প্রকাশিত: ১ ঘন্টা আগে, ০৮:৫০ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

সাংবাদিক তুহিন হত্যার মামলার দ্রুত বিচারের দাবিতে মানববন্ধন

রেজাউল করিম মজুমদার, গাজীপুর 
সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিন হত্যার এক বছর পূর্তিতে গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তায় মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছেন সাংবাদিকরা। এ সময় তারা তুহিন হত্যা মামলার দ্রুত বিচার সম্পন্ন করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকাল ১০টায় গাজীপুর সিটির চান্দনা চৌরাস্তার ‘তুহিন চত্বরে’ বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম ও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
কর্মসূচিতে তুহিনের ৬ বছর বয়সী বড় ছেলে তৌকিরও উপস্থিত ছিল। বাবার ছবিসংবলিত ব্যানারের সামনে তার নীরব উপস্থিতি উপস্থিত সাংবাদিক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি করে।
প্রদর্শিত ব্যানারে লেখা ছিল, “৭ আগস্ট সাংবাদিক তুহিন হত্যার এক বছর, বিলম্ব নয় দ্রুত বিচার আইনে বিচার করতে হবে।
বক্তারা বলেন, এক বছর আগে গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তায় প্রকাশ্য দিবালোকে সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিনকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। কিন্তু এক বছর পেরিয়ে গেলেও মামলার বিচার শেষ হয়নি, যা সাংবাদিক সমাজের জন্য উদ্বেগের বিষয়। তারা বলেন, সাংবাদিক হত্যা শুধু একজন ব্যক্তি বা একটি পরিবারের ওপর আঘাত নয়, এটি স্বাধীন সাংবাদিকতা ও মানুষের জানার অধিকারের ওপরও আঘাত। প্রকাশ্যে একজন সাংবাদিককে হত্যা করা হলেও যদি বিচার দীর্ঘসূত্রতায় পড়ে থাকে, তবে তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

বক্তারা তুহিন হত্যা মামলাটি দ্রুত বিচার আইনের আওতায় এনে বিচারিক কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করার এবং অপরাধ প্রমাণিত হলে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।

কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান আহমেদ আবু জাফর, বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. তাওহীদ হাসান, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আলাউদ্দিন, ঢাকা জেলা শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক মো. আবুল কাশেম তালুকদার এবং সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির কেন্দ্রীয় নেতা সিকান্দার আলী বাবুল। বক্তারা আরও বলেন, তুহিন হত্যার বিচার সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত সাংবাদিক সমাজের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। তারা সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি মামলাটির দ্রুত নিষ্পত্তিতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।
তাদের ভাষায়, “আজ আমরা শুধু তুহিনের জন্য নয়, দেশের প্রতিটি সাংবাদিকের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও ন্যায়বিচারের দাবিতে দাঁড়িয়েছি। তুহিন হত্যার বিচার নিশ্চিত হলে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিয়েও একটি ইতিবাচক বার্তা যাবে।

দৈনিক প্রতিদিনের কাগজের সম্পাদক ও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ সেল বাংলাদেশের চেয়ারম্যান মো. খায়রুল আলম রফিক বলেন, “বাংলাদেশে বহু সাংবাদিক হত্যার বিচার হয়নি। তবে আসাদুজ্জামান তুহিন হত্যা মামলায় যেভাবে দ্রুত সাক্ষ্যগ্রহণ ও বিচারিক কার্যক্রম এগোচ্ছে, তা আশাব্যঞ্জক। এ মামলার বিচার সম্পন্ন হলে এটি সাংবাদিক হত্যা মামলার বিচারে একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

মানববন্ধন শেষে সাংবাদিকরা দ্রুত বিচার নিশ্চিত করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে স্লোগান দেন এবং বলেন, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন চলবে।

মন্তব্য করুন