প্রকাশিত: ১ ঘন্টা আগে, ০২:২২ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি
মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার মহাদেবপুর বাজারে সরকারি নিয়ম ও নির্মাণবিধি উপেক্ষা করে এলজিইডির সড়ক ঘেঁষে আরসিসি পিলার দিয়ে পাকা মার্কেট নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের তীর ঘিওর উপজেলার বালিয়াখোড়া ইউনিয়নের ঢলুন্ডি গ্রামের ব্যবসায়ী মো. বাহাদুর খান (৫৫) ও তাঁর ভাই মো. আক্তার খান (৫৩)-এর বিরুদ্ধে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, মহাদেবপুর বাজার থেকে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কসংলগ্ন এলাকা হয়ে ঝিটকা পর্যন্ত বিস্তৃত এলজিইডির গুরুত্বপূর্ণ সড়কের দুই পাশে দীর্ঘদিন ধরে দোকানপাট ও বিভিন্ন স্থাপনা গড়ে উঠেছে। কোথাও কোথাও সড়কের পাশে তেলের ড্রাম, পণ্যসামগ্রীসহ বিভিন্ন মালামাল রাখা হচ্ছে। এতে ব্যস্ত বাজার এলাকায় যানজটের পাশাপাশি পথচারী ও যানবাহন চলাচলে ভোগান্তি বাড়ছে।
এর মধ্যেই বাহাদুর খান ও আক্তার খান সড়ক ঘেঁষে আরসিসি পিলার স্থাপন করে পাকা মার্কেট নির্মাণ করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সরেজমিনে নির্মাণাধীন স্থাপনার ছাউনি ও সানশেডও সড়কের অত্যন্ত কাছাকাছি দেখা যায়।
স্থানীয়রা বলছেন, গুরুত্বপূর্ণ এ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ, কৃষিপণ্যবাহী যান, রোগী ও শিক্ষার্থীরা চলাচল করেন। সড়কের দুই পাশে স্থাপনা বাড়তে থাকলে ভবিষ্যতে চলাচলের জায়গা আরও সংকুচিত হয়ে জনদুর্ভোগ ও যানজট তীব্র হতে পারে।
নির্মাণের অনুমোদন ও এলজিইডির অনুমতি সম্পর্কে জানতে বাহাদুর খানের ছেলে রুহুল আমিন বলেন,এটা আমাদের ব্যক্তি মালিকানাধীন জায়গা। আমাদের জায়গার ওপরই আমরা তৈরি করেছি।এলজিইডির অনুমতি নেওয়া হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি জানান, অনুমতি নেওয়া হয়নি। ভবন নির্মাণের প্রয়োজনীয় অনুমোদনের বিষয়েও তিনি নিশ্চিত কোনো তথ্য দিতে পারেননি।
শিবালয় উপজেলা এলজিইডি অফিস থেকে জানানো হয়, এলজিইডির রাস্তার পাশে স্থাপনা নির্মাণের ক্ষেত্রে নির্ধারিত সড়ক-সীমা ও প্রযোজ্য নিয়ম মানতে হবে। এলজিইডির অনুমতি ছাড়া নিজের ইচ্ছামতো রাস্তার পাশে মার্কেট নির্মাণের সুযোগ নেই। বিষয়টি খতিয়ে দেখে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শিবালয় উপজেলা নির্বাহী অফিসার মনিষা রানী কর্মকার জানান,বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ব্যক্তিস্বার্থে প্রভাব খাটিয়ে মহাদেবপুর বাজারের গুরুত্বপূর্ণ সড়কের দুই পাশে একের পর এক স্থাপনা গড়ে উঠছে। তাদের দাবি, শুধু আলোচিত মার্কেট নয়, পুরো এলাকায় এলজিইডির সরকারি সড়ক-সীমা নির্ধারণ করে স্থাপনাগুলোর বৈধতা, নির্মাণ অনুমোদন ও জমির অবস্থান যাচাই করা হোক। সরকারি সড়কের সীমানা দখল বা নির্মাণবিধি লঙ্ঘনের প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
মন্তব্য করুন