প্রকাশিত: ১১ ঘন্টা আগে, ০৯:১০ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

আরএমপির ১২ থানাকে ‘জিরো কমপ্লেইন ইউনিট’ করতে কমিশনারের নির্দেশ

রাজশাহী ব্যুরো
রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) ১২টি থানাকে ‘জিরো কমপ্লেইন ইউনিট’ হিসেবে গড়ে তুলতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির। একই সঙ্গে থানায় সেবা নিতে আসা জনগণের সঙ্গে জনবান্ধব, আন্তরিক ও সেবামূলক আচরণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সকাল ১১টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত আরএমপি সদর দপ্তরের সভাকক্ষে জুলাই ২০২৬ মাসের অপরাধ পর্যালোচনা সভায় এসব নির্দেশনা দেন পুলিশ কমিশনার। সভায় সভাপতিত্ব করেন তিনি।
সভায় মহানগরীর সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, জুলাই মাসের অপরাধচিত্র এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণে গৃহীত কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। এ সময় মামলা যথাযথভাবে রুজু, দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন, নির্ভুল পুলিশ রিপোর্ট দাখিল, মাদকদ্রব্য উদ্ধার, ওয়ারেন্ট তামিল ও আসামি গ্রেপ্তারসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। পাশাপাশি আদালতের নির্দেশনা যথাযথভাবে বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
পুলিশি সেবা গ্রহণে জনগণ যাতে কোনো ধরনের হয়রানি বা ভোগান্তির শিকার না হন, তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন পুলিশ কমিশনার। একই সঙ্গে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স দ্রুত ও স্বচ্ছতার সঙ্গে প্রদান এবং কোনো পুলিশ সদস্য যাতে অনুমতি ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত না থাকেন, সে বিষয়েও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়।
নগরীর যান চলাচলে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হাইড্রোলিক হর্নের ব্যবহার বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি অনুমোদনহীন ও ঝুঁকিপূর্ণ যানবাহন—শ্যালো ইঞ্জিনচালিত ট্রলি, ট্রাক্টর, নছিমন, করিমনসহ অন্যান্য যানবাহনের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
গুরুত্বপূর্ণ ও অপরাধপ্রবণ এলাকায় নিয়মিত চেকপোস্ট পরিচালনার মাধ্যমে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং আইন অমান্যকারী যানবাহনের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশও দেওয়া হয়।
মহানগরীর আবাসিক হোটেলগুলোতে নজরদারি জোরদার করে সেখানে যাতে কোনো ধরনের জুয়ার আসর বসতে না পারে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন পুলিশ কমিশনার। একই সঙ্গে বিট পুলিশিং কার্যক্রম আরও জোরদার করে নগরীর ঘরে ঘরে আইনি সহায়তা পৌঁছে দেওয়া এবং জনগণের সঙ্গে পুলিশের কার্যকর সম্পৃক্ততা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সভায় মাননীয় আইজিপির প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী থানাগুলোকে ‘জিরো কমপ্লেইন ইউনিট’ হিসেবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ, সাধারণ ডায়েরি (জিডি) ও ইউডি মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি এবং সেবাপ্রত্যাশীদের সঙ্গে আরও জনবান্ধব আচরণ নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়।
সভায় মহানগরীর সার্বিক নিরাপত্তা ও জনসেবার মান আরও উন্নত করতে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন পুলিশ কমিশনার।
অপরাধ পর্যালোচনা সভায় আরএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার, সকল উপ-পুলিশ কমিশনার, অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার, সহকারী পুলিশ কমিশনার এবং থানার অফিসার ইনচার্জরা উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য করুন