প্রকাশিত: ১ ঘন্টা আগে, ১২:৫৪ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

ওমানকে ট্রাম্পের বোমা হামলার হুমকি

বিজনেস ফাইল ডেস্ক
ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনের আলোচনার পথে ওমান যদি ‘বাধা হয়ে দাঁড়ায়’ তবে মিত্র দেশটিতে বোমা হামলা চালানো হবে বলে হুমকি দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প; জানিয়েছে ফক্স নিউজ।
হরমুজ প্রণালি খুলতে তেহরানের সঙ্গে পৃথকভাবে আলোচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র ও ওমান। বিশ্ব অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এ জলপথটি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের যুদ্ধের মধ্যে প্রায় ছয় মাস ধরে কার্যত বন্ধ হয়ে আছে।

ফক্স নিউজের এক সাংবাদিক জানিয়েছেন, ফোনে একটি সাক্ষাৎকার দেওয়ার সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ওমানকে হুমকিটি দেন, সঙ্গে খিস্তিও করেন।

সোমবার এর আগে ইরানি কর্মকর্তারা জানান, তারা ওমানের সঙ্গে একটি চুক্তি চূড়ান্ত করার কাছাকাছি রয়েছেন। এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের মেয়াদোত্তীর্ণ হতে চললেও দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনার ভবিষ্যৎ অস্পষ্ট হয়ে রয়েছে।

সোমবার হোয়াইট হাউজের ওভাল দপ্তরে ট্রাম্পকে বিবিসি নিউজ জিজ্ঞেস করে, তিনি সমঝোতা স্মারকের সময়সীমা বাড়ানোর চেষ্টা করবেন কি না। উত্তরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, “না।”

ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে যৌথ হামলা চালিয়ে যুদ্ধ শুরু করার পর থেকে তেহরান কার্যকরভাবে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে রেখেছে। বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ তেল ও গ্যাস সরবরাহের এ জলপথটি ফের খোলা দুপক্ষের আলোচনার একটি প্রধান বিষয়।

হরমুজ প্রণালির দক্ষিণাংশ ওমানের সীমান্তে। দেশটি জানিয়েছে, তারা ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের ক্ষেত্রে একটি নিরপেক্ষ দেশ। তারপরও ইরান দেশটিতে বেশ কয়েকবার আঘাত হেনেছে। ওমান এখন হরমুজ প্রণালি খোলার জন্য তেহরানের সঙ্গে আলোচনায় একটি প্রধান ভূমিকা পালন করছে।

হরমুজ প্রণালি খোলার বিষয়টি নিশ্চিত করতে ওয়াশিংটন তার নিজস্ব প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ফক্সের সাংবাদিক ট্রে ইংস্ট ট্রাম্পকে উদ্ধৃত করে বলেছেন, “পথে যদি ওমান বাধা হয়ে দাঁড়ায়, তাহলে আমরা তাদের ওপর ভয়াবহ বোমা হামলা চালাবো।”

তার চুক্তির আকাঙ্ক্ষার পথে কী ধরনের বিষয় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে ট্রাম্প মনে করেন, সেটি পরিষ্কার হয়নি।

ফক্সকে দেওয়া ওই সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প আরও দাবি করেছেন যে, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাকচ্যানেলে সরাসরি যোগাযোগ আছে। আইআরজিসি ইরানের একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক শক্তি।

আইআরজিসির এক মুখপাত্র ‘যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ব্যাকচ্যানেলে তাদের সরাসরি যোগাযোগ আছে’, ট্রাম্পের এমন দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন।

ইরানের বার্তা সংস্থা তাসনিমকে আইআরজিসির এই মুখপাত্র বলেছেন, “আমেরিকানদের সঙ্গে আইআরজিসির কর্মকর্তাদের কোনো ধরনের আলোচনা চলছে না। আর ট্রাম্পের এই মিথ্যা কেবল সেই বিভ্রম ও দুঃস্বপ্নের ফল, যা তিনি যুদ্ধে পরাজয় ও চরম হতাশার কারণে ভোগ করছেন।”

মন্তব্য করুন