প্রকাশিত: ১ ঘন্টা আগে, ০১:৪৪ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
বিশেষ প্রতিনিধি
আউটসোর্সিং সেবা ক্রয়ের টেন্ডার প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার, অনিয়ম ও জালিয়াতির মাধ্যমে বিগত ১৫ বছর ধরে একচ্ছত্র আধিপত্য ধরে রাখার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে 'পিমা অ্যাসোসিয়েটস লিমিটেড'-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ দেলোয়ার হোসেন দুলালের বিরুদ্ধে। তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের চারজন ক্ষমতাধর মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় তিনি সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের ঠিকাদারি খাতে নিজের আধিপত্য বজায় রাখেন। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও তিনি কৌশলে রূপবদল করে বহাল তবিয়তে তার সাম্রাজ্য পরিচালনা করে যাচ্ছেন।
দেলোয়ারের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে টেন্ডার প্রক্রিয়ার গুরুতর জালিয়াতি ও সিন্ডিকেট রাজত্ব। প্রতিযোগিতামূলক দরপত্রে সর্বনিম্ন দরদাতা না হওয়া সত্ত্বেও এবং সাধারণ নিয়মে কাজ পাওয়ার যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও রাজনৈতিক ক্ষমতার দাপটে অবৈধভাবে কার্যাদেশ হস্তগত করতেন তিনি। অনেক ক্ষেত্রে যখন কোনো নিরপেক্ষ প্রতিযোগিতায় অন্য প্রতিষ্ঠান সর্বনিম্ন দরদাতা হতো, তখন রাজনৈতিক প্রভাবে সেই পুরো দরপত্র প্রক্রিয়াই বাতিল করিয়ে দেওয়া হতো। পরবর্তীতে নিজেদের সুবিধা মতো নতুন শর্ত যুক্ত করে পুনরায় দরপত্র আহ্বান করা হতো এবং গোপন সমঝোতার ভিত্তিতে পিমা অ্যাসোসিয়েটস লিমিটেডকে কাজ বুঝিয়ে দেওয়া হতো।
'বাংলাদেশ আউটসোর্সিং ম্যানপাওয়ার সাপ্লায়ার্স ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন'-এর এই সিনিয়র সহ-সভাপতি বর্তমানে নিজেকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সমর্থক এবং অতীতে বরিশাল জেলার পদধারী ছাত্রনেতা হিসেবে পরিচয় দিয়ে থাকেন। তবে অনুসন্ধানে প্রকাশ পায়, বিগত ১৭ বছরের আওয়ামী লীগ শাসনামলে চারজন প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব—পটুয়াখালী-১ আসনের সাবেক এমপি ও সাবেক ধর্ম প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট শাহজাহান মিয়া, জামালপুর-৩ আসনের সাবেক এমপি ও সাবেক পাট ও বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম, সাতক্ষীরা-৩ আসনের সাবেক এমপি ও সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী আ ফ ম রুহুল হক এবং জামালপুর-২ আসনের সাবেক এমপি ও সাবেক ধর্মমন্ত্রী ফরিদুল হক খান দুলালের ক্ষমতার বলয় ব্যবহার করে একের পর এক টেন্ডার বাগিয়ে নেন তিনি। ঠিকাদারি অঙ্গনে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার ও প্রতিপক্ষকে কৌশলে কোণঠাসা করার কারণে তাকে অনেকেই 'ম্যানেজ মাস্টার' হিসেবে চেনে।
পিমা অ্যাসোসিয়েটস লিমিটেড দীর্ঘ সময় ধরে সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রায় অর্ধশত গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের জনবল সরবরাহের কাজ একচেটিয়াভাবে নিয়ন্ত্রণ করে আসছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ, শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, মাতুয়াইল মা ও শিশু স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট এবং নারায়ণগঞ্জ ও পঞ্চগড় সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মতো স্পর্শকাতর স্বাস্থ্য সেবা খাত। এছাড়া ধর্ম মন্ত্রণালয়ের অধীনে মন্দিরভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম এবং পুরোহিত-সেবাইতদের দক্ষতা বৃদ্ধিকরণ প্রকল্পেও তাদের একচ্ছত্র কাজ রয়েছে। এমনকি বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ, সাপোর্ট টু ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্প, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়, বস্ত্র অধিদপ্তর, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি, মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি, সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগ, বিসিআইসি, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়, পরমাণু শক্তি কমিশন ও বিএডিসি-র মতো অসংখ্য রাষ্ট্রীয় সংস্থায় তারা জালিয়াতির মাধ্যমে কাজ হাতিয়ে নিয়েছে।
সরকারি প্রতিষ্ঠানে ঢুকে গোপন চুক্তি ও প্রভাবে দীর্ঘদিন স্থায়ী হয়ে যাওয়ার এই অপকৌশল দেলোয়ার নিজেই বিভিন্ন স্থানে গর্বের সাথে প্রকাশ করেন। একটি সংরক্ষিত অডিও ফোনালাপে তাকে বলতে শোনা যায় যে, তার প্রতিষ্ঠান একটি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান এবং তিনি একবার যেখানে কাজ শুরু করেন, সেখান থেকে তাকে আর বের করা যায় না। উদাহরণ হিসেবে তিনি ২০১১ সালে হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টে কাজ শুরু করার পর গত ১৪-১৫ বছর ধরে কাজ নিজের দখলে রাখার কথা উল্লেখ করেন। সাবেক ধর্মমন্ত্রী ফরিদুল হক খান দুলালের প্রসঙ্গ টেনে তিনি জানান যে, মন্দিরভিত্তিক শিক্ষার টেন্ডার একটি ভিন্ন গ্রুপ ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলেও মন্ত্রী সরাসরি হস্তক্ষেপ করে কাজ দেলোয়ারকেই দিতে নির্দেশ দেন। বিনিময়ে দেলোয়ারও মন্ত্রীকে 'খুশি' রেখেছিলেন এবং তার চাহিদামতো লোক নিয়োগ দিয়েছিলেন। একইভাবে সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী আ ফ ম রুহুল হকের আনুকূল্যে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজে কাজ পেয়ে এতদিন টিকে থাকার কথাও তিনি স্বীকার করেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আউটসোর্সিং টেন্ডারে এ ধরনের জালিয়াতি ও সিন্ডিকেট মুক্ত প্রতিযোগিতাকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেয়। এর ফলে যোগ্য ও বৈধ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো চরমভাবে বঞ্চিত হয় এবং রাষ্ট্র আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ে। তাই পিমা অ্যাসোসিয়েটস লিমিটেড ও দেলোয়ার হোসেন দুলালের বিরুদ্ধে ওঠা এসব গুরুতর দুর্নীতির অভিযোগ দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
১. টেন্ডার বাগানো ও জালিয়াতি:
অন্যান্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের তুলনায় সর্বনিম্ন দরদাতা না হওয়া সত্ত্বেও এবং প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়ায় বাদ পড়া সত্ত্বেও রাজনৈতিক ক্ষমতার দাপটে অবৈধভাবে কাজ হস্তগত করা। অনেক ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন দরপত্র প্রক্রিয়াকে কোনো কারণ দর্শানো ছাড়াই বাতিল করে নতুন শর্ত জুড়ে পুনরায় দরপত্র আহ্বান করা হতো এবং গোপন সমঝোতার ভিত্তিতে পিমা অ্যাসোসিয়েটস লিমিটেডকে কার্যাদেশ দেওয়া হতো।
২. রাজনৈতিক প্রভাব ও স্বজনপ্রীতি:
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে চারজন ক্ষমতাধর মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয় ব্যবহার করে প্রায় ৫০টিরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে ১৫ বছর ধরে একচ্ছত্র আধিপত্য ও সিন্ডিকেট গড়ে তোলা। এছাড়া রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে নিজের সুবিধাজনক পরিচয় (যেমন বিএনপি সমর্থক বা বরিশাল জেলা ছাত্রনেতা) ব্যবহার করে পার পাওয়ার কৌশল বজায় রাখা।
৩. অবৈধ চুক্তি ও আজীবন টিকে থাকার অপকৌশল:
তিনি নিজেই স্বীকার করেছেন যে, সরকারি প্রতিষ্ঠান ও প্রকল্পগুলোতে প্রভাব খাটিয়ে একবার ঢুকলে গোপন চুক্তির মাধ্যমে তিনি দীর্ঘদিন বা প্রকল্প মেয়াদের শেষ পর্যন্ত স্থায়ী হয়ে যেতেন। যেমন ২০১১ সাল থেকে একটি ট্রাস্টে কাজ শুরু করে বিগত ১৪-১৫ বছর ধরে কাজ নিজের দখলে রাখা।
৪. মুক্ত প্রতিযোগিতা ও সরকারি অর্থের ক্ষতিসাধন:
আউটসোর্সিং সেবা ক্রয়ের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও নিয়ম অমান্য করে জালিয়াতির পথ বেছে নেওয়ার ফলে যোগ্য ও বৈধ অন্যান্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বঞ্চিত হয়েছে এবং রাষ্ট্র অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এই প্রসঙ্গে পিমা এসোসিয়েটস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) দেলোয়ার হোসেন দুলাল তাঁর ও তাঁর প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে একটি সংঘবদ্ধ চক্র কর্তৃক মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অপপ্রচারের অভিযোগ করেছেন। সরকারি নিয়ম ও নীতিমালা অনুসরণ করে যোগ্য জনবল নিয়োগ দেওয়ায় একটি ক্ষুব্ধ গোষ্ঠী এই অপপ্রচার চালাচ্ছে দাবি করে তিনি গণমাধ্যমকে সঠিক তথ্য প্রকাশের আহ্বান জানান এবং দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
আউটসোর্সিংয়ের আড়ালে লুটের সাম্রাজ্য: পিমার বিরুদ্ধে এবার তদন্তের খড়্গ
সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে কাজের গতি আনা এবং সেবা সহজ করার লক্ষ্যে চালু হওয়া 'আউটসোর্সিং' পদ্ধতি এখন একশ্রেণীর ঠিকাদারের পকেট ভারী করার হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে। সেই অনিয়ম ও দুর্নীতির জালে আটকে বহু নিম্নআয়ের শ্রমজীবী মানুষের জীবন এখন চরম অনিশ্চয়তায়। দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগের তীর যার দিকে, সেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান 'পিমা এসোসিয়েটস লিমিটেড' এবং এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক দেলোয়ার হোসেন দুলালকে ঘিরে নতুন করে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। সর্বশেষ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মী নিয়োগে বিপুল অঙ্কের ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ ওঠায় নড়েচড়ে বসেছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে নড়াচড়া: উচ্চপর্যায়ের তদন্ত নির্দেশ
আউটসোর্সিং নিয়োগে অবৈধ লেনদেন ও অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে কঠোর নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। গত ২৩ জুলাই স্বাস্থ্য বিভাগের প্রশাসন শাখা-১-এর উপসচিব সুজিৎ দেবনাথ স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে মহাপরিচালককে এ সংক্রান্ত অভিযোগ পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করে বিধিমোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
নিয়োগ বাণিজ্যের এই তদন্ত নির্দেশের পর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পিমার বহু পুরোনো ও চেপে রাখা অপকর্মের ঝাঁপি আবারও খুলতে শুরু করেছে।
অনিয়ম, চুক্তি লঙ্ঘন এবং শ্রমিক শোষণের একাধিক ঘটনা তদন্তে ও অনুসন্ধানে উঠে এসেছে:
৫০% বেতন আত্মসাৎ (সাতক্ষীরা মেডিক্যাল কলেজ): ২০১৮ সালে ৪৬ জন আউটসোসিং কর্মীর নিয়োগের চুক্তি বাগিয়ে নেয় পিমা। অর্থমন্ত্রনালয়ের স্পষ্ট নির্দেশ ছিল ১৪,৫৫০ টাকা করে সরাসরি ব্যাংক বা মোবাইল ব্যাংকিংয়ে প্রদান করা। অথচ নিয়ম তোড়ে ভেঙে নগদে মাত্র ৭,০০০ টাকা করে হাতে তুলে দেওয়া হয়; বাকি টাকা সোজা চলে যায় এমডি দেলোয়ার হোসেনের পকেটে।
অভিজ্ঞদের বাদ দিয়ে ঘুষ বাণিজ্য: সম্প্রতি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ৩৬টি পদে নতুন নিয়োগে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে লোক নেওয়া হয়। ফলে দীর্ঘ ৮ থেকে ১৬ বছর ধরে ক্লিনার বা পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কর্মরত ১৬ জন অভিজ্ঞ শ্রমিক চাকরি হারিয়ে এক রাতে পথবসে যান।
নবায়ন ফি-র নামে তোলাবাজি (আইপিএইচ): জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটে (আইপিএইচ) ১২৭ জন কর্মীর নিয়োগের সময় জনপ্রতি ১ থেকে ১.৫ লাখ টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে চাকরির মেয়াদ শেষ পর্যায়ে এলে নবায়নের অজুহাতে প্রত্যেকের কাছে আবারও ৫,০০০ টাকা করে দাবি করা হচ্ছে।
গণমাধ্যমকে হুমকি: অনিয়মের চিত্র সংবাদমাধ্যমে উঠে এলে প্রতিবেদন প্রত্যাহারের চাপ এবং মামলা-হামলার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে প্রতিষ্ঠানের কর্তাব্যক্তির বিরুদ্ধে।
ক্ষোভ ও ভুক্তভোগীদের আকুতি
আইপিএইচ-এ কর্মরত একাধিক কর্মী নাম প্রকাশ না করার শর্তে ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান ৫% কমিশন পায়। কিন্তু এর বাইরেও তাদের কাছ থেকে ১ থেকে দেড় লাখ টাকা নিয়ে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এখন চাকরি টিকিয়ে রাখতে হলে নাকি আবারও টাকা দিতে হবে, না দিলে ছাঁটাই। চরম অসহায়ত্ব থেকে তারা এর প্রতিকার চান।
স্বচ্ছতা আনয়নের জন্য অর্থমন্ত্রণালয় নির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন করলেও পিমার মতো প্রতিষ্ঠানগুলো সরকারের তোয়াক্কা না করে কীভাবে রাজত্ব চালিয়ে যাচ্ছে—তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে বিভিন্ন মহল থেকে।
কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা?
শ্রম অধিকার বিশেষজ্ঞদের মতে, আউটসোর্সিং ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হলো তদারকির অভাব।
কঠোর তদারকি: সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে ঠিকাদার নিয়োগের পর চুক্তি সঠিকভাবে পালিত হচ্ছে কি না, তার নিয়মিত অডিট করতে হবে।
ব্যাংক লেনদেন বাধ্যতামূলক: শ্রমিকের মূল বেতন কোনো অবস্থাতেই ঠিকাদারের হাতে নগদ লেনদেন হতে দেওয়া যাবে না; সরাসরি ডিজিটাল বা ব্যাংকিং চ্যানেলে পরিশোধ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
অভিযোগ সেল গঠন: আউটসোর্সিং কর্মীদের অধিকার রক্ষা এবং তাদের অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য স্বতন্ত্র ও কার্যকর ব্যবস্থা চালু করা জরুরি।
পিমার আউটসোর্সিং অনিয়মের গতিপথ মূলত দুটি প্রধান উপায়ে ধাবিত হয়েছে:
১. বেতন আত্মসাৎ ও নগদ লেনদেন: আউটসোর্সিং কর্মচারীদের প্রাপ্য বেতনের বড় একটি অংশ অবৈধভাবে কেটে নেওয়া বা হাতিয়ে নেওয়া হয়। যেমন—সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজে কর্মচারীদের অর্ধেকেরও বেশি (৫০%) টাকা কেটে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
২. নিয়োগ ও নবায়নে ঘুষ বাণিজ্য: নতুন নিয়োগ কিংবা চাকরির মেয়াদ নবায়নের ক্ষেত্রে ব্যাপক ঘুষ লেনদেন ও অনিয়ম চলে। এর ফলে বহু দক্ষ ও অভিজ্ঞ কর্মী চাকরি হারান। যেমন—আইপিএইচ (IPH) ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে ১৬ জন অভিজ্ঞ কর্মচারীকে বাদ দিয়ে অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার ঘটনা দেখা গেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবং বিতর্কিত পিমা এসোসিয়েটসের এমডি দেলোয়ার হোসেন দুলালের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের চিঠি আসার পর এবার সত্য উন্মোচিত হবে এবং ভুক্তভোগীরা সুবিচার পাবেন—এমনটাই প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।
শুরুতে নিশ্চুপ থাকলেও সম্প্রতি পিমা এসোসিয়েটস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) দেলোয়ার হোসেন দুলাল তাঁর ও তাঁর প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে একটি সংঘবদ্ধ চক্র কর্তৃক মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অপপ্রচারের অভিযোগ করেছেন। সরকারি নিয়ম ও নীতিমালা অনুসরণ করে যোগ্য জনবল নিয়োগ দেওয়ায় একটি ক্ষুব্ধ গোষ্ঠী এই অপপ্রচার চালাচ্ছে দাবি করে তিনি গণমাধ্যমকে সঠিক তথ্য প্রকাশের আহ্বান জানান এবং দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
মন্তব্য করুন