প্রকাশিত: ২২ মিনিট আগে, ১২:২৫ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

জাপানের ২৫ বিলিয়ন ডলারের পোশাক বাজার ধরতে ‘জাপান ডেস্ক’ চালু

বিজনেস ফাইল ডেস্ক
জাপানের ২৫ বিলিয়ন ডলারের বিশাল তৈরি পোশাকের বাজার ধরতে এবং দেশটিতে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় ১ দশমিক ২ বিলিয়ন থেকে ৫ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্যে সুদূরপ্রসারী কৌশল গ্রহণ করেছে পোশাক শিল্পমালিক ও রপ্তানিকারকদের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএ। এর অংশ হিসেবে দীর্ঘ এক বছরের পরিকল্পনার পর আনুষ্ঠানিকভাবে ‘জাপান ডেস্ক’ চালু করা হয়েছে।

গত বুধবার ঢাকার উত্তরায় বিজিএমইএ কমপ্লেক্সে এই ডেস্কের উদ্বোধন করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি। বাংলাদেশের ইতিহাসে নির্দিষ্ট কোনো দেশে রপ্তানি বাড়াতে বিজিএমইএ-তে আলাদা কোনো ডেস্ক খোলার ঘটনা এটিই প্রথম।

নতুন এই জাপান ডেস্ক মূলত জাপানি ক্রেতা ও বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং বাংলাদেশ থেকে আমদানি প্রক্রিয়া সহজ করতে ওয়ান-স্টপ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে। জাপানের বাজারে রপ্তানি বাড়াতে বিজিএমইএ নতুন করে ১০০টি কারখানাকে নির্বাচিত করেছে। এর ফলে আগের ১৭২টি কারখানার পাশাপাশি এখন মোট ২৭২টি কারখানা কেবল জাপানের বাজারের জন্যই ডেডিকেটেড বা সংরক্ষিত থাকবে।

এই কারখানাগুলো জাপানি ব্র্যান্ড যেমন- ইউনিক্লো, মুজি, জিইউ-এর মতো ক্রেতাদের কঠোর মানদণ্ড ও নির্দেশনা মেনে পোশাক তৈরি করবে। উদ্যোক্তাদের স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, জাপানি ক্রেতারা দামের চেয়ে পণ্যের গুণগত মানকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেন, তাই কোয়ালিটিতে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া যাবে না।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশের পোশাক খাত শক্ত অবস্থান তৈরি করলেও জাপানে গত এক যুগ ধরে রপ্তানি ১ থেকে দেড় বিলিয়ন ডলারের বৃত্তেই আটকে আছে। ইপিবির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে জাপানে মোট রপ্তানি ৩ দশমিক ৬৫ শতাংশ কমে ১৩৬ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। ব্যবসায়ীদের মতে, জাপানের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) সই হওয়ার পরও আশানুরূপ রপ্তানি বাড়েনি।

এর মূল কারণ হলো, পোশাক খাতে বাংলাদেশ আগে থেকেই দেশটিতে শুল্কমুক্ত সুবিধা পেয়ে আসছিল, তাই ইপিএ তাৎক্ষণিক কোনো বড় পরিবর্তন আনতে পারেনি। বরং কৌশলগত পরিকল্পনার অভাবেই বিশাল এই বাজারটি এতদিন পুরোপুরি কাজে লাগানো যায়নি।

বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ-এর শীর্ষ নেতারা মনে করেন, বিশাল এই বাজার ধরতে হলে প্রচলিত বাজারের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে পণ্যের বহুমুখীকরণ অত্যন্ত জরুরি। ইউরোপ-আমেরিকার জন্য তৈরি করা গতানুগতিক পোশাকের বদলে জাপানিদের পছন্দ ও চাহিদা অনুযায়ী স্পোর্টস আইটেমসহ নতুন ধরনের পণ্যের উৎপাদন বাড়াতে হবে।

এছাড়া চীন, ভিয়েতনাম বা কম্বোডিয়ার তুলনায় বাংলাদেশের ভৌগোলিক দূরত্ব বেশি হওয়ায় পণ্য পৌঁছাতে সময় বেশি লাগে, যা লিড টাইমের ক্ষেত্রে একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তাই পরিবহন ব্যয় কমানো এবং দ্রুত পণ্য সরবরাহের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও জাপান সরকারের সম্মিলিত কারিগরি সহযোগিতার ওপর জোর দিয়েছেন খাত সংশ্লিষ্টরা।

মন্তব্য করুন