প্রকাশিত: ৭ ঘন্টা আগে, ০১:১৬ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
বিজনেস ফাইল ডেস্ক
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ব্রিকস সম্মেলনে যোগ না দেওয়ায় ভারতীয় কোম্পানি আদানি গ্রুপ বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখার সময় তিনি এই দাবি করেন। রিজভী বলেন, একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমান ব্রিকস সম্মেলনে না গিয়ে মূলত দেশের সম্মান ও গৌরব বৃদ্ধি করেছেন।
ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণ না করার পেছনের কারণ ব্যাখ্যা করে বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, ভারত তারেক রহমানকে স্বাধীন দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে যথাযথ মর্যাদায় ওই সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানায়নি। একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের সরকারপ্রধান হিসেবে তিনি সেখানে গিয়ে কেবল সাইডলাইনে বসে থাকবেন, এমনটা কখনোই হতে পারে না। এই সম্মেলনে যোগ না দেওয়ার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের মানুষের আত্মমর্যাদা সমুন্নত রেখেছেন এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের শক্তিশালী অবস্থান স্পষ্টভাবে প্রদর্শন করেছেন।
আদানি পাওয়ার প্ল্যান্টের বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধের ঘটনাটিকে ব্রিকস সম্মেলনে না যাওয়ার সরাসরি প্রতিক্রিয়া হিসেবে আখ্যায়িত করেন রিজভী। তিনি বলেন, ভারতের ঝাড়খণ্ডে অবস্থিত আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বাংলাদেশে এক হাজার ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়, যার সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বা সুইচ তাদের হাতেই রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী যখন আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দিলেন যে তিনি ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন না, ঠিক তার পরপরই আদানি গ্রুপ ঘোষণা দেয় তাদের একটি ইউনিট নষ্ট হয়ে গেছে। এই আকস্মিক যান্ত্রিক ত্রুটির দাবিটিকে একটি পূর্বপরিকল্পিত অজুহাত হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
বিদ্যুৎ বন্ধের এই পুরো প্রক্রিয়াটিকে একটি সুকৌশলী পদক্ষেপ হিসেবে ইঙ্গিত করে রিজভী সাধারণ মানুষের উদ্দেশে প্রশ্ন রাখেন, ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর না যাওয়ার কারণেই যে আদানি গ্রুপ বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছিল, এই সহজ সমীকরণটি বুঝতে কি ব্যারিস্টারি পাস করতে হয়? বক্তব্যের শেষাংশে তিনি দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে দেশবাসীকে সতর্ক করে বলেন, একটি বিশেষ গোষ্ঠী প্রতিনিয়ত ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে, যারা দেশটিকে আবারও স্বাধীনতার পূর্ববর্তী দাসত্বের যুগে ফিরিয়ে নিতে চায়। তবে দেশের মানুষ ও সরকার সম্মিলিতভাবে এই ধরনের যেকোনো চক্রান্ত রুখে দিতে প্রস্তুত রয়েছে।
মন্তব্য করুন