প্রকাশিত: ১৮ এপ্রিল, ২০২৪, ০৮:৫৬ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
আগামী ২১ মে দ্বিতীয় ধাপে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ৬ষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচন। এ ধাপে বাগেরহাট জেলায় নির্বাচন হচ্ছে শুধুমাত্র ফকিরহাট, মোল্লারহাট ও চিতলমারি উপজেলায়। এরমধ্যে বেশ প্রতিদ্বদ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন হবে ফকিরহাট উপজেলায়।
এবারের নির্বাচনে দলিয় প্রতীক না থাকায় ভোটের লড়ায়ে মাঠে নামছেন বেশ কয়েকজন আওয়ামীলীগ নেতা।
১৬১ বর্গ কিলোমিটারের এই উপজেলায় প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার মানুষের বসবাস। রয়েছে সকল শ্রেণী পেশার মানুষ। তবে এ এলাকার মানুষের আয়ের প্রধান উৎস কৃষি। যেখানে প্রায় ৫৪ শতাংশ মানুষ জীবিকা নির্বাহ করছে।
গত কয়েকবছরে এ এলাকার আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়ন হয়েছে বহুগুণ। উন্নত হয়েছে কৃষি ও যোগাযোগ ব্যবস্থার। পদ্ম সেতু চালু হওয়ার পর থেকে এ অঞ্চলের মানুষ লাভবান হচ্ছে চাষাবাদে। ব্যবহার করা হচ্ছে অধুনিক প্রযুক্তি। এ উপজেলায় সম্ভবনাও রয়েছে অনেক।
তাই প্রতিটি সম্ভাবনাময় খাতকে কাজে লাগাতে প্রয়োজন হয় উপজেলা পরিষদ ও উপজেলা প্রশাসনের। তাই উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে এলাকাবাসীর জন্য একজন যোগ্য প্রার্থী নির্বাচন করাটা বেশ গুরুত্বপূর্ণ
ফকিরহাট উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে হেভিওয়েট প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি স্বপন দাশ।
স্বপন দাশ: স্বপন দাশ স্কুল জীবন থেকেই যুক্ত হন রাজনীতিতে। ৭০ এর দশকের শুরুর দিকে তিনি বাগেরহাট সরকারি পিসি কলেজে পড়ার সময়কাল থেকেই শুরু হয় ছাত্রলীগের সাথে রাজনীতি। পরে পড়াশোনা করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে। সেখানে মতিহার হলের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
বিশ্ববিদ্যালয় জীবন শেষে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় পাস করে ক্যাডার হওয়ার সুযোগ ছেড়ে মনোযোগী হন রাজনীতি ও মানবসেবায়। ফকিরহাট উপজেলা যুবলীগ ও কৃষক লীগের দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ১৯৯৩ সালে নির্বাচিত হন বাগেরহাট জেলা কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক পদে। সেই সময়ে যুক্ত হন কৃষক আন্দোলনের সাথে। পরে ১৯৯৮ সালে বেতাগা ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন তিনি। তারপর থেকে টানা ২০১৯ সাল পর্যন্ত বারবার নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব পালন করেন ইউপি চেয়াম্যানের। পরে ২০১৯ সালে নৌকা প্রতীক নিয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করে জয়ী হন তিনি।
৬ষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচন নিয়ে তিনি দৈনিক রুপালি বাংলাদেশ'কে বলেন, গত কয়েক বছরে উপজেলার আর্থ সামাজিক উন্নয়নের জন্য কাজ করে চলেছি। ইউপি চেয়ারম্যান থাকাকালীন সময়ে দেশের প্রথম ওয়ার্ড সভা চালু করি, যা বর্তমানে ইউনিয়ন পরিষদ আইনে পাশ হয়ে এসেছে। বেতাগা ইউনিয়নে যেসব কাজ মানুষের অর্থসামাজিক উন্নয়নে কাজ করেছে তা উপজেলা চেয়ারম্যান হওয়ার পরে পুরো উপজেলায় ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। উপজেলায় ওয়ার্ড সভা কার্যকর করা, উপজেলার বাজেট ইউনিয়ন পরিষদে না দেওয়া, স্কুল গুলোতে চেইঞ্জ রুম, পাবলিক লাইব্রেরী, লোক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র গড়ে তোলা, কমিউনিটি ক্লিনিকে ডেলিভারি সেন্টার তৈরী করা সহ নানান উন্নয়ন কার হয়েছে এ উপজেলায়। আমাদের সাফল্যে যারা ইর্ষান্বিত হচ্ছে তারাই চেষ্টা করছে ক্ষমতায় আসার। এবারের নির্বাচনে প্রতীক না থাকায় আরো ভালো অংশিদারিত্বপূর্ণ নির্বাচন হবে বলে আশা করছি।
সবাই নির্বাচনে আসলেই বোঝা যাবে যোগ্য ব্যক্তি কে। তবে জনগণ আমাদের কাজের সাথে যেভাবে সাড়া দিয়েছে সেইভাবে ভোটের সাড়া পড়বে বলে জানান তিনি।
ফকিরহাট উপজেলা চেয়াম্যান পদে আরেক হেভিওয়েট প্রার্থী উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক শেখ ওয়াহেদুজ্জামান বাবু। তিনি আওয়ামী পরিবারের সাথে রাজনীতিতে যুক্ত ছিলেন বহু বছর। প্রথম বার নির্বাচন করছেন জনপ্রতিনিধি হিসাবে।
ওয়াহেদুজ্জামান বাবু : ১৯৮৯ সালের ১০ জানুয়ারী নবম শ্রেণীতে অধ্যায়নরত অবস্থায় বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ পত্যাবর্তন দিবসে ছাত্রলীগের মিটিং এ বক্তব্য রেখে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন ওয়াহেদুজ্জামান বাবু। ১৯৯০ সালে স্বৈরাচারী বিরোধী আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেন তিনি। পরে ১৯৯৪ সালে খুলনার সুন্দরবন আদর্শ সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক নির্বাচিত হন। এছাড়াও ১৯৯৩ সাল থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত ফকিরহাট উপজেলা ছাত্রলীগের গ্রন্থনা ও প্রকাশনা সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন তিনি। পরে ২০০৪ সাল থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক ছিলেন। ২০১৬ সাল থেকে দায়িত্ব নেন উপজেলা যুবলীগের যুবলীগের আহবায়কের। ১৯৯২ সাল পর্যন্ত হাজি আব্দুল হামিদ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন। পরবর্তিতে ছিলেন কলেজ ছাত্রলীগের সাথে যুক্ত। ২০০৫ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত সৌদি আরব আওয়ামী পরিষদের জেদ্দা ময়দান আল ফাহাদ জেলার সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। দেশে ফিরে আবারো যুক্ত হন রাজনীতিতে। ২০১৭ সাল থেকে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের দায়ীত্বভার গ্রহণ করেন তিনি। তিনি বলেন, আওয়ামী সরকারের আমলে ফকিরহাটে যথেষ্ট উন্নয়ন সধিত হয়েছে। যা সকলের সামনে দৃশ্যমান। তাই নির্বাচিত হয়ে এই উন্নয়নের ধারাকে অব্যহত রাখতে চান তিনি।
ফকিরহাট উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী শেখ ওয়াহেদুজ্জামান বাবু রুপালি বাংলাদেশকে বলেন, রাজনীতি করতে গিয়ে নানা সময় হামলা-মামলার শিকার হয়েছি। ১৯৯৬ সাল থেকেই এলাকাবাসীর উন্নয়নে নানা আবেদন জানিয়ে আসছি সংসদ সদস্য শেখ হেলাল উদ্দিনের কাছে। এবারো জনগণের চাহিদার মুখে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা লাগছে। ফকিরহাটকে প্রধানমন্ত্রীর রূপকল্প অনুযায়ী উন্নয়নের উচ্চ শেখরে নিয়ে যেতে চান তিনি।
তফসিল ঘোষণার পর থেকেই ভাইস-চেয়ারম্যান প্রার্থী হয়ে নির্বাচনের মাঠে নেমে পড়েছেন সাবেক উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি ও আওয়ামীলীগ নেতা মোঃ কওসার আলী ফকির। ১৯৯১ সালে ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে যুক্ত হন তিনি। পরে ২০০৩ সাল থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত ছাত্রলীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তিতে পরপর ৩ বার উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক পদে নির্বাচিত হন তিনি। নির্বাচনে নির্বাচিত হয়ে এলাকার সব ধরনের উন্নয়ন করতে চান তিনি।
ভাইস-চেয়ারম্যান পদে প্রচারণা চালাচ্ছেন উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি শেখ ইমরুল হাসান। তিনি ১৯৯০ সাল থেকে ১৯৯২ সাল পর্যন্ত হাজি আব্দুল হামিদ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন। পরবর্তিতে ছিলেন কলেজ ছাত্রলীগের সাথে যুক্ত। ২০০৫ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত সৌদি আরব আওয়ামী পরিষদের জেদ্দা ময়দান আল ফাহাদ জেলার সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।
দেশে ফিরে আবারো যুক্ত হন রাজনীতিতে। ২০১৭ সাল থেকে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের দায়ীত্বভার গ্রহণ করেন তিনি। তিনি বলেন, আওয়ামী সরকারের আমলে ফকিরহাটে যথেষ্ট উন্নয়ন সধিত হয়েছে। যা সকলের সামনে দৃশ্যমান। তাই নির্বাচিত হয়ে এই উন্নয়নের ধারাকে অব্যহত রাখতে চান তিনি।
এদিকে ভাইস-চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনে নামছেন নবীন ছাত্রনেতা সৈয়দ অলিদ ইমন। ২০০৭ সাল থেকে ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে যুক্ত হন তিনি। তিনি রুপোলি বাংলাদেশকে বলেন, তরুন সমাজ দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবে নতুন উদ্যম নিয়ে। তাই তরুনদের সব জায়গায় সুযোগ দেওয়া উচিৎ বলে জানান তিনি। এছাড়াও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে তহুরা খানমসহ প্রতিদ্বদ্বিতা করছেন ২ জন।
এছাড়াও নির্বাচনে ভাইস-চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বদ্বিতা করবেন বলে শোনা যাচ্ছে জামায়াত ইসলামের নেতা শেখ জাহাূঙ্গীর হোসেনের নাম। প্রার্থী যতই হোক নিজেদের জন্য যোগ্য প্রার্থী বেছে নিবেন বলে জানান স্থানীয়রা।
মন্তব্য করুন