প্রকাশিত: ৩ ঘন্টা আগে, ০১:৩৮ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

তৃণমূল নেতা আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

বিজনেস ফাইল ডেস্ক
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার সাবেক ডেপুটি স্পিকার, তৃণমূল নেতা আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

রোববার সকালে বীরভূমের রামপুরহাটে নিজের বাড়ি লাগোয়া তৃণমূল কংগ্রেসের কার্যালয় থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।

আনন্দবাজার লিখেছে, সেখানে একটি ‘সুইসাইড নোট’ও উদ্ধার করা হয়েছে, যেখানে রাজনীতিতে আসা নিয়ে আক্ষেপ করেছেন আশিস। পরিবারের সদস্যদের কাউকে ভবিষ্যতে রাজনীতিতে না জড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন।

তৃণমূলের প্রবীণ নেতা আশিস ২০০১ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত টানা রামপুরহাটের বিধায়ক ছিলেন। তৃণমূল কংগ্রেসের শুরুর দিন থেকে দলের সঙ্গে থাকা এ রাজনীতিক মমতার মন্ত্রিসভাতে একাধিকার ঠাঁই পেয়েছিলেন। একসময় স্কুলশিক্ষামন্ত্রী এবং কৃষিমন্ত্রীর দায়িত্ব সামলেছেন তিনি।

এবারও বিধানসভা ভোটে রামপুরহাট কেন্দ্রে প্রার্থী হয়েছিলেন। তবে তিনি এবার আর জিততে পারেননি।

দেড় দশকের তৃণমূল কংগ্রেস সরকারকে হটিয়ে গত মে মাসে প্রথমবার সরকার গঠন করে পশ্চিমবঙ্গ বিজেপি। এর মধ্যে তুমুল চাপের মুখে পড়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস। দলটির নেতাদের অনেকেই গ্রেপ্তার হয়েছেন।

তৃণমূলে তৈরি হয়েছে ‘বিদ্রোহী’ গোষ্ঠী। তারা দাবি করেছেন, তারাই আসল তৃণমূল। আর তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তারা পরামর্শদাতা হিসাবে থাকার আহ্বান জানাচ্ছেন।

জয়ী বিধায়কদের বেশিরভাগই মমতা ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্ব অস্বীকার করে নাম লিখিয়েছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে। ভোটে হারার পর আশিসকে সক্রিয় রাজনীতিতে সেভাবে দেখা যাচ্ছিল না।

আন্দবাজার লিখেছে, বীরভূমের তৃণমূল কংগ্রেস নেতা অনুব্রত মণ্ডলও ‘ভালো তৃণমূল’ শিবিরে যোগ দেন। তবে আশিস ছিলেন অনুব্রতের বিরোধী শিবিরে।

ক্ষমতার পালাবদলের আগে অনুব্রত মণ্ডল বীরভূম জেলা তৃণমূলের সভাপতি ছিলেন, তখন তার সঙ্গী ছিলেন আশিস। অনুব্রতের কারণে জেলার রাজনীতিতে তার খুব বেশি উত্থানের সুযোগ ছিল না।

চিরকুটে যা লেখা

আশিসের দেহের সঙ্গে যে ‘সুইসাইড নোট’ পাওয়া গিয়েছে, সেখানে দাবি করেছেন—তিনি কোনো দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত নন। দলের অন্যায়কে মেনে নিতে না পারলেও তিনি কখনও প্রতিবাদ করতে পারেননি।

আশিস লিখেছেন, “ছাত্রাবস্থা থেকেই রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। কোনও দিনই কোনও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত হইনি। ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক হয়েছি বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ে। সেখানেও কোনও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত হইনি। রাজনৈতিক বাগ্‌বিতণ্ডা হয়েছে। কখনও শত্রুতার রূপ নেয়নি। সর্বদা সব দলীয় অন্যায়কে মেনে নিতে না পারলেও প্রতিবাদ করতে পারিনি। সারাজীবন এক পয়সা কোনও কাজের বিনিময়ে নিইনি।”

শিক্ষকতার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন আশিস। মৃত্যুর আগে লেখা চিঠিতে ছাত্রছাত্রীদেরও স্মরণ করেছেন প্রবীণ নেতা। লিখেছেন, “সারা জীবন শিক্ষকতা করেছি। কোনও দিন ক্লাস ফাঁকি দিইনি। স্পেশাল ক্লাস নিয়েছি। ছাত্রদের অনেককে বিনা পয়সায় পড়িয়েছি। ওদের প্রচুর ভালবাসা পেয়েছি।”

এরপর পরিবারের সদস্যদের নাম করে করে তাদের শান্ত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন আশিস। শেষে লিখেছেন, তার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়। চিঠিতে রাজনীতিতে যুক্ত কারও নাম লেখেননি, সরাসরি কারও বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ আনেননি।

মন্তব্য করুন