প্রকাশিত: ১ ঘন্টা আগে, ১০:১৯ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

নিকলীতে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬ পালিত

খাইরুল ইসলাম, নিকলী প্রতিনিধি
"জুলাই চেতনায় গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ"— এই প্রতিপাদ্যকে ধারণ করে কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে যথাযোগ্য মর্যাদা, গভীর শ্রদ্ধা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬ পালিত হয়েছে।
বুধবার (৫ আগস্ট) সকাল ১১টায় নিকলী উপজেলা পরিষদ হলরুমে আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছাঃ রেহেনা মজুমদার মুক্তি। 
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ আলতাফ হোসেন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন নিকলী উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আতিকুল ইসলাম তালুকদার (হেলিম), বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট মানিক মিয়া, নিকলী মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের আহ্বায়ক মোঃ মোজাম্মেল হক আবীর, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ডা. কফিল উদ্দিন আহমেদ, উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মোঃ আবুল হোসেন, নিকলী উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শামিম আল মামুন, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মোঃ রফিকুল ইসলাম লিটন, জুলাই যোদ্ধা শিহাব আল হেবিন, বায়েজিদ বোস্তামী, মোজাম্মেল হোসেন, শহীদ স্মরণিকা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ শাফি উদ্দীন, নিকলী জিসি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোঃ মহসিন এবং নিকলী মুক্তিযোদ্ধা সরকারি কলেজের প্রভাষক মোঃ জামরুল ইসলাম।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ আবদুস সামাদ, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোঃ আসিফ ইমতিয়াজ মনির, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. শাহ মোহাম্মদ রিমান, নিকলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ শফিকুল ইসলাম, উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা মোছাঃ খাদিজা খাতুন, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ আবু সিদ্দিক মিয়াসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, জুলাই যোদ্ধা এবং সুধীজন।
বক্তারা বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের ইতিহাসে গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার, ভোটাধিকার, মানবিক মর্যাদা ও সাংবিধানিক অধিকারের প্রশ্নে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। আন্দোলনের সময় যারা জীবন উৎসর্গ করেছেন, তাঁদের আত্মত্যাগ জাতির জন্য চিরস্মরণীয়। সেই রক্তঋণ কখনো পরিশোধ করার নয়; বরং আইনের শাসন, জবাবদিহিতা, সুশাসন, বৈষম্যহীন সমাজ এবং ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়েই শহীদদের প্রতি প্রকৃত সম্মান জানানো সম্ভব।
দিবসটি উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসন বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করে। উপজেলা মাধ্যমিক ও প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের তাৎপর্য নিয়ে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দিবসটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
দিবসটি উপলক্ষে নিকলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীদের জন্য উন্নত খাবার পরিবেশন করা হয়।এছাড়া ৫ আগস্ট বাদ আসর উপজেলার মসজিদ, মন্দির ও অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে শহীদদের রুহের মাগফিরাত এবং আহতদের সুস্থতা কামনায় বিশেষ দোয়া ও প্রার্থনার আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সকল শহীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন এবং জুলাই যোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়।
বক্তারা দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, "শহীদদের আত্মত্যাগের স্মৃতি বুকে ধারণ করে গণতন্ত্র, ভোটাধিকার, ন্যায়বিচার, আইনের শাসন ও জনগণের সাংবিধানিক অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে। শহীদদের স্মরণে, জুলাই যোদ্ধাদের সম্মানে—গণতন্ত্রের পথে, জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রত্যয়ে এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ।"

মন্তব্য করুন