প্রকাশিত: ৫ সেপ্টেম্বার, ২০২৬, ১২:৫০ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
পলাশ চন্দ্র দাস
দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের স্বনামধন্য শুভাঢ্যা ইউনিয়নের অন্তর্গত সর্বজনীন শুভাঢ্যা মহাশ্মশান মন্দির ( পাকাচিতা) কমিটির উদ্যোগে (৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬) শুক্রবার পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উপলক্ষে গতবারের ন্যায় এবারও অত্যন্ত ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের সহিত ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী পালিত হয় এবং হাজার হাজার সাধু, গুরু, ভক্তবৃন্দ এবং স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের অংশগ্রহণের মাধ্যমে মঙ্গল শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়।
উক্ত, অনুষ্ঠানটিতে প্রধান অতিথির আসন অলংকৃত করেন মহিলা সংরক্ষিত আসনের এমপি, ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এবং দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা বিএনপি'র সভাপতি এডভোকেট নিপুন রায় চৌধুরী( এমপি)। এছাড়াও, মন্দির কমিটির প্রধান উপদেষ্টা বাবু বিমল চন্দ্র মন্ডল, সংগঠনের সভাপতি বাবু সমীর চন্দ্র ঘোষ, সাধারণ সম্পাদক বাবু বিপ্লব চন্দ্র দাস, সহ-সভাপতি পলাশ চন্দ্র দাস, কমিটির উপদেষ্টা হরেন্দ্রনাথ মজুমদার, বুলু সরকার, এডভোকেট শেখর চন্দ্র দাস, এডভোকেট সুজন চন্দ্র দাস, চন্দন সরকার, ধীমান সরকার, নন্দকিশোর সরকার, সঞ্জয় ঘোষ, সমীর সরকার, বিশ্বনাথ ভূঁইয়া, স্বপন কুমার দে, দিপু চান, গবিন্দ সরকার সহ আরো অনেকে অনুষ্ঠানটিকে সাফল্যমন্ডিত করার জন্য উপস্থিত ছিলেন। তাছাড়া, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের বর্তমান রাজনৈতিক অঙ্গনের শীর্ষ পর্যায়ের অনেক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানটিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এডভোকেট নিপুন রায় চৌধুরী ( এমপি) বলেন - পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের আজকের এই জন্মাষ্টমীতে আমাদের সকলের শপথ এটাই হউক - আমরা সকল হিংসা ও বিদ্বেষ ভুলে গিয়ে, আমরা সমাজকে নিরাপদ করে তোলার জন্য, সকলের ঐক্যবদ্ধভাবে আমাদের সমাজ, আমাদের দেশ, সর্বোপরি আমাদের এই কেরানীগঞ্জকে সকল অন্যায়ের বিরুদ্ধে ও ন্যায়ের প্রতিষ্ঠার পক্ষে এবং সত্যকে প্রতিষ্ঠার জন্য সবাই একসাথে লড়াই করব। তাছাড়া, জাতি, ধর্ম, বর্ণ - নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থেকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে এবং ন্যায়ের পক্ষে কাজ করার আহবান করেন।
এডভোকেট নিপুন রায় চৌধুরী ( এমপি) আরো বলেন - বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সকলের উদ্দেশ্যে বলেছেন,
" ধর্ম যার যার - নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকার সবার "। তাই, এডভোকেট নিপুন রায় চৌধুরী কেরানীগঞ্জের সকল সুশীল সমাজ এবং আলোকিত সচেতন সমাজের সকল ব্যক্তিবর্গকে আহ্বান জানান ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার মাধ্যমে - সকল ধর্মের মানুষের সম-অধিকার এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করে যেতে। যাতে করে , একদিন না একদিন অবশ্যই আমাদের স্বপ্ন বাস্তবে পরিণত হবে বা প্রতিষ্ঠিত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তাছাড়াও, তিনি অত্যন্ত আশ্বস্ততার সহিত কেরানীগঞ্জের সকল সনাতনীদের অত্যন্ত আন্তরিকতার সহিত বলেন - আপনারা নিজেদেরকে কখনোই সংখ্যালঘু ভাববেন না বা বলবেন না। আমরা সকলেই বাংলাদেশী এবং আমরা প্রত্যেকেই আমাদের নিজেদের যোগ্যতা দিয়ে জাতির প্রয়োজনে বা দেশের প্রয়োজনে ঐক্যবদ্ধভাবে আমাদের সকলের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে কাজ করে যাব, এটাই হোক পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উপলক্ষে আমাদের সকলের দৃঢ় শপথ। যাতে করে, আমরা সকল অন্যায়, অত্যাচার ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে এবং ন্যায় প্রতিষ্ঠা ও সত্য প্রতিষ্ঠাকে কেরানীগঞ্জে প্রতিষ্ঠিত করতে পারি।
পরিশেষে, এডভোকেট নিপুন রায়চৌধুরী অত্যন্ত ভক্তি ভরে উক্ত অনুষ্ঠানে উপস্থিত সকলের উদ্দেশ্যে বলেন - পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব তিথি আমাদের বারবার মনে করিয়ে দেয়, দুষ্টের দমন আর সৃষ্টির পালন করার কথা। পৃথিবীতে যখনই অধর্মের অত্যাচার বৃদ্ধি পায় এবং ধর্ম প্রতিষ্ঠা হ্রাস পায় তখনই যুগে যুগে অবতার মহাপুরুষ আবির্ভূত হয়েছেন দুষ্টের দমন আর সৃষ্টের পালন করার জন্য। কাজেই, সেইসব মহান অবতার পুরুষদের জীবন আদর্শ অনুসরণের মাধ্যমে আমাদের সকলেরই উচিত সব সময়ই অন্যায়- অত্যাচারের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিবাদ করতে হবে। যাতে করে, দুষ্টের দমন ও সৃষ্টির পালন হয় এবং সততা, নিষ্ঠা, একাগ্রতা, মনুষত্ববোধ, সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ, সহনশীলতা, জ্ঞান, বিবেক, বৈরাগ্য, মনুষত্ববোধ, পরোপকারিতা, ত্যাগ, মিথ্যা আশ্বাস না দেওয়া, জাত- ধর্মকে বড় করে না দেখে শুভ চিন্তা ও শুভ কর্মের প্রতি আমরণ স্পৃহা, অসৎ লোকের টাকাকে প্রাধান্য না দেওয়ার মন-মানসিকতা সৃষ্টি করা, মনুষত্ববোধকে প্রাধান্য দেওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলার মাধ্যমে কেরানীগঞ্জকে বাংলাদেশের মধ্যে একটি আলোকিত থানায় পরিণত করাটাই হউক আমাদের সকলের দৃঢ় প্রত্যয় এবং প্রত্যাশা। তাহলেই, কেরানীগঞ্জ অদূর ভবিষ্যতে হবে অত্যন্ত সুন্দর একটি নিরাপদ এবং সম অধিকারের জায়গা।
এছাড়াও, উক্ত অনুষ্ঠানটিতে মন্দির কমিটির প্রধান উপদেষ্টা সহ আরো অনেকে বক্তব্য প্রদান করেন।
অনুষ্ঠানটিতে সকলের মত বিনিময়ের শেষে গোলাম বাজার গোপীনাথের আকড়া মন্দির থেকে হাজার হাজার সাধু, গুরু, োভক্তবৃন্দ সহ, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের বর্তমান সরকারের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ সহ, বিপুল সংখ্যক মা-বোনেরা সহ, শিশু, বৃদ্ধ, বণিতা সহ দূর - দূরান্ত থেকে আগত বিপুল সংখ্যক দর্শনার্থী মঙ্গল শোভাযাত্রা ও র্যালির মাধ্যমে পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের গুনকীর্তণ করতে করতে ঐতিহ্যবাহী শুভাঢ্যা সর্বজনীন মহাশ্মশান মন্দিরে গিয়ে পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী অনুষ্ঠানটির পরিসমাপ্তি ঘটে এবং সকলকে প্রসাদ বিতরণ করা হয়।
মন্তব্য করুন