প্রকাশিত: ২১ অক্টোবার, ২০২৬, ১১:৪১ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
রাজশাহী ব্যুরো
রাজশাহীর পবা উপজেলার বড়বিলের জলাবদ্ধতা নিরসন, যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন ও এলাকার অর্থনৈতিক সম্ভাবনা কাজে লাগাতে বহুমুখী উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন পবা-মোহনপুর আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শফিকুল হক মিলন। এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর ও মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
বুধবার (২১ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে বড়বিল পরিদর্শনে গিয়ে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় হুজুরীপাড়া ইউনিয়ন বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা বড়বিলের বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনার কথা তাঁর কাছে তুলে ধরেন।
মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সংসদ সদস্য মিলন বলেন, বড়বিলের অধিকাংশ জমি সরকারি খাসজমি। এখানে ধান ও মাছ চাষের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। তবে জলাবদ্ধতার কারণে ধান চাষে নানা সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। এ সমস্যা সমাধানে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা করে বিলের মধ্য দিয়ে রাস্তা, ড্রেন ও খাল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, পরিকল্পিত উদ্যোগের মাধ্যমে বড়বিলকে ঘিরে ভূমিহীন মানুষের আবাসনের ব্যবস্থা, পার্ক স্থাপন কিংবা কলকারখানা গড়ে তোলার সম্ভাবনাও রয়েছে। তবে এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নের আগে সরকারপ্রধান ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
বড়বিলের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে মিলন বলেন, এ বিলের সঙ্গে এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের ইতিহাস জড়িয়ে রয়েছে। অতীতে প্রভাবশালী জোতদাররা বিলের জমি নিয়ন্ত্রণ করতেন। সাধারণ মানুষকে দিয়ে চাষাবাদ করিয়ে উৎপাদিত ফসল জোরপূর্বক নিয়ে নেওয়া হতো। প্রতিবাদ করলে নির্যাতনের শিকার হতে হতো কৃষকদের। এসব জমির মালিকানা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে অতীতে নানা পরিবর্তন ঘটেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
আগামী প্রজন্মের জন্য এলাকার উন্নয়নে স্থায়ী অবদান রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করে তিনি বলেন, মানুষ যে এলাকাতেই বসবাস করুক, নিজ এলাকার পরিচয় তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ। তাই বড়বিলের সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে স্থানীয় মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
বক্তব্যে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন সংসদ সদস্য। তিনি বলেন, পুকুরে মাছ চাষ, বাড়িতে হাঁস-মুরগি, গরু-ছাগল ও ভেড়া পালন এবং বাড়ির চারপাশে গাছ লাগানোর মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার যে ধারণা জিয়াউর রহমান তুলে ধরেছিলেন, তা এখনো প্রাসঙ্গিক। এসব উদ্যোগের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে গ্রামীণ অর্থনীতি আরও সমৃদ্ধ করা সম্ভব।
বিএনপির সাবেক চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবন ও গণতন্ত্রের জন্য তাঁর ত্যাগের কথা উল্লেখ করে মিলন বলেন, প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও তিনি দেশের মানুষের পাশে ছিলেন। তাঁর দেশপ্রেম, রাজনৈতিক দৃঢ়তা ও আপসহীন অবস্থানের কারণে তিনি দলমত-নির্বিশেষে মানুষের শ্রদ্ধা অর্জন করেছেন। তাঁর রাজনৈতিক অবদান তাঁকে জাতীয় ঐক্যের প্রতীকে পরিণত করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সংসদ সদস্য মিলন আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের উন্নয়ন, নতুন শিল্পকারখানা স্থাপন এবং বন্ধ কলকারখানা পুনরায় চালুর উদ্যোগ নিয়েছেন। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বেকারত্ব কমার পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং কর্মহীন হয়ে পড়া শ্রমিকদের কাজে ফেরার সম্ভাবনা তৈরি হবে। এ সময় তিনি বিএনপির পাশে থাকার আহ্বান জানানোর পাশাপাশি দলের নেতাকর্মীদের অন্যায় ও অনিয়ম থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেন।
আইনশৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক জবাবদিহির বিষয়ে তিনি বলেন, সরকার অপরাধ, অনিয়ম ও আইনবহির্ভূত কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে। এ ক্ষেত্রে কাউকে ছাড় দেওয়া হচ্ছে না বলে দাবি করেন তিনি। বক্তব্যে সাম্প্রতিক কয়েকটি প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক ঘটনার প্রসঙ্গও তুলে ধরেন সংসদ সদস্য।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন পবা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলী হোসেন, হুজুরীপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক শিহাব উদ্দিন, সদস্যসচিব মোতাহার হোসেন, পবা উপজেলা যুবদলের সাবেক জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক তাইজুল ইসলাম, সাবেক সদস্য মাজদার রহমান এবং পবা উপজেলা ছাত্রদলের সদস্যসচিব হাফিজুর রহমান হাফিজসহ বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
মন্তব্য করুন