প্রকাশিত: ৩ ঘন্টা আগে, ১২:২৮ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

ঘিওর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ‘সিন্ডিকেটের’ দাপট

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি
মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে কথিত ‘সিন্ডিকেটের’ দৌরাত্ম্য নিয়ে দীর্ঘদিনের অভিযোগ এবার আরও গুরুতর প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। অনিয়মের তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিককে পরিচয় যাচাইয়ের নামে হেনস্তা এবং সরকারি কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলতেও ‘অনুমতি’র প্রয়োজন—এমন অভিযোগ উঠেছে।

জাতীয় দৈনিক সরেজমিন বার্তা-এর ক্রাইম রিপোর্টার আসাদুর জামানের অভিযোগ, গত ২৫ আগস্ট অফিসের বিভিন্ন অনিয়ম নিয়ে সাব-রেজিস্ট্রার সর্মিলা আহমেদ শম্পার বক্তব্য নিতে গেলে তাকে ২৭ আগস্ট আবার আসতে বলা হয়। নির্ধারিত দিনে অফিসে গেলে কয়েকজন দলিল লেখক ও কথিত সাংবাদিক পরিচয়ধারী ব্যক্তি তার পরিচয়, ভিজিটিং কার্ড ও অফিসে প্রবেশের কারণ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। এমনকি সাব-রেজিস্ট্রারের সঙ্গে কী কথা বলবেন, সেটিও উপস্থিত ব্যক্তিদের সামনে বলতে বলা হয় বলে অভিযোগ তার।

সাংবাদিকের প্রশ্ন—সরকারি একটি অফিসে তথ্য সংগ্রহ করতে কোনো দলিল লেখক বা কথিত কমিটির অনুমতি নেওয়ার বিধান কোথায়? এমন কোনো সরকারি নির্দেশনা থাকলে তার লিখিত আদেশও প্রকাশের দাবি উঠেছে।

অভিযোগ রয়েছে, সাব-রেজিস্ট্রারের ঘনিষ্ঠ কয়েকজন দলিল লেখককে ঘিরে অফিসে একটি প্রভাবশালী বলয় তৈরি হয়েছে। দলিল লেখক সমিতির নেতৃত্বের বৈধতা ও তাদের কথিত প্রভাব নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

এদিকে ঘিওর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাশিতা-তুল ইসলাম বলেন, “গণমাধ্যমের তথ্য সংগ্রহে বাধা দেওয়া কাম্য নয়। এমন ঘটনা ঘটে থাকলে তা দুঃখজনক।” তিনি জানান, ঘিওরে একটি মাত্র সাব-রেজিস্ট্রি অফিস রয়েছে এবং এর রাজস্ব দিয়েই তাদের কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

সাংবাদিককে ‘আপনি কে’, ‘কেন ঢুকেছেন’ কিংবা ‘কার অনুমতি নিয়েছেন’—এ ধরনের প্রশ্নের মুখে ফেলার ঘটনায় এখন মূল প্রশ্ন, সরকারি সেবা প্রতিষ্ঠান কি সরকারি বিধিতে চলে, নাকি কোনো অনানুষ্ঠানিক সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে?

ঘিওর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে সরকারি ফি’র বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায়, দালালচক্রের প্রভাব, নির্দিষ্ট দলিল লেখকের কাছে গ্রাহক পাঠানোসহ উত্থাপিত অভিযোগগুলো তদন্তের পাশাপাশি সাংবাদিককে হেনস্তার অভিযোগও নিরপেক্ষভাবে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সাংবাদিক মহল।

মন্তব্য করুন