প্রকাশিত: ১৯ অক্টোবার, ২০২৬, ০৫:১৫ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

থানায় এজাহার, রাতেই গ্রেপ্তার ২

নিকলীতে বিএনপি নেতার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও আইনজীবীর চেম্বারে ভাঙচুর

খাইরুল ইসলাম, নিকলী প্রতিনিধি
কিশোরগঞ্জের নিকলীতে উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট হাজী বদরুল মোমেন মিঠুর মালিকানাধীন একটি মার্কেট ও এর আশপাশের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে একদল যুবকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় মার্কেটের বিভিন্ন দোকানের শাটার, দরজা ও আইনজীবীর চেম্বারের ক্ষতিসাধন করা হয়েছে। এজাহারে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আনুমানিক এক লাখ টাকা উল্লেখ করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় লিখিত এজাহার দায়েরের পর রাতেই দুই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গত রোববার (১৮ অক্টোবর) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলার বানিয়াহাটি এলাকায় অবস্থিত মরহুম আমির উদ্দিন আহাম্মদ এমপি মার্কেটে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় সোমবার (১৯ অক্টোবর) মার্কেটের কেয়ারটেকার মো. নয়ন তালুকদার বাদী হয়ে সাতজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১৫ জনকে আসামি করে নিকলী থানায় লিখিত এজাহার দায়ের করেন।

এজাহারে যা বলা হয়েছে:
এজাহার সূত্রে জানা যায়, নিকলী উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট হাজী বদরুল মোমেন মিঠুর মালিকানাধীন আমির উদ্দিন আহাম্মদ এমপি মার্কেটের কেয়ারটেকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বানিয়াহাটি গ্রামের মো. নয়ন তালুকদার। এজাহারে রাফি (২১), অনিক (২০), সালমান (২২), উজ্জল (২০), সালমান (২০), মো. নয়ন (২২) ও মামুন (২১)-এর নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়, ঘটনার রাতে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা রামদা, ছুরি, কিরিচ, চাপাতি ও চাইনিজ কুড়ালসহ দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে মার্কেটটিতে প্রবেশ করেন। পরে মার্কেটের ব্যবসায়ী নাজমার মালিকানাধীন ‘সাজ বিউটি পার্লার’সহ বন্ধ থাকা বিভিন্ন দোকানের শাটারে এলোপাতাড়ি কোপানো হয়। একই সঙ্গে পাশের আব্দুল হামিদ মার্কেটের দোকানপাট এবং অ্যাডভোকেট মাসুদ আহমেদের চেম্বারেও ভাঙচুর ও কোপানোর অভিযোগ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, হামলায় বিভিন্ন দোকানের শাটার, দরজা ও বেড়ার ক্ষতি হয়েছে। এতে আনুমানিক এক লাখ টাকার আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন বাদী।

প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ, এলাকায় আতঙ্ক:
এজাহারের বিবরণ অনুযায়ী, মার্কেটে ভাঙচুরের পর অভিযুক্ত ব্যক্তিরা বানিয়াহাটি গ্রামের রাস্তায় গিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্দেশে গালিগালাজ করেন এবং প্রাণনাশের হুমকি দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ সময় কেয়ারটেকারের ডাকচিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসেন। ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করেছেন বলে এজাহারে কয়েকজন সাক্ষীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এ ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে। অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে এর আগেও বিভিন্ন অপকর্মের অভিযোগ রয়েছে বলে দাবি করেছেন কেউ কেউ। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য ও স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, আমির উদ্দিন আহাম্মদ এমপি মার্কেটের দ্বিতীয় তলায় সরকারি আবাসনসংশ্লিষ্ট কার্যালয় ও একাধিক ব্যাংকের কার্যালয় রয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

রাতেই দুই যুবক গ্রেপ্তার:
এ বিষয়ে নিকলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইশতিয়াক আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এজাহার পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর রাতেই অভিযান চালিয়ে রাফি (২১) ও অনিক (২০) নামের দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ প্রত্যাশা করছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারা।

মন্তব্য করুন