা সুযোগ পেলেই মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে নতুন নতুন রূপকথার গল্প বানিয়ে বানোয়াট ইতিহাস তৈরি করে নতুন প্রজন্মকে বিভ্রান্ত করার পাশাপাশি জাতির সাথে তামাশা করে। দেশের জনগণ বিএনপি-জামাতের মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী ষড়যন্ত্র আর কখনোই মেনে নিবে না। মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী অপশক্তির পরাজয় নিশ্চিত করতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তির বিজয় সন্নিকটে। দেশবাসীর প্রতি উদাত্ত আহ্বান, দেশ ও জনগণকে রক্ষার জন্য রাজপথে নামার চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিন। একাত্তরের পরাজিত অপশক্তি পাকিস্তানের বাংলাদেশ বিরোধী ষড়যন্ত্র থেকে দেশ ও জনগণকে রক্ষা করতে হবে। মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে রক্ষা করতে হবে। বাংলাদেশকে পাকিস্তান বানানোর গভীর ষড়যন্ত্র রুখে দিতে হবে। যার যার জায়গা থেকে ঐক্যবদ্ধ ভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলুন।"
মন্তব্য করুন