প্রকাশিত: ১ ঘন্টা আগে, ১০:০৭ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

শহীদ পরিবারের পাশে থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত, বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়

রাজশাহীতে গভীর শ্রদ্ধা ও রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় পালিত জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস

ব্যুরো চিফ, রাজশাহী
গভীর শ্রদ্ধা, ভাবগাম্ভীর্য ও রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় রাজশাহীতে পালিত হয়েছে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬। দিবসটি উপলক্ষে বুধবার (৫ আগস্ট) সকাল ৯টায় মহানগরীর সিএন্ডবি মোড়ে অবস্থিত জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা নিবেদন করেন রাষ্ট্রের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, শহীদ পরিবারের সদস্য, জুলাই যোদ্ধা এবং সর্বস্তরের মানুষ।
শ্রদ্ধা নিবেদনকারীদের মধ্যে ছিলেন ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু, এমপি, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন, রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ড. আ ন ম বজলুর রশীদ, জুলাই শহীদ সাকিব আনজুমের পিতা মো. মাইনুল হক ও পরিবারের সদস্যরা, রাজশাহী জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম, রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির, রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মো. আশিক সাঈদ, রাজশাহী জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট এরশাদ আলী ঈশাসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধিরা এবং জুলাই যোদ্ধারা।
পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত, আহত জুলাই যোদ্ধাদের দ্রুত সুস্থতা এবং দেশের শান্তি, সমৃদ্ধি ও অব্যাহত অগ্রগতি কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
এ সময় ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের আত্মত্যাগ জাতির ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাদের স্বপ্নের বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে। তিনি বলেন, সরকার শহীদ পরিবারের পাশে রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। আহতদের চিকিৎসা, পুনর্বাসন এবং শহীদ পরিবারের দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতা যে আকাঙ্ক্ষা নিয়ে জীবন উৎসর্গ করেছিলেন, সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। একটি সুখী, সমৃদ্ধ ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়াই আমাদের অঙ্গীকার।”
অনুষ্ঠানে আবেগঘন বক্তব্যে জুলাই শহীদ সাকিব আনজুমের বাবা মো. মাইনুল হক বলেন, “আমি আমার সন্তান হত্যার বিচার চাই। যারা আমার সন্তানকে হত্যা করেছে, তাদের দ্রুত বিচারের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হোক। আমি চাই, আর কোনো বাবা-মাকে যেন আমার মতো সন্তানের লাশ কাঁধে নিতে না হয়।”
রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার ও আহতদের প্রতি সরকারের দায়িত্ববোধ অব্যাহত রয়েছে। তিনি বলেন, সরকারপ্রধান তারেক রহমান নিয়মিত শহীদ পরিবার ও আহতদের খোঁজখবর নিচ্ছেন এবং তাদের কল্যাণে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করছেন। পাশাপাশি দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামে শহীদ ও আহতদের প্রতিও সরকার সমান গুরুত্ব দিচ্ছে। রাজশাহী সিটি করপোরেশনও শহীদ পরিবার ও আহতদের পাশে থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।
এদিকে সকাল থেকেই বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা হাতে পুষ্পস্তবক নিয়ে শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে সমবেত হন। তারা একে একে ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদনের মাধ্যমে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বীর শহীদদের স্মরণ করেন। পুরো এলাকা জুড়ে ছিল শোক, শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতার আবহ। দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে উপস্থিত বক্তারা শহীদদের আত্মত্যাগের আদর্শ ধারণ করে একটি ন্যায়ভিত্তিক, গণতান্ত্রিক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গঠনের প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করেন।

মন্তব্য করুন