প্রকাশিত: ২৭ সেপ্টেম্বার, ২০২৬, ১১:৪১ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
বিশেষ প্রতিনিধি
গণপূর্ত অধিদপ্তরের ইলেকট্রিক্যাল-মেকানিক্যাল (ই-এম) বিভাগ-৫-এর নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ তামজিদ হোসেনের বিরুদ্ধে দপ্তরে নিয়ম বহির্ভূত কাজ, অনিয়ম, অবৈধভাবে অর্থ ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে।
বিগত পতিতো আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে নিয়োগ প্রাপ্ত হয়ে ২০১৩ সালে গণপূর্ত অধিদপ্তরে যোগদানের পর থেকে বিগত ১৩ বছরে ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিনি বিপুল অবৈধ সম্পদের মালিক হয়েছেন বলে অনুসন্ধানে জানা গেছে।
অভিযোগ রয়েছে, নির্বাহী প্রকৌশলী তামজিদ হোসেন বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ পুরোপুরি শেষ না করেই ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরি করে সরকারি অর্থ ছাড় করেছেন। এছাড়াও, পছন্দের ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দেওয়ার বিনিময়ে একটি নির্দিষ্ট হারে উৎকোচ বা ‘পার্সেন্টেজ’ গ্রহণ করতেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন কর্মকর্তা ও দপ্তরের কয়েকজন ঠিকাদার আমাদের অনুসন্ধানি টিমের কাছে সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। দরপত্র (টেন্ডার) প্রক্রিয়ায় নানা অনিয়ম ও কারচুপির মাধ্যমে তিনি বিপুল অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন।
গত ২২ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান বরাবর নির্বাহী প্রকৌশলী তামজিদ হোসেনের অনিয়ম ও দুর্নীতির ফিরিস্তি তুলে ধরে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন বাকী বিল্লাহ নামের এক ব্যক্তি।
শুধু আর্থিক দুর্নীতিই নয়, এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অত্যন্ত গুরুতর নৈতিক স্খলনের অভিযোগও পাওয়া গেছে। গৃহকর্মী সুফিয়াকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠার পর ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে এবং আইনগত জটিলতা এড়াতে তিনি ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী দিয়ে সুফিয়াও তার পরিবার কে প্রান নাশের হুমকি ও অবৈধভাবে উপার্জিত অর্থের বিনিময়ে ধর্ষন মামলা ধামাচাপা দিতে বল প্রয়গ করছেন।
চাকরি জীবনের মাত্র ১৩ বছরে সৈয়দ তামজিদ হোসেন নামে-বেনামে বিপুল পরিমাণ স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ অর্জন করেছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি সম্পদ।
ধানমন্ডি ২৭/১ (রবীন্দ্র সরোবর ৮ নম্বর ব্রিজের ঢালে) একটি বহুতল ভবনে আনুমানিক ৫ কোটি টাকা মূল্যের ৩৫০০ বর্গফুটের একটি রাজকীয় ফ্ল্যাট ক্রয় করেছেন তিনি।
মোহাম্মদপুর ২৭/১, পিসি কালচার হাউজিং সোসাইটির টেক রোড নম্বর ৭-এ শ্বশুর মোঃ জাহিদ মিয়ার সাথে যৌথ মালিকানায় একটি ৭ তলা বহুতল ভবন নির্মাণ করেছেন।
যার বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ৮ কোটি টাকা।রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন এলাকায় নিজ নামে ও বেনামে প্রায় ৩০ একর জমি ক্রয় করার তথ্য পাওয়া গেছে।
এসব দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও অপরাধের ব্যাপারে বক্তব্য জানতে গণপূর্ত অধিদপ্তরের ই-এম বিভাগ-৫-এর নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ তামজিদ হোসেনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত ও
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান বরাবর দেওয়া অভিযোগ ও অনিয়মের বিরুদ্ধে তদন্ত করলেই সকল অবৈধ ভাবে অর্জিত সম্পদের সত্য তা নিশ্চিত করে আইন অনুযায়ী ব্যাবস্থা করার অনুরোধ করছি। পরবর্তীতে ধারাবাহিক ভাবে নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ তামজিদ হোসেন এর দূর্নীতি ও সকল অনিয়ম এর পর্ব থাকবে।
মন্তব্য করুন