প্রকাশিত: ১ ঘন্টা আগে, ১০:১৬ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
শাহিন, রাজশাহী
শিশুর জন্মের ৪৫ দিনের মধ্যে জন্মনিবন্ধন নিশ্চিত করতে ও পরিবেশ সুরক্ষায় জনসচেতনতা বাড়াতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার (১নং) নওপাড়া ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আজাদ আলী সরদার।
গতকাল রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) ইউনিয়ন পরিষদে দেখা গেছে, জিরো থেকে ৪৫ দিনের মধ্যে কোনো শিশুর জন্মনিবন্ধন সম্পন্ন করা হলে ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে ঐ শিশুর নামে একটি বৃক্ষ উপহার দেওয়া হচ্ছে। চলতি মাসে জন্মনিবন্ধন করতে আসা প্রায় ২০টি শিশুর অভিভাবকদের হাতে জন্মসনদ সহ ফলজ ও বনজ বৃক্ষ তুলে দিয়েছেন চেয়ারম্যান আজাদ ও ইউনিয়ন পরিষদের কর্মকর্তা কর্মচারীরা।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে চেয়ারম্যান আজাদ আলী দৈনিক বিজনেস ফাইলকে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী ৫ বছরে দেশব্যাপী ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে ইউপি এলাকায় ফলজ ও বনজ বৃক্ষ রোপণের পাশাপাশি, শিশুর জন্ম নিবন্ধনে সবাইকে সচেতন করার লক্ষ্যে ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে শিশু জন্মের ৪৫ দিনের ভেতর জন্ম নিবন্ধন করার জন্য আগ্রহী হচ্ছে প্রতিটি পরিবার।
তিনি আরও বলেন, এক শিশু, এক বৃক্ষ’ এমন ভাবনাকে সামনে রেখে নেওয়া এ উদ্যোগে একদিকে শিশুর নাগরিক পরিচয় নিশ্চিত করা হচ্ছে অন্যদিকে পরিবেশ রক্ষার বার্তাও দেওয়া হচ্ছে। জন্মনিবন্ধনের মাধ্যমে একটি শিশুর রাষ্ট্রীয় পরিচয় নিশ্চিত হয়, আর তার নামে লাগানো বৃক্ষটি বেড়ে ওঠার সঙ্গে-সঙ্গে পরিবেশের জন্যও ভূমিকা রাখবে।
তিনি বলেন, আইন অনুযায়ী, শিশুর জন্মের ৪৫ দিনের মধ্যে জন্মসংক্রান্ত তথ্য নিবন্ধকের কাছে দেওয়ার বিধান রয়েছে। ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জন্মনিবন্ধনে অভিভাবকদের উৎসাহিত করতে নওপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সবাই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় কাজ করছে।
সম্প্রতি সময়ে দুর্গাপুরে জন্মনিবন্ধন ও বৃক্ষরোপণকে ঘিরে এমন উদ্যোগের কথা স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনায় এসেছে। এর আগেও নওপাড়া ইউনিয়নের গোপালপুর গ্রামে রায়হান নামের এক নবজাতক শিশুর নামকরণে বৃক্ষরোপণের খবরও প্রকাশিত হয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, একটি শিশুর জন্মকে কেন্দ্র করে জন্মনিবন্ধনের মতো গুরুত্বপূর্ণ নাগরিক দায়িত্বের পাশাপাশি পরিবেশের প্রতি দায়িত্ববোধ তৈরির এ উদ্যোগ সচেতনতা বৃদ্ধি করছে।
বিশেষ করে শিশুর নামে একটি বৃক্ষ বেড়ে ওঠার মধ্য দিয়ে পরিবারটির সঙ্গে গাছটির একটি দীর্ঘমেয়াদি আবেগগত সম্পর্ক তৈরি হওয়ারও সুযোগ রয়েছে।
নওপাড়া ইউনিয়নের চলমান এই উদ্যোগ সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে জন্মের পর দ্রুত জন্মনিবন্ধনের প্রবণতা বাড়ার পাশাপাশি ইউনিয়নজুড়ে বৃক্ষরোপণেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
উল্লেখ্য, জন্মনিবন্ধন একটি শিশুর ভবিষ্যৎ শিক্ষা, সরকারি সেবা ও বিভিন্ন নাগরিক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ নথি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। তাই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শিশুর জন্মনিবন্ধন করতে প্রতিটি পরিবারকে আহ্বান জানান চেয়ারম্যান আজাদ।
মন্তব্য করুন