প্রকাশিত: ৯ ঘন্টা আগে, ১১:৩৭ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

উৎপাদনশীলতা বাড়াতে নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে: এমপি মিলন

রাজশাহী ব্যুরো
দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শফিকুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা ও শিক্ষার মতো মৌলিক চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। এসব চাহিদা পূরণে প্রতিটি খাতে সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) সকালে পবা উপজেলা পরিষদের সভাকক্ষে ‘জাতীয় উৎপাদনশীলতা দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এবারের দিবসের প্রতিপাদ্য—‘উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিতে উদ্ভাবন, প্রযুক্তি ও দক্ষতার সমন্বয়’।
এমপি মিলন বলেন, নাগরিকদের মৌলিক সুবিধা নিশ্চিত করা একটি কার্যকর সরকারি ব্যবস্থার অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য। মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির জন্য উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।
জনকল্যাণমূলক বিভিন্ন উদ্যোগের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পূজার ছুটি একদিন বাড়িয়েছেন। শুক্র ও শনিবারের সঙ্গে ছুটির সমন্বয় করা হলে চাকরিজীবীরা পরিবার ও স্বজনদের সঙ্গে আরও বেশি সময় কাটানোর সুযোগ পাবেন।
রাষ্ট্র সংস্কার প্রসঙ্গে শফিকুল হক মিলন বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত রাষ্ট্রকাঠামোর শিক্ষা, স্বাস্থ্য, শিল্প, কৃষি এবং কৃষকের জীবন-জীবিকাসহ বিভিন্ন খাত ধাপে ধাপে সংস্কার করা হবে। এ ক্ষেত্রে রাষ্ট্র মেরামতের ৩১ দফা রূপরেখা বাস্তবায়নের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘আমরা কোনো প্রতিহিংসা বা প্রতিশোধপরায়ণ হব না। তবে আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হবে।’
‘আয়নাঘর’ প্রসঙ্গে এমপি মিলন বলেন, যারা আয়নাঘর তৈরি করেছিল এবং বিভিন্ন অপকর্মের সঙ্গে জড়িত ছিল, তাদের বিচার হবে। দেশে এখন আর কোনো আয়নাঘরের অস্তিত্ব নেই বলেও দাবি করেন তিনি।
আগামী নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ২০৩১ সালের জানুয়ারি মাসে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা করার চেষ্টা করা হবে। জনগণ যাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবে, তাকে জনগণের প্রত্যাশা ও শর্ত মেনে জনকল্যাণে কাজ করতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে পবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইবনুল আবেদীন বলেন, দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির জন্য উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই। কৃষি, শিল্প ও সেবাসহ প্রতিটি খাতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি দক্ষতা ও কর্মদক্ষতা বৃদ্ধিতে গুরুত্ব দিতে হবে।
তিনি বলেন, সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগ এবং জনগণের সচেতন অংশগ্রহণের মাধ্যমে উৎপাদনশীলতা বাড়িয়ে একটি সমৃদ্ধ ও উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।
আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা বিএনপির সদস্য ও নওহাটা পৌরসভার সাবেক মেয়র শেখ মকবুল হোসেন, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলী হোসেন, সদস্যসচিব সহকারী অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক, যুগ্ম আহ্বায়ক সুলতান আহমেদ, নওহাটা পৌর বিএনপির সভাপতি রফিকুল ইসলাম রফিক, পবা উপজেলা যুবদলের সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক তাইজুল ইসলাম এবং উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আব্দুল লতিফ।
এ ছাড়া বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী এবং বিভিন্ন পর্যায়ের উদ্যোক্তারা সভায় উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা শামসুন্নাহার।

মন্তব্য করুন