প্রকাশিত: ১৪ মার্চ, ২০২৪, ১০:২৯ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জোড়াতালি দিয়ে চালানো হচ্ছে চিকিৎসা কার্যক্রম।এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকের ৩০টি পদের মধ্যে ১৫টি পদই ফাঁকা পড়ে আছে। শুধু গাইনী, সার্জারী ও এ্যানেসথেসিয়া বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ছাড়া অন্য কোন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকায় এলাকাবাসী এটিকে হাসপাতাল হিসাবেই গন্য করতে চান না।
জানা গেছে, ৬ লক্ষাধিক জনসংখ্যার এই উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ২০১১ সালে ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত হয়। এখানে শিশু, চর্ম ও যৌন, চক্ষু, মেডিসিন, কার্ডিওলজি, নাক কান গলা, অর্থোপেডিক্স, ফিজিক্যাল মেডিসিন এন্ড রিহ্যাবের জুনিয়র
কনসালটেন্ট পদ শূন্য আছে দীর্ঘদিন ধরে। এছাড়া ডেন্টাল সার্জন ও ইউনানি মেডিকেল অফিসার পদেও চিকিৎসক নেই।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ঘুরে দেখা গেছে, বহির্বিভাগে রোগীর প্রচন্ড ভীড়। জরুরী বিভাগের সামনে ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিরা ভীড় করে আছেন। তারা দেখছেন চিকিৎসক কোন কোম্পানির ওষুধের নাম লিখছেন। ৫০ শয্যায় স্থান সংকুলান না হওয়াতে মেঝে ও করিডোরে রেখে রোগীদের চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে । বর্তমানে ১০০ শয্যায় উন্নিত করার জন্য ভবন নির্মাণের কাজ চলছে। নতুন ভবন নির্মাণের কাজের জন্য পুরাতন ভবনের বড় অংশ ভাঙা পড়ায় স্থান সঙ্কটে গাদাগাদি করে রোগীদের রাখা হয়েছে।
রোগিরা জানান, তাদের মশারি দেয়া হয় না। তাই মশার উপদ্রব সহ্য করতে হচ্ছে। নিয়মিত বালিশ, বিছানার চাদর পরিবর্তন করে দেয়া হয় না বলে নোংরা বিছানাতেই থাকতে হয়। পৌর এলাকার লিমা খাতুন (১৮) বলেন, তিনি পেট ব্যথায় অসুস্থ্য হয়ে এখানে ভর্তি হন। এক্সরেসহ অনেক পরীক্ষ নিরীক্ষা এখানে হয় না। তাকে বেশিরভাগ ঔষধ বাহির থেকে কিনতে হয়েছে।
হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা ইসলামপুর গ্রামের মিথিলা বেগম (৩০) বলেন,খাবারের মান একদিকে খারাপ আবার মাছ মাংসের টুকরা এতই ছোট যা দিয়ে ভাত খাওয়া হয় না। পিয়ারাপুর গ্রামের গ্রামের জান্নাতি খাতুন (১৫) বলেন,রোগিদের মশারি দেওয়া হয়না।
মশার উপদ্রব সহ্য করেই চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, স্বাস্থ কমপ্লেক্সে ৩টি এক্সরে মেশিন থাকলেও এর দুটি ৫ বছর আগেই নষ্ট হয়ে গেছে। অন্যদিকে উপযুক্ত কক্ষের অভাবে চালু এক্সরে মেশিনটি প্রায় দুই বছর আগে পাশ্ববর্তী উপজেলা দিনাজপুরের হাকিমপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে
দিয়ে দেয়া হয়েছে। দুটি এম্বুলেন্সের একটি নষ্ট।
উপহেলার পোগইল গ্রামের মিজানুর রহমান ওরফে আব্দুল হক বলেন, তার স্ত্রীকে চিকিৎসার জন্য এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন। কিন্তু কর্তব্যরত চিকিৎসক মনিরা আরেফিন তাকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন। দুই
ঘন্টা অপেক্ষা করেও এম্বুলেন্স পাননি। ফলে যথা সময়ে নির্দিষ্ট স্থানে নিতে না পারায় তার স্ত্রীর মৃত্যু হয়। তিনি জানান, এখন বে সরকারি এম্বুলেন্স একমাত্র ভরসা।
গোবিন্দগঞ্জ নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক আব্দুল মতিন মোল্লা বলেন, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকায় হৃদরোগ, চক্ষু, শিশুরোগসহ অন্যান্য রোগীরা বিপাকে পড়েন। জ¦র সর্দ্দির আর গর্ভবতী নারীদের চিকিৎসা ছাড়া এখানে কোন চিকিৎসা নেই। কার্যত এটি কোন হাসপাতালই নয়। বিভিন্ন রোগের চিকিৎসার জন্য রোগীদের রংপুর বা বগুড়ায় যেতে হয়।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জাফরিন জাহেদ জিতি বলেন, মশারি, বালিশ, চাদর যথেষ্ট পরিমানে আছে, রোগীরা চাইলেই তা তাদের দেয়ার নির্দেশ দেয়া আছে। ভবন ঠিক হলেই হাকিমপুর থেকে এক্সরে মেশিন আবার এখানে নিয়ে আসা হবে।
খাবার মান উন্নত করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
মন্তব্য করুন