প্রকাশিত: ৫ ঘন্টা আগে, ০৯:০২ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
রাজশাহী ব্যুরো
নাগরিকদের মধ্যে কোনো ধরনের বৈষম্য না করে জনগণের প্রত্যাশা ও আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী দায়িত্ব পালনের জন্য পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, পেশাগত ও ব্যক্তিগত জীবনে অন্যায়, পক্ষপাতিত্ব ও বৈষম্যের কোনো চর্চা করা যাবে না। পেশাদারিত্ব, নিরপেক্ষতা ও মানবিক আচরণের মাধ্যমে জনগণের আস্থা অর্জন করে পুলিশকে প্রকৃত অর্থেই ‘জনগণের পুলিশ’ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকালে রাজশাহীর সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমির ঐতিহাসিক প্যারেড গ্রাউন্ডে ২৭তম শিক্ষানবিশ সার্জেন্ট ও ৪৩তম ক্যাডেট সাব-ইন্সপেক্টর (২০০৬ ব্যাচের) ছয় মাস মেয়াদি মৌলিক প্রশিক্ষণের সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পুলিশের কাছে জনগণের প্রত্যাশা অনেক। তাই সব শ্রেণি-পেশার মানুষের প্রতি আন্তরিক ও দায়িত্বশীল হতে হবে। ভয়ভীতি ও পক্ষপাতিত্বের ঊর্ধ্বে থেকে জনগণকে আইনি সেবা ও নিরাপত্তা দিতে হবে। মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে সেবা প্রদানের মাধ্যমে আস্থা অর্জন করতে হবে। জনগণের জন্য কাজ করেই তাদের হৃদয় জয় করতে হবে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন ও জনমনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনাকে সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, অতীতের সরকারের আমলে ক্ষতিগ্রস্ত পুলিশ বাহিনীকে পুনর্গঠন করে দক্ষ, আধুনিক, মানবিক ও জনসেবামুখী বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার বহুমুখী পদক্ষেপ নিয়েছে। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন, জনবল বৃদ্ধি, যানবাহন ক্রয়, উপযুক্ত প্রশিক্ষণ, অবকাঠামো নির্মাণ এবং প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহের কার্যক্রম চলছে।
তিনি আরও বলেন, আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে দুর্ব্যবহার, পক্ষপাতিত্ব কিংবা পেশিশক্তির পরিবর্তে পেশাদারিত্ব, দক্ষতা ও মানবিক পুলিশিংকে প্রাধান্য দিতে হবে। সংবিধান ও প্রচলিত আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে নিরপরাধ মানুষের অধিকার ও মর্যাদা রক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।
বর্তমান সময়ে অপরাধের ধরন ও চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সাইবার অপরাধ, অনলাইন জালিয়াতি, আর্থিক প্রতারণা, মাদকসংক্রান্ত অপরাধ, মানব পাচার ও সংঘবদ্ধ অপরাধ মোকাবিলা পুলিশের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। এসব অপরাধ দমনে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, বৈজ্ঞানিক তদন্ত, তথ্য বিশ্লেষণ ও ডিজিটাল ফরেনসিক কার্যক্রম আরও জোরদার করতে হবে।
নবীন পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, পুলিশের পোশাক ও দায়িত্বকে সাধারণ চাকরি হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না। জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করার মহান অঙ্গীকার নিয়েই দায়িত্ব পালন করতে হবে। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনসহ পুলিশের বিভিন্ন বিশেষায়িত ইউনিটে কাজ করার সুযোগ রয়েছে। তবে কর্তব্যে অবহেলা, অনৈতিক কর্মকাণ্ড ও শৃঙ্খলাভঙ্গের ক্ষেত্রে কঠোর শাস্তির বিধানও কার্যকর থাকবে।
অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্যারেড পরিদর্শন ও অভিবাদন গ্রহণ করেন। পরে বিভিন্ন বিষয়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনকারী প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন। প্যারেড কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করেন এএসপি প্রবেশনার মো. মাহবুব হোসেন।
প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজের মধ্য দিয়ে ২৭তম শিক্ষানবিশ সার্জেন্টের ৮৪ জন এবং ৪৩তম ক্যাডেট সাব-ইন্সপেক্টর (২০০৬ ব্যাচের) ১৬২ জনসহ মোট ২৪৬ জন নবীন পুলিশ কর্মকর্তা কর্মজীবনে প্রবেশ করেন।
শিক্ষানবিশ সার্জেন্টদের মধ্যে বেস্ট সার্জেন্ট হয়েছেন মোহাঃ ওমর ফারুক, বেস্ট একাডেমিক মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন, বেস্ট ইন ফিল্ড অ্যাক্টিভিটিজ সাইফুল ইসলাম এবং বেস্ট শ্যুটার মোহাঃ আসাদুজ্জামান। অন্যদিকে, ক্যাডেট সাব-ইন্সপেক্টরদের মধ্যে বেস্ট ক্যাডেট হয়েছেন মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, বেস্ট একাডেমিক মো. বোরহানুল ইসলাম, বেস্ট ইন ফিল্ড অ্যাক্টিভিটিজ দেওয়ান গোলাম রসুল এবং বেস্ট শ্যুটার মো. কামাল গনি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্যরা, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির, বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমির প্রিন্সিপাল মো. মাইনুল হাসান বিপিএম, রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারের (ভারপ্রাপ্ত) দায়িত্বে থাকা মো. রেজাউল আলম সরকার এবং রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মো. আশিক সাঈদ। এ ছাড়া সামরিক ও বেসামরিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, আমন্ত্রিত অতিথি, প্রশিক্ষণার্থীদের অভিভাবক এবং গণমাধ্যমকর্মীরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ মন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে দেশের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং জনগণের কল্যাণে সম্মিলিতভাবে কাজ করার জন্য নবীন পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানান।
মন্তব্য করুন