প্রকাশিত: ১৩ ঘন্টা আগে, ০৩:১৪ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
বিনোদন প্রতিবেদক
নগরবাউল জেমসের সাম্প্রতিক ইতালি সফরকে ঘিরে তৈরি হয়েছে তীব্র বিতর্ক। তারকা শিল্পীর দীর্ঘদিনের ম্যানেজার রুবাইয়াত ঠাকুর রবিনের বিরুদ্ধে মারাত্মক আর্থিক অনিয়ম, চুক্তি ভঙ্গ, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং শিল্পীকে অপপ্রচারের মুখে ফেলার অভিযোগ তুলেছেন ইতালি সফরের মূল আয়োজক সংস্থা ‘দেশি ইভেন্টস এবিজেন’ (Deshi Events ABGen)।
আয়োজক সংস্থার সিইও হোসাইন আহমেদ মোয়াজ এক ক্ষুব্ধ বিবৃতিতে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন—তাদের এই প্রতিবাদ প্রিয় শিল্পী জেমসের বিরুদ্ধে নয়, বরং তার চারপাশ ঘিরে থাকা অপশক্তি ও লোভী ম্যানেজার রবিনের অন্যায়ের বিরুদ্ধে।
রুবাইয়াত ঠাকুর রবিনের বিরুদ্ধে উত্থাপিত প্রধান অভিযোগসমূহ:
১. আর্থিক অস্বচ্ছতা ও চুক্তি ভঙ্গ:
আয়োজক সংস্থার দাবি অনুযায়ী, জেমসের ইতালি সফরের আনুমানিক ব্যয়ের জন্য তারা ৩০ হাজার ইউরোরও বেশি (প্রায় ৪০ লক্ষাধিক টাকা) পরিশোধ করেছেন। কিন্তু এই বিপুল পরিমাণ অর্থের কোনো স্বচ্ছ হিসাব প্রদান না করে চুক্তি ভঙ্গ করেছেন রবিন।
২. ব্যক্তিগত স্বার্থসিদ্ধি ও ব্ল্যাকমেইলিং:
আয়োজকদের পাশ কাটিয়ে রবিন নিজের ব্যক্তিগত আর্থিক স্বার্থে জেমসকে বিভিন্ন কমার্শিয়াল ব্যক্তিবর্গের কাছে নিয়ে গেছেন। এমনকি সংবাদমাধ্যম ও ইন্টারভিউ পিছু ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত চাওয়া হয়েছে বলে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হয়। অথচ বাস্তবতা ছিল ভিন্ন—ভেনিসে সাধারণ ভক্তদের সঙ্গে জেমসের খোলামেলা সাক্ষাৎকার ও মিথস্ক্রিয়া দেখা গেছে, যা রবিনের অপপ্রচারের সত্যতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলে।
৩. অসৌজন্যমূলক আচরণ ও আত্মগোপন:
আয়োজকরা পুরো টিমের জন্য রোমের হোটেল থেকে টার্মিনি স্টেশন পর্যন্ত গাড়ি এবং ভিআইপি ট্রেন টিকিটের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা সত্ত্বেও, আয়োজকদের না জানিয়ে গভীর গোপনে জেমসকে অন্য গাড়িতে সরিয়ে নিয়ে সটকে পড়েন রবিন।
৪. আইনি প্রতিশ্রুতির বরখেলাপ:
গত ১৮ আগস্টের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে আয়োজকরা স্থানীয় পুলিশের সাহায্য নিতে বাধ্য হন। রোম পুলিশের মধ্যস্থতায় পরদিন সকালের মধ্যে বিষয়টি সমাধানের লিখিত/মৌখিক প্রতিশ্রুতি দিয়েও পরবর্তীতে তা ভঙ্গ করে পালিয়ে যান রবিন।
"জেমসকে বাঁচাও": আয়োজকদের স্পষ্ট বার্তা:
দেশি ইভেন্টস এবিজেন-এর সিইও হোসাইন আহমেদ মোয়াজ বলেন:
"আমাদের লড়াই বা প্রতিবাদ কোনোভাবেই আমাদের প্রাণের শিল্পী জেমসের বিরুদ্ধে নয়। আমরা তাকে ভালোবাসি এবং সর্বোচ্চ সম্মান করি। আমাদের ক্ষোভ কেবল রুবাইয়াত ঠাকুর রবিনের অন্যায়ের বিরুদ্ধে। একজন জাতীয় সংগীত-কিংবদন্তিকে স্রেফ টাকা কামানোর মেশিনে রূপান্তর করার এই আন্তর্জাতিক চক্রান্তের বিরুদ্ধে আমরা আইনি ও সামাজিকভাবে শেষ পর্যন্ত লড়ে যাবো।"
বিবৃতির শেষ পর্যায়ে আয়োজকরা "গুপ্তচর ও ঠাকুরকে সরাও, নগরবাউল জেমসকে বাঁচাও" স্লোগান দিয়ে দেশ-বিদেশের জেমস ভক্ত ও সংগীত সংশ্লিষ্টদের রবিনের এই অনৈতিক সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান।
এই প্রসঙ্গে রবিন সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, 'প্রোগ্রাম শেষ হওয়ার পর আয়োজকদের রূপ সব সময়ই বদলে যায়। সারাজীবন শিল্পীরাই প্রতারিত হয়ে এসেছে। এখন আমাদের সাথে কোনোভাবে পেরে না উঠে তারা এসব মনগড়া কাল্পনিক গল্প সাজাচ্ছে।"
মন্তব্য করুন