বাগেরহাট প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৮ মার্চ, ২০২৪, ১২:৩৩ এ এম

অনলাইন সংস্করণ

বাগেরহাটে ব্যাংক ডাকাতির সাড়ে তিন মাসেও হয়নি মামলা

ছবি: রূপালী বাংলাদেশ

বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জের ভাটখালি বাজারের ডাচ-বাংলা ব্যাংকের এজেন্ট আউটলেটে ডাকাতি করে নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার লুটের সাড়ে তিন মাস পার হলেও ঘটনার উদঘাটন হয়নি। এমনকি মোরেলগঞ্জ থানায় কোনো মামলাও হয়নি বলে অভিযোগ ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীর। এই অবস্থায় নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে আতঙ্কিত রয়েছেন ওই বাজারের ব্যবসায়ীরা।

জানা যায়, গত ২৮ নভেম্বর দিবাগত রাতে ভাটখালি বাজারের ডাচবাংলা ব্যাংকের এজেন্ট আউটলেটের শাটার ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে নগদ ৮ লাখ ২৫ হাজার টাকা ও ৩ ভরি স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে যায় ডাকাতরা এমন একটি সিসিটিভি ফুটেজ রয়েছে। 

ভাটখালি বাজারের ডাচবাংলা ব্যাংকের এজেন্ট আউটলেটের পরিচালক মো. নাইম রাকিব বলেন, ‘ঘটনার পরদিন ২৯ নভেম্বর সকালে বিষয়টা দেখে পুলিশকে জানাই। মোরেলগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এস এম আশিকুর রহমান ও মোরেলগঞ্জ থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইদুর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন, বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন। সাড়ে তিনমাস অতিবাহিত হলেও মামলা হয়নি। সিসি ক্যামেরা ছিল আউটলেটের অফিসে তার ফুটেজও দিয়েছি পুলিশের কাছে। কিন্তু এখনও কোনো কিছুই হয়নি।

তিনি আরও বলেন, প্রত্যন্ত এলাকা হলেও এই বাজারের ব্যবসায়ী ও আশপাশের লোকজন রয়েছে এজেন্ট আউটলেটে লেনদেন করে। আমি নিজেই এখন ভয়ে আছি, আবার না এ রকম ঘটনা ঘটে। ফলে ব্যবসাটিও ভালভাবে পরিচালনা করতে পারছি না। অতিদ্রুত মামলা দায়ের এবং ডাকাতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাই।’

ওই ব্যবসায়ীয় সরবরাহ করা সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, ‘মুখোশ পড়া দুইজন লোক টর্চলাইট নিয়ে এজেন্ট আউটলেটের মধ্যে প্রবেশ করে। কম্পিউটারের মনিটর ও অন্যান্য জিনিসপত্র সরিয়ে ওপর থেকে কি যেন একটা নামায়। এরপরে আর কিছু দেখা যায় না।’

ভাটখালি বাজারের ব্রয়লার মুরগির ব্যবসায়ী মো. মেহেদী হাসান বলেন, ‘এ বাজারে প্রায় ২০০ ব্যবসায়ী রয়েছেন। বেশিরভাগ ব্যবসায়ীরা ডাচ-বাংলা ব্যাংকের এজেন্ট আউটলেট থেকে লেনদেন করি। পাশাপাশি সিন্দুক থাকায় কিছু টাকা ও মূল্যবান জিনিসপত্রও রাখতাম এখানে। সিসি টিভি থাকার পরেও এত বড় একটা ঘটনা ঘটল এবং এত দিনেও ডাকাতরা শনাক্ত না হওয়ায় আমরা সবাই আতঙ্কে রয়েছি।’

ভাটখালি বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক তালুকদার ফারুক হোসেন বলেন, ‘পুলিশের তৎপরতা দেখে মনে হয়েছিল যে ডাকাতির ঘটনাটি উদঘাটন হবে। কিন্তু এতদিনেও ডাকাতরা শনাক্ত না হওয়ায় ব্যবসায়ীরা ক্ষুব্ধ হয়েছেন। অতি দ্রুত ডাকাতদের শনাক্ত ও টাকা উদ্ধারের দাবি জানাই প্রশাসনের কাছে।

এদিকে ঘটনার তদন্ত চলছে দাবি করে বাগেরহাটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রাসেলুর রহমান বলেন, এজেন্ট আউটলেটের পরিচালক মৌখিকভাবে একটি অভিযোগ দিয়েছেন। মৌখিক অভিযোগের ভিত্তিতেই আমরা তদন্ত শুরু করেছি। এছাড়া তাকে লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। তিনি এখনও অফিসিয়ালি অভিযোগ দেয়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

মন্তব্য করুন