প্রকাশিত: ১১ সেপ্টেম্বার, ২০২৬, ০৮:১২ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

নিশান শুভ্র’র সুর ও সঙ্গীতে পূজার নতুন গান ‘মা দুর্গা এলো রে’

বাপ্পি লাহিড়ীর সাথে নিশান শুভ্র

বিনোদন প্রতিবেদক
শারদীয় দুর্গোৎসবের আবেগ, নস্টালজিয়া ও বাঙালির শিকড়ের অনিবার্য টানকে সুর ও কথার মায়াবী বিন্যাসে ধারণ করে আসছে নতুন পূজার গান ‘মা দুর্গা এলো রে’। উমার বাপের বাড়ি প্রত্যাবর্তনের চিরায়ত পৌরাণিক আখ্যানকে অবলম্বন করে নির্মিত গানটিতে প্রতিফলিত হয়েছে ঘরে ফেরার আনন্দ, আপনজনের সান্নিধ্যের আকুলতা এবং বাঙালির ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির প্রতি নিবিড় অনুরাগ।দুর্গাপূজা বাঙালির কাছে নিছক ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান নয়; এটি আবেগ, স্মৃতি, নস্টালজিয়া ও পারিবারিক বন্ধনের এক অনন্য সমন্বয়। সেই চিরন্তন অনুভূতিকে সমকালীন সংগীতের ভাষায় রূপ দেওয়ার প্রয়াস রয়েছে ‘মা দুর্গা এলো রে’-তে নতুন প্রজন্মের শ্রোতাদের রুচি ও শ্রুতিবোধকে বিবেচনায় রেখে গানটির সংগীতায়োজনে ঐতিহ্যবাহী শারদীয় আবহের সঙ্গে আধুনিক সুরের সুনিপুণ সংমিশ্রণ ঘটানো হয়েছে। গানটিতে কণ্ঠ দিয়েছেন কণ্ঠশিল্পী অন্বেষা। বাঙালির সর্ববৃহৎ উৎসবকে কেন্দ্র করে নির্মিত এমন একটি গানে কণ্ঠ দিতে পেরে উচ্ছ্বসিত তিনি। তাঁর কণ্ঠে মায়ের আগমন, ঘরে ফেরার আকুলতা এবং শারদীয় উচ্ছ্বাস নতুন মাত্রা পাবে—এমন প্রত্যাশাই সংশ্লিষ্টদের। ‘মা দুর্গা এলো রে’-এরসুর ও সংগীত পরিচালনা করেছেন নিশান শুভ্র। গানটির কথা লিখেছেন উদয় শঙ্কর দুর্জয়। তাঁদের সম্মিলিত সৃজনপ্রয়াসে পূজার চিরপরিচিত আবেগ ও বাঙালিয়ানা অক্ষুণ্ণ রাখার পাশাপাশি গানটিকে সমকালীন শ্রোতাদের শ্রুতিচর্চার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ করে তোলার প্রয়াস নেওয়া হয়েছে। গানটির অন্যতম আকর্ষণ এর নান্দনিক দৃশ্য্যায়ন। পূজার নগরী কলকাতার বিভিন্ন লোকেশন ও শারদীয় উৎসবের আবহে গানটির চিত্রায়ণ সম্পন্ন হয়েছে। নগরীর অলিগলি, উৎসবের বর্ণিলতা, ঢাকের নিনাদ, মণ্ডপের আলোকসজ্জা এবং শারদীয় পরিবেশের বিচিত্র অনুষঙ্গ ধারণ করা হয়েছে এর দৃশ্যপটে।ফলে শ্রুতির পাশাপাশি দৃশ্যের নান্দনিকতাও দর্শককে ফিরিয়ে নিতে পারে কলকাতার চিরচেনা পূজার আবহে। তবে গানটির পরিক্রমায় সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায় লন্ডনে এর প্রিমিয়ার। কলকাতার মাটিতে চিত্রায়িত একটি পূজার গান যখন হাজার মাইল দূরের লন্ডনে প্রবাসী বাঙালিদের সামনে আত্মপ্রকাশ করে, তখন তা আর নিছক সংগীতের আনুষ্ঠানিক প্রকাশে সীমাবদ্ধ থাকে না; বরং দুই ভূখণ্ডে বিস্তৃত বাঙালির সাংস্কৃতিক সত্তা ও আবেগের মধ্যে এক অনির্বচনীয় সেতুবন্ধন রচনা করে। প্রবাসে বসবাসকারী বাঙালির কাছে দুর্গাপূজা মানেই শৈশবের স্মৃতিমেদুর দিন, কলকাতার পাড়ার পূজা, ঢাকের নিনাদ, মণ্ডপের আলোকছটা, নতুন পোশাক এবং আপনজনকে ঘিরে উৎসবের অনাবিল উচ্ছ্বাস। ভৌগোলিক দূরত্ব তাঁদের সেই আবেগ থেকে বিচ্ছিন্ন করতে পারে না। বরং দূরত্বের কারণে শিকড়ের প্রতি টান আরও গভীর হয়।‘মা দুর্গা এলো রে’ সেই স্মৃতিমেদুরতাকেই নতুন করে উসকে দিতে চায়। কলকাতা থেকে লন্ডন—‘মা দুর্গা এলো রে’-এরএই অভিযাত্রা তাই নিছক একটি গানের প্রকাশ-পর্বনয়; এটি বাঙালির সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার, শিকড়ের টান এবং অভিন্ন আবেগের এক তাৎপর্যময় প্রতিচ্ছবি। ভৌগোলিক ব্যবধান যতই বিস্তৃত হোক, দুর্গোৎসবের আবেগে বাঙালি যে আজও একই অদৃশ্য বন্ধনে আবদ্ধ—এই গান যেন তারই সুরেলা স্বাক্ষর। এবারের দুর্গোৎসবে ভারত ও লন্ডনের বাঙালি শ্রোতাদের কাছে গানটি পৌছে শারদীয় আবহকে আরও প্রাণময় করে তুলবে—এমন প্রত্যাশাই সংশ্লিষ্টদের। ‘মা দুর্গা এলো রে’ হয়তো সেই চিরচেনা আহ্বানটিই নতুন সুরে উচ্চারণ করবে—মা আসছেন, আর তার সঙ্গে ফিরে আসছে বাঙালির বহুকালের আবেগ, স্মৃতি ও ঘরে ফেরার অনির্বচনীয় আনন্দ।

মন্তব্য করুন