প্রকাশিত: ১ ঘন্টা আগে, ০৯:৫৮ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
স্টাফ রিপোর্টার
আওয়ামীলীগের আমলে সুবিধা ভোগী জনতা ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মজিবুর রহমান ৫ আগস্টের পর জনতা ব্যাংকে নিয়োগ পান।খোলস পাল্টানোর এই কারিগর এখন সেজেছেন বিএনপির হাইকমান্ডের লোক।
জানা যায় ,ব্যাংকের খেলাপি ঋণ আদায়ে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি অর্জিত না হলেও বছরজুড়ে কর্মকর্তাদের ওপর বিভিন্ন লক্ষ্যমাত্রা (টার্গেট) পূরণের চাপ বাড়ানো হয়েছে। এতে কর্মকর্তাদের কর্মস্পৃহা, মনোবল ও কর্মপরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এদিকে দুবাই শাখা লোকসানে বন্ধ রয়েছে ,তার জন্য মূলত এমডির ব্যর্থতাকে দায়ী করেছেন ব্যাংক কর্মকর্তাগন।
আরও জানা যায়, বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মুজিবুর রহমান দায়িত্ব গ্রহণের পর খেলাপি ঋণ আদায়ে প্রত্যাশিত গতি আসেনি। তাদের ভাষ্য, বর্তমানে ব্যাংকের বিপুল পরিমাণ ঋণ খেলাপি অবস্থায় রয়েছে, যা ব্যাংকের আর্থিক স্থিতিশীলতার জন্য উদ্বেগজনক।
বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক অতীতে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। জনতা ব্যাংকে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই কর্মকর্তাদের ওপর অতিরিক্ত প্রশাসনিক চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে।
বিভিন্ন ব্যবস্থাপক সম্মেলনে শাখা ব্যবস্থাপকদের প্রতি অসম্মানজনক আচরণ করা হয়েছে এবং নিম্ন পারফরম্যান্সের অজুহাতে বদলি কিংবা ব্যবস্থাপকের দায়িত্ব থেকে অপসারণের ঘটনা নিয়মিত ঘটেছে। এতে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে ভীতি, অনিশ্চয়তা ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।
তাছাড়া,বছরজুড়ে আমানত সংগ্রহে উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও কর্মকর্তাদের জন্য কোনো কার্যকর আর্থিক প্রণোদনা বা উৎসাহমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। একই সঙ্গে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৪ কাট-অফ তারিখভিত্তিক নিয়মিত পদোন্নতিও বাস্তবায়ন করা হয়নি।
জনতা ব্যাংক সূত্রে জানা যায় ২০২৬ সালে এসে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের নির্দেশনার ব্যাখ্যা দেখিয়ে ২০১৯ সালের সুপারনিউমেরারি পদোন্নতি নিয়মিতকরণের অজুহাতে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৪ কাট-অফ ভিত্তিক নিয়মিত পদোন্নতি বাস্তবায়ন করা হয়নি। এতে দীর্ঘদিন ধরে পদোন্নতির অপেক্ষায় থাকা কর্মকর্তাদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
অন্যান্য রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের অর্গানোগ্রাম অনুমোদিত হলেও জনতা ব্যাংকের অর্গানোগ্রাম এখনো অনুমোদন পায়নি।
এ বিষয়ে ব্যবস্থাপনার কার্যকর উদ্যোগের অভাব রয়েছে, যার ফলে পদোন্নতি প্রক্রিয়াও দীর্ঘসূত্রতার মধ্যে পড়েছে।এমডি সচিবালয় সূত্র জানা যায় অর্গানোগ্রাম অনুমোদনের জন্য এমডি অনিচ্ছুক।অর্গানোগ্রাম অনুমোদন হলেই কর্মকর্তাদের পদোন্নতি দিতে কর্মকর্তাদের চাপ আসবে, এই কৌশলে এমডি নিজে কোন উদ্যোগ না নিলেও মন্ত্রণালয়ের এখাতিরাধীন বলে দায় চাপিয়ে যাচ্ছেন মন্ত্রণালয়ের উপর। জানা যায় জনতা ব্যাংকের ৩১ ডিসেম্বর ২০২৪ ও ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ কাট অফ ডেট ভিত্তিক পদোন্নতি দেয়া হয়নি। এতে প্রায় ৮ হাজার কর্মকর্তা পদোন্নতি জন্য অপেক্ষমাণ।
উচ্চ সুদে আমানত সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের ফলে ব্যাংকের তহবিল ব্যয় বেড়েছে এবং ব্যাংকের আর্থিক চাপও বৃদ্ধি পেয়েছে।
ব্যাংকে বদলি প্রক্রিয়া নিয়ে নানা অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে জাতীয়তাবাদী এক নেতার মাধ্যমে বদলি বাণিজ্য , ইন্সুরেন্স কমিশন ও পছন্দের লোকদের বিভিন্ন কাজের দরপত্র ও সুদ মওকুফ করে কোটি কোটি টাকা অর্জন করেছেন।
জানা যায় গত ২৪ ও ২৫ জুলাই এমডি এক ক্ষুদে বার্তায় সকল কর্মকর্তাদের ছুটি বাতিল করে অফিস করতে বাধ্য করেছেন। শুধু তাই নয় দীর্ঘ ৬ মাস ধরে স্টাফ হাউজ বিল্ডিং লোন বন্ধ রেখে শত শত কর্মকর্তার আর্থিক ক্ষতির মুখে ফেলেছেন। বায়না করে অনেক কর্মকর্তা জমি কিনতে পারেনি।
সবকিছু মিলিয়ে জনতা ব্যাংকের বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালকের নেতৃত্ব নিয়ে কর্মকর্তাদের একাংশের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছে।
এ বিষয়ে জনতা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সাথে যোগাযোগ করা যায়নি। তবে অর্গানোগ্রাম সংশ্লিষ্ট এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন ব্যবস্থাপনা পরিচালকের আগ্রহ থাকলে অবশ্যই দ্রুত অর্গানোগ্রাম অনুমোদন সম্ভব। অন্যান্য ৩ ব্যাংকের অর্গানোগ্রাম অনুমোদন হয়েছে, তারা ২ বছরের পদোন্নতি এই বছর দিয়ছে। জনতা ব্যাংকের অর্গানোগ্রাম অনুমোদনহীন থাকবে এটা দুঃখজনক। অর্গানোগ্রাম ছাড়া একটা ব্যাংক চলতে পারে না। পদোন্নতি বঞ্চিত কর্মকর্তাদের দাবি হয় অর্গানোগ্রাম অনুমোদনের মাধ্যমে পদোন্নতি দ্রুত বাস্তবায়ন করা হোক, না হয় এমডি পদত্যাগ করুক। একদিকে জানা যায় সকল ব্যাংকের পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে জেনে কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে যা এক সময় এমডি কে পদত্যাগ করতে বাধ্য করতে যেকোন সময় এমডি চলে যেতে হতে পারে।
মন্তব্য করুন