প্রকাশিত: ১৫ মে, ২০২৪, ১২:৫৭ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
ছেলেকে বাঁচাতে কিডনি দেবেন মা। সব কিছু ঠিক হলেও টাকার অভাবে মায়ের দেওয়া কিডনি প্রতিস্থাপন করতে পারছে না হজরত। কোন রকম ডায়ালাইসিস করে জীবন পার হচ্ছে অসহায় দরিদ্র হযরতের।
খুলনার পাইকগাছা উপজেলার কপিলমুনি ইউনিয়নের রেজাকপুর গ্রামের বাসিন্দা চা বিক্রেতা ইসমাইল গাজী ও মর্জিনা বেগমের বড় ছেলে হযরত গাজী (২৬)। তার দুটি কিডনিই নষ্ট। চিকিৎসকরা বলছেন, দ্রুত হযরতের শরীরে একটি কিডনি প্রতিস্থাপন করতে না পারলে তাকে বাঁচানো যাবে না।পরিবারে দুই ভাইয়ের মধ্যে হযরত গাজী বড়। স্ত্রী আর ৯ মাসের শিশু সন্তান মা-বাবা ও ছোট ভাইকে নিয়ে ছয় জনের সংসার। পরিবার সূত্রে জানা যায়, চায়ের দোকানে পিতার সহযোগী ও দিনমজুর হিসেবে কাজ করতেন হযরত। সেখান থেকে যা উপার্জন হতো তা দিয়েই কোনোরকমে সংসার চালিয়ে আসছিলেন তিনি। এদিকে হযরতের চিকিৎসা ব্যয় বহন করতে গিয়ে তার বাবাও নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। এক বছর আগে জন্ডিস ধরা পড়ে। খুলনার একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর দুটি কিডনি নষ্ট হয়ে গেছে বলে জানতে পারেন হযরত ও তার পরিবার। তাতে আকাশ ভেঙে পড়ে তাদের মাথায়।
এতদিন ধরে আত্মীয়-স্বজনের কাছ থেকে সহযোগিতা নিয়ে শাহীনের চিকিৎসা ও ডায়ালাইসিস করে আসছিলেন তিনি।বর্তমানে ঢাকায় সেন্টার ফর কিডনি ডিজিজেস অ্যান্ড ইউরোলজি হাসপাতাল(সিকেডি) ডায়ালাইসিস করে কোনোমতে জীবন বেঁচে আছে হযরতের। ডাক্তার দ্রত কিডনি প্রতিস্থাপনের পরামর্শ দিয়েছেন। এ অবস্থায় ছেলের জীবন বাঁচাতে নিজের কিডনি দিতে চান মা মর্জিনা বেগম। কিন্তু এর জন্য যে অর্থের প্রয়োজন, তা জোগাড় করার সামর্থ্য নেই তাদের। তাই একমাত্র উপার্জনক্ষম ছেলের জীবন বাঁচাতে সবার কাছে সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন।
চিকিৎসকরা জানিয়েছিলেন, হযরতের কিডনি প্রতিস্থাপন করতে অপারেশন ও বিভিন্ন ফি বাবদ ৪-৫ লাখ টাকা খরচ হবে। একটি কিডনি ও অপারেশনের টাকা জোগাড় করার জন্য দীর্ঘ একবছর বছর বিভিন্ন মাধ্যমে ধরনা দিলেও আশানুরূপ ফল মেলেনি। এমন পরিস্থিতিতে ছেলেকে বাঁচাতে সবার কাছ থেকে সহযোগিতা আশা করছে হযরতের পরিবার।
হযরতের মা মর্জিনা বেগম বলেন, আপনারা পাশে দাঁড়ালে ছেলেকে আমি আমার কিডনি দেব। এ অবস্থায় সমাজের দানশীল ব্যক্তিদের কাছে আর্থিক সহায়তার আবেদন জানিয়েছে হযরতের পরিবার। সাহায্য পাঠানোর বিকাশ নম্বর- 0 1960-438248।
এছাড়া অনুদান দেওয়ার জন্য হযরত 0 1402-355262 এই নম্বরে যোগাযোগ করার অনুরোধ করেছেন অসহায় দরিদ্র হযরত।
মন্তব্য করুন