প্রকাশিত: ২ ঘন্টা আগে, ১১:৩৫ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
বিজনেস ফাইল ডেস্ক
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলায় নির্ধারিত ১৮০ দিনের মধ্যে বিচারকাজ শেষ না হলেও মামলার কার্যক্রম স্থগিত বা বাতিল হবে না বলে যুগান্তকারী রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। আদালত স্পষ্ট করেছেন, বিচার শেষ করার ক্ষেত্রে আইনে উল্লেখিত এই ১৮০ দিনের সময়সীমা ‘বাধ্যতামূলক’ নয়, বরং এটি ‘নির্দেশনামূলক’। এর ফলে নির্দিষ্ট সময় পার হয়ে যাওয়ার পরও আসামির বিচারপ্রক্রিয়া চালিয়ে যেতে আর কোনো আইনি বাধা থাকছে না।
ইডেন কলেজের এক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা ‘মো. সাইফুল ইসলাম ওরফে পাভেল বনাম রাষ্ট্র’ মামলার একটি রুল খারিজ করে ২০২৩ সালের ৭ জুন এই রায় দেন বিচারপতি কে. এম. কামরুল কাদের এবং বিচারপতি মোহাম্মদ শওকত আলী চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ। সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে এই রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশ করা হয়েছে।
রায়ে আদালত বলেছেন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ২০ এবং ৩১ক ধারা সতর্কতার সঙ্গে পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, নির্ধারিত ১৮০ দিনের মধ্যে বিচার সমাপ্ত করতে ট্রাইব্যুনাল ব্যর্থ হলেও কোনো অবস্থাতেই মামলার বিচারিক কার্যক্রম স্থগিত বা বাতিল করা যাবে না। কারণ, আইনে এই সময়সীমার মধ্যে বিচার সম্পন্ন না হলে বিচারিক প্রক্রিয়া বাতিল হওয়ার মতো কোনো বিরূপ আইনি পরিণতির বিধান রাখা হয়নি।
মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, ২০০৭ সালের ৮ জুলাই ইডেন কলেজের অনার্স প্রথম বর্ষের এক ছাত্রীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে ধর্ষণ করেন আসামি পাভেল। পরবর্তীতে একাধিকবার ধর্ষণের ফলে ওই ছাত্রী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে পাঁচ মাস বয়সে তাকে জোরপূর্বক গর্ভপাত করানো হয়। এ ঘটনায় ২০০৮ সালের ২৭ জানুয়ারি ভুক্তভোগীর মা রাজধানীর শ্যামপুর থানায় মামলা দায়ের করেন। একই বছরের ২৩ জুলাই ঢাকার ১-নম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে পাভেলের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়।
২০১১ সালের ৮ মে আসামি পাভেল হাইকোর্টে একটি রিট দায়ের করে দাবি করেন, ২০০৮ সালে ট্রাইব্যুনালে মামলাটি গৃহীত হলেও ১৮০ দিনের মধ্যে বিচার শেষ হয়নি, যা ২০০০ সালের আইনের লঙ্ঘন। এর প্রেক্ষিতে হাইকোর্ট মামলার বিচারিক কার্যক্রম স্থগিত করে রুল জারি করেছিলেন।
তবে চূড়ান্ত রায়ে হাইকোর্ট বলেন, রিটকারী (আসামি পাভেল) অত্যন্ত চতুরতার সঙ্গে মামলার পরবর্তী আদেশগুলো গোপন করেছেন, যা অসৎ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। নির্ধারিত সময়ে বিচার শেষ না হওয়ার কারণে আসামির কোনো আইনি বা মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হয়নি। সার্বিক তথ্য-প্রমাণ ও আইনের বিধান বিবেচনা করে হাইকোর্ট আসামির রিটের প্রেক্ষিতে জারি করা রুল খারিজ করে দেন এবং মামলার বিচারিক কার্যক্রমে থাকা আগের স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করেন। আদালতে পাভেলের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী এম.এইচ রশীদ এবং রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শেখ সাইফুজ্জামান।
মন্তব্য করুন