প্রকাশিত: ১ ঘন্টা আগে, ১১:৩২ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
বিজনেস ফাইল ডেস্ক
বাংলাদেশের জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী জেমসের ইতালি সফর ও কনসার্ট আয়োজনকে কেন্দ্র করে তার ম্যানেজার রবিনের বিরুদ্ধে প্রতারণা, অর্থ আত্মসাত, হিসাব না দেওয়া এবং অর্থ স্থানান্তরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ২১ আগস্ট ২০২৬ ইতালিয়ান পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
অভিযোগের সূত্রে জানা যায়, জেমসের ইতালি সফরের অংশ হিসেবে রোম ও ভেনিসে দুটি কনসার্ট আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। রোমে ১৬ আগস্ট এবং ভেনিসে ২২ আগস্ট অনুষ্ঠান আয়োজনের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছিল। এ জন্য ভেন্যু বুকিং, প্রচারণা ও টিকিট বিক্রিসহ বিভিন্ন কার্যক্রম শুরু হয়।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কনসার্ট আয়োজনের বিষয়ে জেমসের ম্যানেজার রবিনের সঙ্গে আর্থিক চুক্তি হয় এবং অগ্রিম অর্থ দেওয়ার বিষয়েও সমঝোতা ছিল। পরবর্তীতে ভেনিসের অনুষ্ঠান অন্য একটি পক্ষকে দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি এবং রোমের অনুষ্ঠান নিয়েও জটিলতা তৈরি হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
রোমের ১৬ আগস্টের কনসার্টকে ঘিরে অভিযোগ আরও গুরুতর আকার নেয়। অভিযোগ রয়েছে, অনুষ্ঠান চলাকালে টিকিট বিক্রির অর্থ ম্যানেজার রবিনের পক্ষ থেকে সংগ্রহ করা হয়। এ নিয়ে আয়োজকদের সঙ্গে বিরোধ তৈরি হয়। বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ করলে জেমসকে মঞ্চে উঠতে দেওয়া হবে না বলেও চাপ দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া আয়োজকদের মাধ্যমে ভিআইপি টিকিট বিক্রি করা হলেও চুক্তি অনুযায়ী জেমসের সঙ্গে ডিনারের যে আয়োজন থাকার কথা ছিল, সেটি নিয়েও অভিযোগ উঠেছে। আয়োজকদের অভিযোগ, চুক্তির শর্ত অনুযায়ী ডিনারের কথা থাকলেও জেমস পরে টিকিট না কাটা বাইরের কয়েকজন ব্যক্তির সঙ্গে আয়োজকদের না জানিয়েই ডিনারে অংশ নেন। একই ধরনের ঘটনা পর্তুগালেও ঘটেছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
কনসার্ট শেষ হওয়ার পর আয়-ব্যয়ের হিসাব চাওয়া হলেও তা দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। এ নিয়ে আয়োজক পক্ষ ইতালিয়ান পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে এবং লিখিত অভিযোগ দায়ের করে।
ঘটনার পর ১৯ আগস্ট সকালে জেমসসহ তার পুরো টিম কাউকে না জানিয়ে হোটেল ছেড়ে চলে যায় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। পরে আয়োজক পক্ষ হোটেলে গিয়ে বিষয়টি জানতে পারে।
এদিকে কনসার্টের অর্থের একটি অংশ হুন্ডির মাধ্যমে বাংলাদেশে পাঠানোর অভিযোগও পুলিশের কাছে তুলে ধরা হয়েছে। এর পরিমাণ প্রায় ৫০ লাখ টাকা বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে অর্থ স্থানান্তরের এ অভিযোগের পক্ষে কোনো নথি বা প্রামাণ্য তথ্য এখনো প্রকাশ্যে আসেনি। ফলে বিষয়টি সত্য কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
অভিযোগকারী পক্ষের সঙ্গে জেমসের সরাসরি কথোপকথনের বিষয়েও তথ্য পাওয়া গেছে। সেখানে জেমস ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত নন বলে জানিয়ে ম্যানেজার রবিনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন—এমন দাবি করা হয়েছে।
শুধু ইতালি নয়, পর্তুগালেও জেমসের কনসার্ট আয়োজনকে কেন্দ্র করে একই ধরনের জটিলতার অভিযোগ উঠেছে। সেখানে চুক্তি অনুযায়ী অনুষ্ঠান আয়োজন ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিরোধ তৈরি হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে পর্তুগালের আয়োজক পক্ষ থেকেও জেমসের ম্যানেজারের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে একটি ভিডিও বার্তা পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
জেমসের ম্যানেজার রবিনের বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি। একইভাবে জেমসের পক্ষ থেকেও অভিযোগগুলোর বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেওয়া হয়নি।
ইতালিয়ান পুলিশের কাছে দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্তে অভিযোগগুলোর সত্যতা, কনসার্টের আয়-ব্যয়ের প্রকৃত হিসাব এবং অর্থ স্থানান্তরের অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য বেরিয়ে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ঘটনাটি ঘিরে এখন মূল প্রশ্ন—জেমসের ইতালি কনসার্টের আয়-ব্যয়ের প্রকৃত হিসাব কোথায় এবং ম্যানেজার রবিনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর পেছনে প্রকৃত ঘটনা কী?
মন্তব্য করুন